বাইশ গজ থেকে কারাগারে যেতে হয়েছে অভিষেক পোড়েলকে (Abishek Porel)। তাঁর কারাবাসের মেয়াদ আরও বাড়তে চলেছে বলেই অনুমান। ইতিমধ্যেই তারকা ক্রিকেটারের জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছে। আপাতত জেল হেফাজতে থাকবেন তিনি। সেই মেয়াদটা একমাস পর্যন্ত গড়াতে পারে, এমন একটা সম্ভাবনাও রয়েছে। সবমিলিয়ে বড়সড় সমস্যায় দিল্লি ক্যাপিটালসের উইকেটকিপার-ব্যাটার।
ডাক্তারি পড়ুয়া এক তরুণী গত ২৩ জুন মগরা থানায় গিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। জানা গিয়েছে, সাড়ে তিন বছর ধরে ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ক্রিকেটারের। একসঙ্গে বিদেশেও গিয়েছেন। বছর দেড়েক আগে সম্পর্কের অবনতি হয়। পরবর্তীকালে ফের সমস্যা শুরু হলে ওই তরুণী মগরা থানায় অভিযোগ জানান। তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিকবার চন্দননগরে অভিষেকের বাড়িতে যায়। গ্রেপ্তারি এড়াচ্ছিলেন তিনি। ওই তরুণী কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। হাই কোর্ট ওই ক্রিকেটারকে গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দেয়।
তারকা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ৬৯, ৩১১, ৩১৮, ৬৬/৭২ আইটি অ্যাক্ট সহ বিএনএস-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধর্ষণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ রয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাই কোর্টে। উচ্চ আদালত অভিষেককে গ্রেপ্তারির নির্দেশ দেয়। দুপুরের মধ্যেই তারকা ক্রিকেটারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার অভিষেককে পেশ করা হয় চুচুঁড়ার আদালতে। প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয়েছিল। আপাতত তিনদিনের জন্য অভিষেককে পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক।
কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি হবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ একমাসেরও বেশি সময় পরে। কেন এত দেরিতে শুনানি? উচ্চ আদালত জানিয়েছে, পুলিশকে এই সময়টুকু দেওয়া হবে তদন্ত চালানোর জন্য। সেক্ষেত্রে এই দীর্ঘ সময় অভিষেক পুলিশ হেফাজতে থাকবেন, এমন সম্ভাবনাও প্রবল। আগামী দিনে তাঁর জামিনের আর্জি আবারও খারিজ করতে পারে জেলা আদালত। ফলে আগামী দিনে তারকা ক্রিকেটারের সমস্যা বাড়তেই পারে। যদিও আগাগোড়া নিজেকে নির্দোষ বলে জানিয়ে এসেছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের উইকেটকিপার-ব্যাটার।
