টলিউডে ফের নক্ষত্রপতন। ইহলোক ছেড়ে অমৃতলোকের পথে পাড়ি বর্ষীয়ান অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী। জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যে ঘুমঘোরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। তাঁর প্রয়াণে টলিপাড়ায় নেমেছে শোকের ছায়া। বিকেলে চারটেয় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হবে অভিনেতার মরদেহ। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন সহকর্মীরা। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে হবে শেষকৃত্য।
পুত্র, পুত্রবধূ ও কন্যা নিয়ে সংসার অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী। জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে নিজের ঘরেই ঘুমোচ্ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। সাধারণত তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। তবে ঘুম থেকে না ওঠায় পরিচারিকার সন্দেহ হয়। তাঁকে ডাকাডাকি করেন। কোনও সাড়াশব্দ পাননি। তড়িঘড়ি চিকিৎসককে ডাকা হয়। তিনি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান, ভোররাতের দিকেই প্রয়াত হন অভিনেতা। ঘুমের মধ্যে হৃদরোগের জেরে তাঁর প্রাণহানি বলেই চিকিৎসক জানিয়েছেন। সোমবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় দুঃসংবাদ জানান অভিনেতা দেবদূত ঘোষ। তিনি লেখেন, "আজ ভোরে ঘুমের মধ্যে কোনও কষ্ট না পেয়ে চলে গেলেন আমাদের সকলের প্রিয় অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী।"
পরিবার সূত্রে খবর, পেসমেকার বসানো হয়েছিল অভিনেতার। দিনকয়েক ধরে শারীরিক নানা অসুস্থতার ভুগছিলেন তিনি। সে কারণে খুব একটা তাঁকে পর্দায় দেখা যায়নি। সিনেমা, ধারাবাহিক কিংবা নাটকের মঞ্চে দেখা যাচ্ছিল না। তবে এমন দুঃসংবাদে যেন টলিপাড়ায় নেমে এসেছে বিষন্নতা। চোখে জল বিনোদুনিয়ার প্রায় সকলের। অভিনয়ই ছিল তমাল রায়চৌধুরীর ধ্যানজ্ঞান। দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ার সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা। একাধিক ধারাবাহিকে কাজ করেছেন। থিয়েটার জগতের দাপুটে অভিনেতা। গত কয়েক বছরে একাধিক ছবিতেও কাজ করেছেন। 'চিরদিনই তুমি যে আমার', 'চ্যালেঞ্জ', 'জাতিশ্বর', 'রামধনু', 'চাঁদের পাহাড়', 'অ্যামাজন অভিযান'-এর মতো বাংলা ছবিতেও কাজ করেছেন তমাল রায়চৌধুরী। শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছে তথাগত মুখোপাধ্যায়ের 'ভটভটি' ছবিতে। নেগেটিভ এবং পজিটিভ - উভয় চরিত্রেই অভিনয় করেছেন তিনি। দর্শকদের কাছ থেকে দুই ক্ষেত্রে সমান প্রশংসা পেয়েছেন অভিনেতা। তাঁর প্রয়াণে চোখে জল অনুরাগীদেরও। আত্মার শান্তি কামনা করেছেন সকলেই।
