shono
Advertisement
Vikram Chatterjee

'যাঁরা তারকাটা হয় তাঁদের জীবনে অনেক মজার গল্প থাকে', নতুন সিরিজ নিয়ে আড্ডায় বিক্রম

অভিনেতা থেকে প্রযোজক হিসাবে আত্মপ্রকাশের সময় একান্ত সাক্ষাৎকারে বিক্রম চট্টোপাধ্যায়।
Published By: Kasturi KunduPosted: 10:05 AM Jun 12, 2026Updated: 10:05 AM Jun 12, 2026

শমীক রায়চৌধুরি পরিচালিত 'তারকাটা'র মেন ইউএসপি কী?

Advertisement

এর প্রত্যেকটা চরিত্র তারকাটা। লার্জার দ্যান লাইফ। বাংলায় এরকম কাজ করার সুযোগ খুবই কম হয়। কমার্শিয়ালি মাউন্টেড, অ্যাকশন, ইমোশন, হিউমার সব মিলিয়ে-মিশিয়ে একটা ক্রেজি জয়রাইড।

বিক্রম চট্টোপাধ্যায় কতটা তারকাটা?

আমার চরিত্র 'অগ্নি' সব থেকে বড় তারকাটা। তবে বিক্রম একদমই তারকাটা নয়। আমি মানুষ হিসেবে খুবই বোরিং। যারা তারকাটা হয় তারা খুব এক্সাইটিং হয়। তাদের জীবনে অনেক মজার গল্প থাকে।

তারকাটারা বোরিং না ডিসিপ্লিনড?

যারা তারকাটা হয় তাদের মধ্যে থাকে ম্যাডনেস। তারা ব্লেসড। যারা ব্লেসড নয় তাদের ঘষামাজা করতে হয়, খাটতে হয়। ডিসিপ্লিনড হলে তারা কিছু অ্যাচিভ করতে পারে। আমি দ্বিতীয় ক্যাটেগরিতে পড়ি।

ট্যালেন্টেড নয় বলছেন?

আমি একদমই ট্যালেন্টেড নই। যেটুকু অ্যাচিভ করেছি, সেটা আমার হার্ডওয়ার্কের ফল।

অন্য প্রযোজনায় কাজ কম পাওয়ার কারণেই নিজের প্রযোজনা শুরু?

এই জার্নি অনেকদিন আগেই শুরু হয়েছিল। একজন প্রডিউসারের যা যা দায়িত্ব তার অনেকটাই আমি শিখতে শুরু করেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, এই দায়িত্বটা আমি কোনও একটা সময়ে নিতে চাই। এই মুহূর্তে আমরা বাংলায় যেরকম কাজ করছি সেরকম প্রযোজকদের অভাব। আমার প্রতিটা কাজই অন্যের প্রোডাকশনে। বাংলা জি ফাইভ-এ 'তারকাটা' আমার প্রথম নিজের প্রোডাকশনে কাজ। গত বছর আমার চারটে কাজ মুক্তি পেয়েছিল। কাজ কমাটা কারণ নয় তবে হ্যাঁ, নিজের মতো করে গল্প করতে পারা বা যে ভাবে আমি গল্প বলতে চাই যেগুলো হয়তো এই মুহূর্তে অন্য কোনও প্রডিউসার নাও বলতে পারেন। অভিনেতা হয়ে যদি প্রযোজকের অনেকটা দায়িত্ব সামলাতে হয় তাহলে মনে হয় নিজের কোম্পানি বা নিজের ব্যানারের জন্য করা ভালো।

যখন প্রযোজনায় এলেন তখন টলিউডের ব্যান কালচার, কাজে বাধা দেওয়ার প্রবণতা তীব্র ভাবে ছিল। তখন এই বিষয়গুলো ভাবায়নি?

অবশ্যই ভাবিয়েছিল। আমরা জানি যে, যে কোনও প্রযোজককেই অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু জীবনে চ্যালেঞ্জের জন্য কাজ বন্ধ হয়ে যাবে এটা তো হতে পারে না। এটা যেমন জীবনের ক্ষেত্রে সত্যি তেমনই কর্মজগতের ক্ষেত্রেও সত্যি। চ্যালেঞ্জ জেনেই। কাজ করতে এসেছিলাম। আশা করব আগের মতো সেরকম চ্যালেঞ্জ যেন ভবিষতে না থাকে। প্রযোজক হিসেবে পালাবদলের পর কাজ করা সহজ হবে। আমি আশাবাদী। নতুন সরকারের আমলে যে যে পরিবর্তনগুলো হচ্ছে সেখানে বাংলা সিনেমা, এবং অন্য ভাষার সিনেমার পশ্চিমবঙ্গে শুটিংয়ের ক্ষেত্রে পুরো পদ্ধতিটা আগের থেকে অনেক সহজ হবে, প্রোডাকশন ফ্রেন্ডলি হবে। সৃজনশীলতা বজায় থাকবে। যারা দীর্ঘদিন কথা বলতে ভয় পেয়েছে, আমিও তাদের মধ্যে পড়ি। কিছু বলতে গেলেই ব্যান করে দেবে। আমাদের সবার জীবনে পরিবার আছে, কাজ আছে। সেগুলোর উর্ধ্বে গিয়ে হাতেগোনা কয়েকজন মুখ খুলতে পেরেছেন। বাকিরা পারেননি। এই মুহূর্তে অনেকেই মুখ খুলছেন। আমি চাইব সেই পরিস্থিতি যেন আর কোনও দিন না হয়। সেগুলোর পুনরাবৃত্তি হলে বাংলা সিনেমা, সিরিজ, টেলিভিশন, সর্বোপরি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি হবে।

প্রোমোশনাল স্ট্র্যাটেজির কারণে হঠাৎ শোনা গিয়েছিল আপনি 'তারকাটা'-র প্রযোজনা থেকে সরে গিয়েছেন...

