মা হওয়া মুখের কথা নয়! প্রসব যন্ত্রণা সহ্য থেকে তিলে তিলে সন্তানকে বড় করতে জীবনের সঙ্গে অনেক সমঝোতা করতে হয়! মাতৃত্বের কষ্ট, ত্যাগ স্বীকারের আড়ালে চাপা পড়ে বাবাদের জীবনযুদ্ধ! সন্তানের জন্য প্রত্যেক বাবার নীরব শ্রম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রকৃত মর্যাদা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিতই রয়ে যায়! তবুও সন্তানের স্বার্থে যে কোনও চ্যালেঞ্জ গ্রহণে দুবার ভাবে না। হাসিমুখে মৃত্যুকেও বরণ করে নেবে। আর কন্যা সন্তান হলে তো কোনও কথাই নেই, 'পাপা কি পরী' যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় বাবার রাজকন্যা। মেয়ের জীবনের যে কোনও সমস্যায় বাবাদের ঢাল হয়ে দাঁড়ানো প্রতিটি ঘরের চেনা ছবি। টলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ও (Vikram Chatterjee) কিন্তু, বাবা হিসেবে তার ব্যতিক্রম নন।
একমাত্র কন্যার জন্য মৃত্যুর আগের মুহূর্তেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাই বললেন। মেয়ের চোখের জলের সঙ্গে কোনও সমঝোতা নয়, রক্তাক্ত অবস্থায় বিক্রমের এহেন রুদ্ররূপ বোধহয় আগে কেউ কখনও দেখেনি। কিন্তু, প্রশ্ন হল, অভিনেতা বিক্রম কবেই বা বিয়ে করলেন আর মেয়ের বাবাই বা কবে হলেন? আসলে বাস্তবে নয়, পুরো ঘটনাটাই ঘটবে রিলে অর্থাৎ সিনেমার পর্দায়। বাবাদের জীবনের সেই অদম্য লড়াইয়ের কাহিনি এবার দর্শকের দরবারে। আগামী ১৯ জুন, পিতৃদিবস উপলক্ষে দর্শকদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে আসছে নতুন বাংলা ছবি 'বাবা'।
এই ছবিতেই বাবার ভূমিকায় অভিনয় করছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। ছবির ট্যাগলাইন, 'সন্তানের জন্য মরার আগে দু’বার ভাবব না, আর মারার আগে একবারও ভাবব না'। জিৎ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় ও প্রযোজনায় এই ছবিতে বিক্রমের সঙ্গে কাজ করেছেন কিরণ মজুমদার, অপরাজিতা আঢ্য, মমতা শঙ্কর, দেবরাজ ভট্টাচার্য, কাঞ্চন মল্লিক, বিশ্বনাথ বসু সহ ইন্ডাস্ট্রির একঝাঁক তারকা।
পরিচালকের কথায়, 'বাবা শুধু একটি সিনেমা নয় বরং এক অনুভূতি যেখানে একজন বাবার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সন্তানের জন্য তাঁর সীমাহীন ভালোবাসা এবং লড়াইকে তুলে ধরা হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাকশন-ড্রামা যেখানে দর্শক বিনোদনের পাশাপাশি এক হৃদয়ছোঁয়া গল্প উপভোগ করতে পারবে। নতুন প্রযোজক হিসেবে দর্শকদের ভালোবাসা ও ভরসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।'
বিক্রম যখন বাবা!
গৌরব নামে এক তরুণ সাংবাদিকের জীবনের কাহিনি অবলম্বণে এগবে সিনেমার গল্প। অনাথ আশ্রমে বড় হয়ে পৃথিবীর সেরা বাবা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। ছোটবেলার সঙ্গী রাইকে বিয়ের পর তাঁদের জীবনে আসে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত সুরক্ষাবোধের জন্য দাম্পত্যে চিড় ধরে। ব্যক্তিগতজীবনের টানাপোড়েনের মাঝে গৌরব কলকাতার এক ভয়ংকর শিশু পাচার চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন।
রোম্যান্টিক মুহূর্তে বিক্রম
সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব এবং একজন বাবার আবেগের দ্বৈরথে শুরু হয় আরও এক নতুন সংগ্রাম। রোম্যান্স, পারিবারিক সম্পর্কের ওঠাপড়া, হাস্যরসের পাশাপাশি সমাজের কঠিন বাস্তব যেমন পথশিশুদের দুর্দশা এবং সংগঠিত ট্র্যাফিকিংয়ের অন্ধকার দিক এই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে ‘বাবা’ শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি বাবার ভালোবাসা, ত্যাগ এবং দায়িত্ববোধের এক আবেগঘন উপাখ্যান।
