চুম্বন কাণ্ডের জেরে একবছর আগে এই ফেব্রুয়ারি মাসেই মহাবিতর্কে জড়িয়েছিলেন উদিত নারায়ণ। এবার গায়কের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রথম স্ত্রী রঞ্জনা নারায়ণ ঝা। তবে শুধু উদিতই নন, তাঁর বর্তমান স্ত্রী দীপা নারায়ণ এবং দুই দাদার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করেছেন রঞ্জনা। গায়কের প্রথমা পত্নীর অভিযোগ, চিকিৎসার নাম করে তাঁর জরায়ু বাদ দেওয়া হয়েছে। আর সেই ষড়যন্ত্র কষেছেন খোদ তাঁর স্বামী উদিত নারায়ণ।
২০০৬ সালে যখন মুম্বইতে গিয়েছিলাম, তখন উদিত এবং ওর বর্তমান স্ত্রী দীপা আমাকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। আমার উপর নির্যাতনও চালানো হয় সেসময়ে। এরপর নেপালে শ্বশুরবাড়িতে গেলেও আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
খবর, বিহারের সুপল জেলার মহিলা থানায় ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ দায়ের করেছেন রঞ্জনা নারায়ণ ঝা। ১৯৮৪ সালের ডিসেম্বর মাসে উদিতের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন রঞ্জনা। কিন্তু পরের বছর ১৯৮৫ সালেই গায়ক তাঁকে রেখে মুম্বইতে চলে আসেন। শুধু তাই নয়, প্রথম স্ত্রীর অগোচরেই দীপাকে বিয়ে করেন। রঞ্জনার দাবি, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর তিনি মিডিয়ার মাধ্যমেই জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু উদিতের মুখোমুখি হয়ে সেপ্রসঙ্গ উল্লেখ করলে তিনি তাঁকে প্রথমটায় বিভ্রান্ত করেছিলেন। কিন্তু রঞ্জনার সবথেকে বড় অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে চিকিৎসার অজুহাতে তাকে দিল্লির একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেসময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন উদিত, তাঁর দুই ভাই সঞ্জয় কুমার ঝা, ললিত নারায়ণ ঝা এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী দীপা নারায়ণ। কিন্তু এতবছর বাদে কেন জরায়ু অপসারণের অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন উদিতের প্রথম স্ত্রী?
দ্বিতীয় স্ত্রী দীপার সঙ্গে উদিত নারায়ণ, ছবি- সোশাল মিডিয়া
এপ্রসঙ্গে রঞ্জনা নারায়ণ ঝা জানান, তাঁর শরীর থেকে যে জরায়ু বাদ পড়েছে, প্রথমটায় তিনি বুঝতেই পারেননি। তার কয়েক বছর পর চিকিৎসা করাতে গিয়ে ডাক্তারের মুখে জানতে পারেন যে তাঁর জরায়ুই নেই। রঞ্জনার মন্তব্য, "তার পর থেকেই আমি ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এইসময়ে আমার সাহায্যের প্রয়োজন। বহুবার উদিতের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ও কোনও উচ্চবাচ্যই করছে না। ২০০৬ সালে যখন মুম্বইতে গিয়েছিলাম, তখন উদিত এবং ওর বর্তমান স্ত্রী দীপা আমাকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। আমার উপর নির্যাতনও চালানো হয় সেসময়ে। এরপর নেপালে শ্বশুরবাড়িতে গেলেও আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। উদিত বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও এগিয়ে আসেনি। শেষমেশ আমি পুলিশের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হলাম।" জানা গিয়েছে, সেসময় থেকে রঞ্জনা বিহারে সুপলে নিজের বাবার বাড়িতেই থাকেন। সেই প্রেক্ষিতেই সেখানকার থানায় স্বামী উদিত নারায়ণের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
