সংবাদ প্রতিদিন ডিজিয়াল ডেস্ক: শিল্পের স্বাধীনতা নিয়ে এবার সরব হল টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া। সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘পদ্মাবতী’কে যেভাবে বিনা কারণে দিনের পর দিন ক্ষতবিক্ষত হতে হচ্ছে তার বিরুদ্ধে এবার মুখ খুলল টলিউড। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ‘ব্ল্যাকআউট’-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই দিন বেলা বারোটা থেকে বারোটা পনেরো মিনিট পর্যন্ত স্টুডিও পাড়ার সমস্ত জায়গায় শুটিং সহ অন্যান্য কাজ বন্ধ রাখা হবে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক গৌতম ঘোষ ও প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা।
[‘পদ্মাবতী’ বিতর্কে নয়া মোড়, শূর্পণখার মতো মমতার নাক কাটার হুমকি বিজেপি নেতার]
এদিন সংবাদিক বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের একহাত নেন তাঁরা। পরিচালক গৌতম ঘোষ জানান, একটি ছবি নিয়ে যা হচ্ছে তা কোনওমতেই কাম্য নয়। ছবি না দেখেই কিছু মানুষ বিক্ষোভের নামে তাণ্ডব করছেন। এমন চলতে থাকলে তো সিনেমাই তৈরি করা যাবে না। তাই এর প্রতিবাদে শামিল হতেই এই ব্ল্যাকআউট-এর ঘোষণা করা হয়েছে। সমালোচকদের একহাত নেন বুম্বাদাও। ছবি না দেখেই কীভাবে কিছু লোক এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাচ্ছে? ছবির ভালমন্দ দেখার জন্য এ দেশে সেন্সর বোর্ড তো রয়েছে। নায়ক নায়িকার বিরুদ্ধে যেভাবে কুরুচিকর আক্রমণ করা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধেও ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিনেতা। সোচ্চার হন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা প্রয়োগ নিয়েও। অভিনেতা-অভিনেত্রী তো বটেই মুখ্যমন্ত্রীর মতো জনপ্রতিনিধির পদেরও একটা সম্মান রয়েছে। সেই সম্মানের মূল্য সকলেরই দেওয়া উচিত। যা হচ্ছে তা নিম্নমানের রুচির পরিচয়। এর বিরুদ্ধে বাংলার শিল্পীরা এভাবে প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানান তিনি। এও বলেন, আঞ্চলিক হলেও বাংলা সিনেমার সারা বিশ্বে কদর রয়েছে। এবং তা ভারতীয় সিনেমারও অন্যতম অঙ্গ। তাই এখন ‘পদ্মাবতী’র পাশে দাঁড়ানো টলিউডের কর্তব্য। একই সুর শোনা যায় প্রযোজক তথা ইমপার সভাপতি শ্রীকান্ত মোহতার কণ্ঠে। যেভাবে শিল্পীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। আর মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট এই ছবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। উত্তরপ্রদেশ বিশৃঙ্খলার অজুহাত দেখিয়েছে। ইতিহাস বিকৃতির দায় দিয়েছে পাঞ্জাব। হরিয়ানা সিবিএফসিকে শিখণ্ডীর মতো ব্যবহার করিয়েছে ছবি মুক্তির মাঝে। কিন্তু মুক্তমঞ্চে সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘পদ্মাবতী’কে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান, অন্য রাজ্য যদি ছবি মুক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ছবির টিম নিশ্চিন্তে বাংলায় চলে আসতে পারে। এখানে ছবি মুক্তির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও জানান, ক্রীড়া ও শিল্পের কোনও জাত হয় না। তা ভৌগলিক সীমারেখাতেও আবদ্ধ থাকে না।
[অন্য রাজ্য ছবি নিষিদ্ধ করলে বাংলায় আসুন, ‘পদ্মাবতী’কে স্বাগত মুখ্যমন্ত্রীর]
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস যেন বিক্ষোভকারীদের বিরোধিতায় ঘৃতাহুতি দেয়। হরিয়ানার বিজেপি নেতা সুরজ পাল আমুই বলেন, ‘রাক্ষসী প্রবৃত্তির যেসমস্ত মহিলা হয়, যেমন শূর্পণখা। নাক কেটে তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন লক্ষ্মণ। মমতাজি এই কথাটা যেন না ভোলেন।’ উল্লেখ্য, অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের মুণ্ডচ্ছেদে ৫ কোটি টাকার ইনাম ঘোষণা করেন এই বিজেপি নেতা। তার পরের দিনই তাঁর কাছে কৈফিয়ত চায় দল। কিন্তু ক্ষমা চাওয়া তো দূর, ইনাম দ্বিগুণ করে দেন সুরজ পাল। মঙ্গলবার তিনি আবার বলেন, কোনও মূল্যেই ‘পদ্মাবতী’কে মুক্তি পেতে দেবেন না তিনি। এতে দলের কোনও কথাই তিনি শুনবেন না। কারণ এটা জাতের প্রশ্ন, দলের নয়।
বিতর্কে চলচ্চিত্র মহলকে পাশে পেয়েছেন সঞ্জয় লীলা বনশালি ও তাঁর টিম। শেখর কাপুর, শোভা দে, জাভেদ আখতার, একতা কাপুর থেকে অর্জুন কাপুর, আলিয়া ভাট সকলেই ছবির হয়ে সওয়াল করেছেন। রবিবারই গোটা মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র জগত ১৫ মিনিটের ব্ল্যাকআউট পালন করেছিল। বলিউডের কোথাও শুটিং হয়নি সেই সময়ে। মঙ্গলবার তাই করতে চলেছে টলিউড। শিল্পীর স্বাধীনতার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।
ছবি- অরিজিৎ সাহা
[‘পদ্মাবতী’র সমর্থনে এবার ব্ল্যাকআউটের ডাক মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র মহলের]
The post ‘পদ্মাবতী’র পাশে টলিউড, মঙ্গলবার ১৫ মিনিটের ‘ব্ল্যাকআউট’-এর ঘোষণা appeared first on Sangbad Pratidin.
