shono
Advertisement

Breaking News

ফিরে দেখা ২০২১: এ বছর দর্শকদের হতাশ করল এই ১০ সিনেমা ও সিরিজ

দেখুন তো আপনি একমত কিনা!
Posted: 07:48 PM Dec 31, 2021Updated: 03:22 PM Jan 01, 2022

এ বছর খারাপ সিরিজ ও সিনেমার তালিকা বেশ লম্বা। কোনগুলি সবচেয়ে বেশি খারাপ, তা বাছাটাই ছিল কঠিন কাজ। তবুও সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল বেছে নিল ১০টি খারাপ সিনেমা ও সিরিজ। দেখুন তো আপনি একমত কিনা!

Advertisement

 

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি

ভাগ্যিস রবীন্দ্রনাথ খেতে আসেননি! কারণ, না খেতে এসেই যা গন্ডগোল বাঁধালেন, খেতে এলে যে কী হত, তা খোদ রবীন্দ্রনাথই জানেন! বাংলাদেশের উপন্য়াস থেকে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্য়ায় বানালেন সিরিজ ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি!’ সৃজিত ওপার বাংলা থেকে নিয়ে এলেন নতুন অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধনকে। নরখাদকের গল্পে সৃজিত যখন, তখন টেনে আনলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত। দুর্বল অভিনয়, দুর্বল স্ক্রিপ্টে একেবারে ভরাডুবি সৃজিতের সিরিজ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সৃজিতের রবীন্দ্রনাথ নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক। কিন্তু রবিঠাকুর কেন এই সিরিজে এক ঝলক এলেন ও চলেও গেলেন, তা এখনও রহস্য!

মোহমায়া টু

প্রথম সিজনে আশা জাগিয়ে, দ্বিতীয় সিজনে একেবারেই ভরাডুবি। ভরপুর যৌনতা, ডার্ক থ্রিলার কায়দায় গল্প বলেও পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্য়ায় শতচেষ্টাতেও জমাতে পারলেন মোহমায়া ২। ফলে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও অনন্য়া চট্টোপাধ্যায়ের মতো দুরন্ত অভিনেত্রীদের নিয়েও মোহমায়া ২ দর্শকদের আশাপূরণ করতে পারল না। মাঝারি মানের এক ওয়েব সিরিজ হয়েই রয়ে গেল মোহমায়া!

 

 

দু’জনে

স্টার দিয়ে কি আর মন জেতা যায়? না, হালফিলের ওয়েব সিরিজ কিন্তু একেবারেই তারকাপ্রথায় বিশ্বাসী নয়। বরং গল্পই শেষ কথা। গল্পের বাঁধন হালকা হলেই সিরিজ থেকে চোখ সরে যায়। তাই তো দেশি-বিদেশি যে সিরিজই দেখুন না কেন, গল্পই সেখানে একমাত্র স্টার! ‘দুজনে’র ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা একেবারেই খেটে যায়। এখানে সিনেমার মারাকাটারি জুটি সোহম-শ্রাবন্তীকে নিয়ে এসে, সিনেমা থেকে ‘দুজনে’ নামটি ধার করে একটা চমক দিতে চেয়েছিলেন পরিচালক প্রমিতা ভট্টাচার্য। কিন্তু গল্পের সঙ্গে এই জুটির তাল না মেলায়, সিরিজ হয়ে পড়ল মধ্যমানের। থ্রিলার তৈরি করতে গিয়ে পরিচালক নিয়ে এলেন মেলোড্রামা। তাই শুধু ‘ও মাই লাভ’ গান শুনেই এই সিরিজ দেখা বন্ধ রাখতে হয়!

বান্টি অউর বাবলি

সিরিজ বলুন বা সিনেমা। নাম্বার ২তে এসেই গন্ডগোল। এই যেমন ২০০৫-এর বক্স অফিস হিট ‘বান্টি অউর বাবলি’ ফের এল ২০২১-এ। দর্শক ভাবল, দুর্দান্ত কিছু ঘটবে। অভিষেক বচ্চনের জায়গায় এলেন সইফ আলি খান। এলেন নতুন জুটি সিদ্ধান্ত-শর্বরী। কামব্যাক করলেন রানি মুখোপাধ্যায়। তবে দুর্বল গল্পে এসব রদবদল ফেরাতে পারল না পুরনো বান্টি বাবলি ম্যাজিক। ফলে ছবি ডুবল।

রাধে

রাখে সলমন তো মারে কে! বেশ কয়েক বছর ধরে বক্স অফিসে এমনই এক ম্যাজিক তৈরি করেছিলেন সলমন। যে ছবিই করছিলেন, তাই সুপারডুপার হিট। কিন্তু ২০২১-এ সলমনের সেই ম্য়াজিক আর চলল না। উদ্ভট গল্পে সওয়ার হয়ে সলমনও তাঁর এতদিনের মান খোয়ালেন। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ল সলমনের রাধে। ওটিটি ও সিনেমা হলে একসঙ্গে মুক্তি পেয়েও রাধের কপালে জুটল কাঁচকলা। শোনা যায়, সলমনের জীবনের সবচেয়ে বড় ফ্লপ ছবিই হল রাধে: ইওর মোস্ট ওয়ান্টেড ভাই!

 

বেলবটম
আগস্ট মাসে সিনেমা হল খুলতেই মুক্তি পেল অক্ষয়ের বেলবটম। বক্স অফিসে রীতিমতো ত্রাতা হয়ে এলেন অক্ষয়। বলিউডের ভাঁড়ারে লক্ষ্মী এলেও, বেলবটম ছবি কিন্তু সমালোচকদের মন ভরাল না। তাই প্রথম প্রথম অক্ষয়ের জাদুতে দর্শক মগ্ন হলেও, নেশা কাটতেই চোখের সামনে স্পষ্ট। অক্ষয়ের বেলবটম মধ্যমানের ছবি ছাড়া আর কিছুই নয়। শুধুই বক্স অফিসে টিকে থাকার ট্রিক। তাও অবশ্য বেশিদিন ধরে রাখতে পারলেন না বলিউডের খিলাড়ি কুমার।

বব বিশ্বাস

বব বিশ্বাসকে নিয়ে ছবি আর শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় নেই! প্রথমেই ঝটকা লেগেছিল দর্শকদের। সেই ঝটকা সামলে, ছবিটা দেখলেও, অভিষেকের অভিনয় ও ছবির গল্প হতাশ করল দর্শকদের। ফলে বব বিশ্বাস নিয়ে উন্মাদনা মুক্তির তিন দিনের মধ্যেই গায়েব!

হাঙ্গামা টু

২০০৩ সালে অক্ষয় খান্না, রিমি সেন, পরেশ রাওয়ালকে নিয়ে পরিচালক প্রিয়দর্শন বানিয়ে ছিলেন ‘হাঙ্গামা’। সেই ছবি এখনও বারবার দেখা যায়। কারণ, পুরনো ‘হাঙ্গামা’র বুননটাই ছিল তেমন। কিন্তু নতুন ‘হাঙ্গামা’তেই প্রিয়দর্শন গল্পের বাঁধনকে করলেন ঢিলে। ফলাফল এই ছবি জাস্ট চোখে দেখা যায় না। এমনকী, শিল্পা শেট্টি, পরেশ রাওয়াল মিলেও এই ছবিতে কোনও হাঙ্গামা ঘটাতে পারলেন না। চুরা কে দিল মেরার রিমিক্সই এই ছবির একমাত্র প্রাপ্তি।

দ্য এম্পায়ার

‘দ্য এম্পায়ার’ সিরিজটি অ্যালেক্স রাদারফোর্ডের লেখা ‘এম্পায়ার অফ দ্য মুঘল’ বইটি থেকে অনুপ্রাণিত। যেখানে মূলত ফোকাস করা হয়েছে বাবরের শাসনকাল। শুরুটা অবশ্য ১৪ বছর বয়সের বাবরকে দেখিয়েই। দ্য এম্পায়ার’ এমন একটি সিরিজ যা দেখতে ভীষণ ভালো, কিন্তু অন্তঃসারশূন্য। চিত্রনাট্যে ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা, বাবর চরিত্রকে লার্জার দ্যান লাইফ হিসেবে দেখানো, যা সিরিজকে বড্ড বেশি দুর্বল করে তোলে। প্রত্যেক এপিসোডেই যেন বার বার ঘুরে আসছিল একই বক্তব্য। তাই দিনো মরিয়া, শাবানা আজমি, কুণাল কাপুরের অভিনয়ও বাঁচাতে পারল না এই সিরিজকে। চিত্রনাট্যে আরেকটু খাটতে পারতেন পরিচালক মিতাক্ষরা কুমার (Mitakshara Kumar)।

ভুজ

অজয় দেবগন, সঞ্জয় দত্ত, শরদ কেলকর। বড় বড় সব নাম। কিন্তু দুর্বল চিত্রনাট্যের ফাঁদে পড়ে বড্ড অসহায়। এমনকী, ভারত-পাক যুদ্ধকে টেনে দেশাত্মবোধক আবেগও জাগাতে পারলেন না পরিচালক অভিষেক দুধাইয়া। শোনা যায় প্রায় ২ বছর ধরে লেখা হয়েছিল এই ছবির চিত্রনাট্য়। তারপরেই এই অবস্থা! এই ছবি নিয়ে তো সমালোচকরা কোনও শব্দ খরচ করতে চান না।

এছাড়াও, লুসিফার সিজন ৬, হাসিন দিলরুবা, টেম্পল অ্য়াটাক, অনকহি কাহানিয়া, প্রথমদিকে হইচই ফেললেও, শেষমেশ দর্শকদের হতাশই করে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement