'একটু ধৈর্য ধর, সময় সব ঠিক করে দেবে', দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে শুভাকাঙ্খীদের এই পরামর্শ আমরা কম-বেশি প্রত্যেকেই অনুসরণ করি। ৪ মে দীর্ঘ ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গে 'মমতারাজ'-এর ভরাডুবির পর এই প্রবাদেই যেন চরম স্বস্তি পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর (Vivek Agnihotri)। তৃণমূল জমানায় স্বাধীন পরিচালক বিবেককে বাংলায় ছবি মুক্তিতে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। 'প্রোপাগাণ্ডা' ছবির তকমার জেরে বারবার সেন্সের কোপে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল বিবেকের ছবি। শুধু তাই নয়, সিনেমার স্পেশাল স্ক্রিনিংয়েও তৎকালীন মমতা (Mamata Banerjee) সরকারের পুলিশের বিরুদ্ধে চরম হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন পরিচালক। হ্যাঁ, বিবেক পরিচালিত 'ফাইলস ট্রিলজি'র 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস', দ্য বেঙ্গল ফাইলস'-এর কথাই বলছি।
এই দুই ছবি ঘিরে বাংলায় যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেই স্মৃতি উসকে মমতাকে তোপ বিবেক অগ্নিহোত্রীর। ছাব্বিশের নির্বাচনে নিজ গড় ভবানিপুরেই রানি হল খান খান! ১৫ হাজারের বেশি ভোটে মমতার পরাজয়ের পরই বাংলায় 'ব্যান কালচার' নিয়ে সরব বিবেক অগ্নিহোত্রী। একের পর এক ছবি বাংলায় নিষিদ্ধ করার প্রতিশোধের আগুন ধিকি ধিকি করে জ্বলছিল বিবেকের অন্তরে, ৫ মে সমাজমাধ্যমে ঘটল বিস্ফোরণ!
বিজেপির জয়ে বিবেক লেখেন , 'নির্বাচনের সময় আমরা নিশ্চিত করেছি গোপনীয়তা বজায় রেখে দ্য বেঙ্গল ফাইলস বাংলার বিভিন্ন জায়গাযর মানুষের কাছে যথ বেশি সম্ভব পৌঁছে দেওয়া যায়। আমি খুশি যে আমরা হাল ছাড়িনি এবং আমাদের মতো করে লড়াই চালিয়ে গিয়েছি। আর অবশেষে এই অভূতপূর্ব জয়।'
ভিডিওবার্তায় মমতার প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে বিবেকের 'মন কি বাত', 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস মুক্তির পর আমাকে বাংলায় কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ছবিটি সিনেমা হল থেকে তুলে নেওয়া হয়, এবং বলা হয়েছিল আমাকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। গত বছর দ্য বেঙ্গল ফাইলস সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়। আমাদের ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়, শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। আমার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল ডজন ডজন এফআইআর। এমনকি রাজ্যপালের কাছ থেকে পুরস্কার নিতেও যেতে পারিনি।'
রাগের বর্হিপ্রকাশ ঘটিয়ে বিবেকের সংযোজন, 'তবুও আমরা হাল ছাড়িনি। এই নির্বাচনের সময় আমরা নিশ্চিত করেছি গোপনীয়তা বজায় রেখে দ্য বেঙ্গল ফাইলস বাংলার বিভিন্ন জায়গাযর মানুষের কাছে যথ বেশি সম্ভব পৌঁছে দেওয়া যায়। আমি খুশি যে আমরা হাল ছাড়িনি এবং আমাদের মতো করে লড়াই চালিয়ে গিয়েছি। আর অবশেষে এই অভূতপূর্ব জয়। বাংলার মানুষদের অভিনন্দন। এখন আপনারা নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন।' রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সিনেমা তৈরিই বিবেকের নির্দেশনার ইউএসপি। আরও একবার সেই পথেই পা বাড়ালেন পরিচালক। পরবর্তী ছবি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ঘোষণাও করে ফেলেছেন বিবেক।
