'টাটিরি' নিয়ে বিতর্কে জর্জরিত খ্যাতনামা র্যাপার বাদশা। বাদশার এই গানে আপত্তিকরভাবে তুলে ধরা হয়েছে নারীদের। আর তা দেখেই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ সকলে। বাদশার বিরুদ্ধে শনিবারই দায়ের হয় অভিযোগ। এমনকী তাঁকে সমন পাঠিয়েছে হরিয়ানা মহিলা কমিশনও। এবার বাদশার সমালোচনায় মুখর হলেন মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেণু ভাটিয়া।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রেণু ভাটিয়া বলেন, "যিনি নারীর সম্মান এভাবে ক্ষুণ্ণ করেন, নারীদের সস্তা মনে করেন তিনি আর যাই হোক 'বাদশা' হতে পারেন না। উনি যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের সামনে এসে এর জবাবদিহি করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি তা করবেন তাঁকে হরিয়ানান্য একটিও অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না। আমি একইসঙ্গে এখানকার প্রতিটি মানুষকে একই অনুরোধ করব। তাঁরাও যেন আমাদের সঙ্গে সহযোগীতা করেন। বাদশাকে ১৩ মার্চ হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হরিয়ানার মেয়েদের এভাবে অপমান আমরা মেনে নেব না। উনি যা করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। ওনাকে সশরীরে হাজির হয়ে এর জন্য আমাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।"
হরিয়ানা মহিলা কমিশনের তরফে রেণু ভাটিয়া আরও বলেন, "শিল্পীদের কণ্ঠ, তাঁদের গলার সুর ঈশ্বরপ্রদত্ত। তা এভাবে অপব্যবহার করার জন্য নয়। একইভাবে এই বার্তা প্রত্যেক সঙ্গীতশিল্পীর কাছেই পৌঁছান দরকার। শুধু তাই নয়, মহিলাদের প্রতি এমন মনোভাব ও ভাষা যে বা যারাই প্রয়োগ করেন না কেন তাঁদের এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া ও সজাগ হওয়া উচিত।"
র্যাপার বাদশা, ছবি: সোশাল মিডিয়া।
পয়লা মার্চ ‘টাটিরি’ গানটি নিজের সোশাল মিডিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ করেন বাদশা। যদিও প্রথমটায় এই হরিয়ানভি গান শুনে অনুরাগীরা উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন, তবে দিন দুয়েক কাটতে না কাটতেই নিন্দার ঝড় নেটভুবনে। কেন? কারণ গানের কথা ও দৃশ্যে নারীদের ‘ভোগ্যপণ্য’ হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ তুলে রে-রে করে উঠেছে শ্রোতামহল। ওই মিউজিক ভিডিওর গোড়াতেই দেখা যায়, কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে স্কুলছাত্রীরা নাচতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং নেপথ্যে গানের চটুল কথা। আর এহেন যৌন ইঙ্গিতমূলক গানে বাদশার বিরুদ্ধে আপত্তি তোলে হরিয়ানা মহিলা কমিশন। অন্যদিকে এই নিয়ে পরিস্থিতি যখন ধুন্ধুমার তখন তা নিয়ে শনিবার রাতে মুখ খলেন বাদশা। হরিয়ানার ভূমিপুত্র হিসেবে ক্ষমাও চান তিনি। তবে তাতে কিছু সুরাহা হয়নি।
