ভোটের আগে বাংলায় প্রতিবারই বিরোধীরা নানা ধরনের অপপ্রচার চালান। তাতে ভোটারদের মধ্যে তুমুল বিভ্রান্তি ছড়ায়। কিন্তু সেটা সাময়িক। কারণ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সবসময়ই রাজ্যবাসীর পাশে আছেন, আর থাকবেনও। বাংলার মানুষের জন্য তিনি আগেও লড়াই করেছেন আর পরবর্তীতেও করবেন। তাই, রাজ্যবাসী যেন কোনওমতেই এই ধরনের কুৎসা, অপপ্রচারে কান না দেন। ঠিক এই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই তৈরি হয়েছে একটি বিশেষ ডকু ফিচার। 'দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ ব্যানার্জি' (The Untold Story of Banerjee)। সময়সীমা ২৫ মিনিট। তথ্যচিত্রটির টিজার লঞ্চ হতে চলেছে আজ, বিকেল চারটের সময়। কলকাতা প্রেস ক্লাবে। আর কে এন্টারটেনমেন্টের ব্যানারে প্রস্তুত ডকু ফিচারটির প্রযোজনা করেছেন জুনেইদ খান। ছবিতে তিনি অভিনয়ও করেছেন। ছবির কনসেপ্ট, স্ক্রিপ্টও তাঁর। পরিচালনায় রাহুল সাহা। শুটিং এখনও চলছে। রমজানের কারণে কিছুদিন বন্ধ রয়েছে।
জুনেইদের কথায়, ছবিতে মুখ্যমন্ত্রীর আন্দোলন, তাঁর অনশন-সহ ইতিহাসের বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মূলত ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময়কালকে দেখানো হয়েছে। ১৯৯৩ সালে 'দিদি'র আন্দোলন থেকে শুরু করে রাজ্য-রাজনীতিতে যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান, দলের হয়ে তাঁর মাঠে নামা-এই সব কিছুই ছবিতে দেখানো হয়েছে। আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য জুনেইদ জানালেন, "অনেকেই জানেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের সূচনা-পর্বের সময় থেকেই অভিষেক তাঁর ছায়াসঙ্গী। অনেক ছোটবেলা থেকেই। একটা ছোট পতাকা হাতে নিয়ে অভিষেক ঘুরে বেড়াতেন আর আন্দোলন করতেন। মাত্র চার বছর বয়স থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ছাব্বিশের নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি বিরোধীরা অনেক রকমের আক্রমণ করে চলেছেন। কাজেই আমি ছবিতে দেখাতে চাই, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার মানুষের পাশে কীভাবে আছে। দলের একজন কর্মী হিসাবে এটা আমার উপহার। একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার প্রয়াস, বলতে পারেন।" এর আগে জুনেইদ গানের অ্যালবামও প্রকাশ করেছেন, 'জয় বাংলা'। উল্লেখ্য, ছবিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড়বেলার চরিত্রে অভিনয় করছেন জুনেইদ নিজেই। বাকি শিল্পীদের অডিশনের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ছবির শুটিং হয়েছে নানা জায়গায়। নদিয়ার পলাশিপাড়া তার মধ্যে অন্যতম। 'শিবা দ্য বস', 'স্ট্রাগল' (হিন্দি ছবি), 'বেইমান'- এর মতো একাধিক বাণিজ্যিক ছবির অভিনেতা জুনেইদের একটি সোশ্যাল মিডিয়া টিম রয়েছে। জয় হিন্দ, জয় বাংলা (২০২১)। তৎকালীন রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় প্রেস ক্লাবে লঞ্চ করেছিলেন। এছাড়াও প্রতিবারই ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে গান তৈরি করেন তিনি। যুবনেতা অভিষেককে নিয়ে তাঁর শেষ গান ছিল, 'আসছে বস'। জুনেইদের কথায়, "আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আমার আবেগ। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার আইডল। একবার গানের অ্যালবাম তৈরি করতে নিজের সোনার ব্রেসলেট বিক্রি করে দিয়েছিলাম। এবারও ডকু-ফিচার বানাতে পঞ্চান্নগ্রামের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়েছি।" এত কিছু করার একটাই লক্ষ্য। আর সেটি হল, "আমি মুখ্যমন্ত্রীর ত্যাগকে সম্মান করতে চাই। তিনি ক্রমাগত বিরোধীদের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন শুধুমাত্র রাজ্যবাসীর স্বার্থে। সেই সত্যটাকে আমি প্রত্যেকটা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। এখন চারপাশে অনেক কিছু ঘটছে। ঘটানো হচ্ছে। অথচ ভোটের পর ভোট চলে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী যে গণতান্ত্রিকভাবে মানুষের পাশে আছেন, মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন-সেই বার্তা দিতে চাই। কারণ শেষপর্যন্ত তিনি বাংলার মানুষের জন্য লড়ে চলেছেন। তাই বাংলার মানুষ যেন তাঁর বিরুদ্ধে না যান।"
