জুবিন গর্গের মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে প্রায় চারমাস। কীভাবে মৃত্যু হল গায়কের, তা নিয়ে এখনও জারি ধোঁয়াশা। তারই মাঝে আদালতে বিস্ফোরক দাবি সিঙ্গাপুর পুলিশের। তদন্তকারীরা জানান, স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় মদ্যপ ছিলেন জুবিন। লাইফ জ্যাকেট কিছুক্ষণ পরেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে তা খুলে ফেলেন তিনি। পরে আবার জলে নামার সময় তাঁকে একটি লাইফ জ্যাকেট পরতে বলা হয়। তবে আর তা পরেননি তিনি। সে কারণেই এমন অঘটন বলেই দাবি পুলিশের।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে ১০০ মিলিলিটার রক্তে ৮০ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া স্বাভাবিক। তবে জুবিনের শারীরিক পরীক্ষায় প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ৩৩০ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া গিয়েছে। যা প্রমাণ দেয় যে তিনি যথেষ্ট পরিমাণ মদ্যপান করেছিলেন। পুলিশ ওই হোটেল থেকে ৭৫০ মিলিলিটার মদ পাওয়া গিয়েছে। সুতরাং মদ্য়পান যে করেছিলেন গায়ক, তা স্পষ্ট বলেই দাবি তদন্তকারীদের।
উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর, সিঙ্গাপুরে নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে স্কুবা ডাইভিংয়ে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জুবিন গর্গের। বিদেশের মাটিতে অসমের ভূমিপুত্রের এহেন আকস্মিক প্রয়াণে অনেকেই ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েছিলেন! তার ভিত্তিতেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নির্দেশে জুবিন গর্গের মৃত্যুতদন্তের জন্য সেপ্টেম্বর মাসে ‘সিট’ গঠন করে অসম সরকার। জুবিন মৃত্যুতে এখনও পাঁচজন অভিযুক্ত কাঠগড়ায়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিট আধিকারিকরা প্রথম গ্রেপ্তার করেন জুবিনের টিমের ড্রামার শেখরজ্যোতি গোস্বামীকে। অন্যদিকে পয়লা অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা ও নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালের আয়োজক শ্যামকানু মহন্তকে। অক্টোবর মাসের ৩ তারিখ প্রেপ্তার করা হয় টিমের গায়িকা অমৃতপ্রভ মহন্তকে। এছাড়াও জুবিনের মৃত্যুতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর তুতো ভাইকে। উল্লেখ্য, জুবিনের মৃত্যুতে অসম পুলিশ ইতিমধ্যেই শ্যামকানু মোহন্ত এবং ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে।