আমার সঙ্গে জি-এর ১৬ বছরের সম্পর্ক। আমি জি-এর সিরিয়াল ছাড়ার পর অশান্তি হয়েছে। আবার একসঙ্গে কাজ করেছি। আর যদি প্রেমোশনাল গিমিক হয়ে থাকে তাহলেও সেটা ভালো। কারণ সেটা নিয়ে যাঁরা জানতেন না, সেই মানুষেরা কৌতূহলী হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এত নাটক হচ্ছে, তার মধ্যেও আমাদের সিরিজের সম্পর্কে কিছু বাড়তি বা মানুষ জানতে পেরেছেন। আমি দু'দিক নিয়েই বলব, এটা পজিটিভ দিক।

রাজ্য রাজনীতির পরিস্থিতি ওয়েব সিরিজের উত্তেজনাকেও হার মানায়। অনেকেই বলছেন এটা নিয়েও সিরিজ হওয়া উচিত। আপনি এরকম কোনও সিরিজ বানাবেন?

আমি পিচ করে দেখতে পারি (হাসি)। আমার পলিটিক্যাল ড্রামা বানানোর খুবই ইচ্ছে রয়েছে। কিন্তু আমরা যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, সেখানে সমসাময়িক পলিটিক্যাল ড্রামা বানাতে পারব কি না জানি না। যা যা ঘটছে তা নিয়ে বানালে কমেডি, ডার্ক হিউমার থাকবে।

রোমান্টিক হিরোর জায়গা কমছে বলেই বলিউডি ট্রেন্ড মেনে অ্যাকশনে ফেরা?

না। আমার শিফটিংয়ের কারণ আমি 'পারিয়া' নামে একটি সিনেমা করেছিলাম। সেখানে এত ভালোবাসা পেয়েছিলাম যে তার আগে আমি জানতাম না অ্যাকশন হলে আমি ভালোবাসা পাব না রিজেক্টেড হব। আমি প্রেমের ছবি করেছি। পাশের বাড়ির ছেলের ইমেজেও অভিনয় করেছি। কিন্তু অ্যাকশন হিরে হিসাবে কতটা সফল হব সেই নিয়ে প্রযোজক, পরিচালকরা সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু 'পারিয়া'র পর 'মৃগয়া'-তেও দর্শক পছন্দ করেছেন। তাই 'তারকাটা' তৈরি হয়েছে। পার্সোনালি একদমই রোমান্টিক নই কিন্তু রোমান্টিক হিরো হতে ভালো লাগে।

রোমান্টিক নন? দর্শকের অভিযোগ বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে, প্রেম নিয়ে কিছু শোনা যায় না কেন?

সত্যিই আমি রোমান্টিক নই (হাসি)। একটা সময় পর্যন্ত আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত বেশি কাটাছেঁড়া হয়েছে তাই একটা সময়ের পরে আমার মনে হয়েছে এটা ভীষণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমার ব্যক্তিগত জীবনে আমি কাউকে ঢুকতে দিতে চাই না।

সেই জন্য মনের ঘরেও তালা লাগানো?

না, সেটা বলব না। যদি কাউকে পছন্দ হয়, অবশ্যই বলব। এই মুহূর্তে আমার এই বিষয়ে সত্যিই কিছু আপডেট দেওয়ার নেই।

বিপর্যয়ের মধ্যেও প্রিয়াংকা সিরিজের কাজ শেষ করেছেন। এই সময়েই রাহুল প্রয়াত হন। প্রযোজক হিসাবে কী প্রতিক্রিয়া?

একজন মানুষ তাঁর জীবনের সবথেকে বড় ক্ষতির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর কাজের প্রতি যে ডেডিকেশন দেখিয়েছেন তাকে কুর্নিশ। আমি প্রিয়াঙ্কার কাছে কৃতজ্ঞ। দুর্ঘটনার খবর শোনার পরেও কয়েকটা শট দিয়ে বেরিয়েছিল। আমার প্রিয়াঙ্কার থেকে অনেক কিছু শেখার বাকি আছে।

আপনার আগামী ছবি 'বাবা'র আপডেট কী? ১৯ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। সেই ছবির ডিরেক্টর এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। সিনেমার ক্ষেত্রে কতটা ক্ষতি করতে পারে?

এই মুহূর্তে মুক্তি পাচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে না। সেই ছবি নিয়ে চারিদিকে নানা কথা হচ্ছে। ছবিটিতে আমি শুধুমাত্র অভিনেতা হিসাবে যুক্ত। যে অভিযোগগুলো আসছে, সেগুলো নিয়ে প্রযোজকরা। কথা বলবেন। বাকি অভিনেতার যেমন মমতা শঙ্কর, অপরাজিতা আঢ্য, বিশ্বনাথ বসু, কাঞ্চন মল্লিক যে ভাবে কাজ করেছেন, আমিও সেই ভাবেই কাজ করেছি। চরিত্র ভালো লেগেছিল। পরিচালকের আগের কাজ ভালো লেগেছিল। তাই রাজি হয়েছিলাম।

ভবিষ্যতে কাজ করার আগে প্রযোজক সম্পর্কে সতর্ক হবেন?

আমি অভিনেতা। নতুন বা পুরনো কোনও প্রযোজকের কাছেই আমি তাদের ফান্ডিংয়ের সোর্স জানতে পারব না। এটা অভিনেতার দায়িত্ব নয়।
ছবি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement