নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের শপথের ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা আগে কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ কলকাতায় পৌঁছন তিনি। দমদম বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ছিলেন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীও। সেখান থেকে সোজা যান দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে।
দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে অমিত শাহ। ছবি: কৌশিক দত্ত
দলের জয়ের পর নিজে হাতে পুজো দেন শাহ। এরপর নিউটাউনের বিলাসবহুল হোটেলে পৌঁছনোর কথা তাঁর। বিকেলে সেখানে জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শাহ। স্থির হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর নাম। পরিষদীয় নেতাও নির্বাচন করবেন তিনি।
দমদম বিমানবন্দরে অমিত শাহ। নিজস্ব চিত্র
কলকাতায় এসেই X হ্যান্ডেলে বাংলায় পোস্ট করেন অমিত শাহ। বঙ্গবাসীকে প্রণাম জানান তিনি।
এদিকে, রাত পোহালেই মুখ্যমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের শপথ। হাজির থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ছাড়াও বিজেপিশাসিত ২১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বাংলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। শেষমেশ যদি কোনও অঘটন না ঘটে তা হলে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীই। উপমুখ্যমন্ত্রীর জল্পনায় রয়েছেন অগ্নিমিত্রা পল, মালতী রাভা রায় থেকে দীপক বর্মনরা।
ব্রিগেডে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কয়েকজন মন্ত্রী শপথ নিলেও ডেপুটি, পূর্ণমন্ত্রী ও রাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিয়ে ৩৬ থেকে ৪০ জনের মধ্যে হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভা। ব্রিগেডের শপথমঞ্চে কারা শপথ নেবেন, কারা স্থান পেতে চলেছেন নয়া মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় গেরুয়া শিবিরের জয়ী হবু বিধায়করা। টানটান উত্তেজনা। কার কাছে আসবে ফোন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়ী এক হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থীর কথায়, "এখনও লোকভবন বা দল থেকে কোনও ফোন পাইনি। কেউ কিছু জানায়নি।"
সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভার যে তালিকা শাহর কাছে রয়েছে তা চূড়ান্ত হওয়ার আগে আরএসএসের সঙ্গে একপ্রস্থ আলোচনা করেছেন অমিত শাহ। ব্রিগেডে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে এক বর্ণাঢ্য রূপ দিতে চলেছে বিজেপি। রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথ। সভাস্থলে বাজবে রবীন্দ্রসঙ্গীত। আলাদা সাংস্কৃতিক মঞ্চও থাকছে বলে জানা গিয়েছে। 'ভিভিআইপি'-রা মূল মঞ্চেই থাকবেন। মঞ্চের সামনের কিছুটা অংশে থাকবে বিশিষ্ট অতিথিদের বসার ব্যবস্থা।
আর মঞ্চের সামনে মাঠের দু'দিকে সোফায় বিশিষ্টদের বসার জায়গা করা হচ্ছে। তবে গোটা দর্শকাসন জুড়েই চেয়ার পেতে বসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত বিধায়ক-সহ আমন্ত্রিত হিসাবে থাকছেন সাংসদরা। প্রত্যেক বিধায়ক কমপক্ষে ১ হাজার লোক নিয়ে আসবেন। ১ লক্ষ জমায়েতের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এদিকে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনী ব্রিগেড ও শহরজুড়ে। মোট ৪ হাজার পুলিশকর্মী নিরাপত্তায় থাকছে।
