একসময় বাংলা মেগার দর্শকের অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ছিল 'মেম বউ'। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন বিনীতা চট্টোপাধ্যায়। মাঝে অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েছে। টেলিভিশনের পর্দায় আর দেখা মেলেনি! লম্বা বিরতির পর এবার নয়া অবতারে বাঙালি দর্শকের মন জেতার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তবে ধারাবাহিক বা সিরিজ নয়, বড় পর্দায় বিগ ব্রেক বিনীতা চট্টোপাধ্যায়ের। পরিচালক দীপঙ্কর ঘোষের নির্দেশনায় 'ডাব্বা কাকা' সিনেমায় উমার চরিত্রে অভিনয় করবেন।
উলটো রথের দিন হয়ে গেল সিনেমার শুভ মহরত। ২৭ জুলাই অর্থাৎ রবিবাসরীয় ছুটির দিনে শুটিং করবেন বিনীতা। তার আগে ছবি নিয়ে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের সঙ্গে আড্ডায় অভিনেত্রী। 'ডাব্বা কাকা' বড় পর্দায় প্রথম মুক্তি পেলেও সিনেমায় আত্মপ্রকাশ ঘটেছে অনেক আগেই। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে 'ক্লোন'-এ কাজ করেছিলেন। কিন্তু, রাহুল পূর্বতন সরকারের বিরাগভাজন হওয়ায় তাঁর অনেক কাজই আটকে দেওয়া হয়েছিল।
সেই জন্যই 'ক্লোন'ও বঞ্চিত ছিল। তবে নতুন সরকারে ভরসা রয়েছে বিনীতার। সেই মর্মে অভিনেত্রীর সংযোজন, "নতুন সরকার ভীষণ শৃঙ্খলা পরায়ন। আশা করছি ক্লোন মুক্তি পাবে। সরকার পরিবর্তনের পর কালচারাল সেলের সঙ্গে আমার যোগাযোগ বাড়ে। বাংলায় কাজের প্রতি নতুন করে ভরসা পেয়েছি। তাই এখন থেকে মুম্বই আর কলকাতা দু'জায়গাতেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিজেপি সরকারের আমলে একসঙ্গে দুটো কাজের প্রস্তাব পেলাম। ডাব্বা কাকা ছাড়াও রয়েছে তুমি রবে নীরবে।"
'ডাব্বা কাকা'র প্রস্তাব কীভাবে এল? বিনীতা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলেন, "সাংবাদিক কমিউনিটি থেকে সুযোগ পেয়েছি। আসলে আমি তো নিজেও আগে পেশায় একজন সাংবাদিক ছিলাম। পৃথিবীর বহু জায়গায় সাংবাদিকতা করেছি। সেই সুবাদেই এই কাজের সুযোগ। বহুদিন পর বাংলায় কাজ করতে পারছি, এটা ভেবেই মনটা যেন খুশিতে নেচে উঠছে। এখন তো শুধুই স্ক্রিপ্ট পড়ছি। কাল থেকে আমার অংশের শুটিং শুরু। এতটা উত্তেজিত যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।"
বিনীতার নতুন সিনেমা
এই সিনেমায় কেমন চরিত্রে দেখা যাবে বিনীতাকে? তিনি জানান, "এটি সত্য ঘটনার উপর আঁধারিত। রিয়েল লাইফ হিরোদের নিয়ে গল্প বুনেছেন পরিচালক। সেই মানুষগুলো আজও বেঁচে আছেন। আর আমার চরিত্রের নাম উমা। সাবেক সাজে বাঙালি গ্রাম্য বধূর ভূমিকায় আমাকে দেখা যাবে। তবে গ্রাম্যবধূ হলেও সে একজন প্রতিবাদী কন্যা। প্রতিবাদের প্রথম আওয়াজ সেই তুলেছিল। গল্পের শেষেই তো হবে পর্দাফাঁস, ডব্বা কাকার ডাব্বার কী আছে?"
শুভ মহরত
সাক্ষাৎকারের সময়ও সাংবাদিকের মতোই গুছিয়ে কথা...। ফোনের ওপারে মৃদু হেসে বিনীতা বলেন, "আসলে ওটা আমার ভালোবাসা। যখন যেখানে থেকেছি এই পেশায় কোনও না কোনওভাবে নিযুক্ত হয়েছি। সাংবাদিকতা একটা প্যাশন, যেটা কোনওদিন মলিন হবে না। সবশেষে সিনেমা নিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ডাব্বা কাকা হয়তো দেশজুড়ে একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে। এরপর তুমি রবে নীরবে-এর কাজ শুরু করব।"
