লাল বলের ক্রিকেটে মন দিতে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক, তা প্রমাণ করে চলেছেন মিচেল স্টার্ক। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ডারউইন টেস্টে ইতিহাস গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার। শাদমান ইসলামকে আউট করে টেস্ট ক্রিকেটে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে গেলেন তিনি। কাকতালীয় ভাবে দিনটি ছিল ১৩ আগস্ট, আন্তর্জাতিক বাঁহাতি দিবস।
টেস্টে স্টার্কের উইকেটসংখ্যা এখন ৪৩৪। এতদিন বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক ছিলেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি রঙ্গনা হেরাথ। তাঁর ঝুলিতে ছিল ৪৩৩ উইকেট। নাথান লিয়ঁর হাতে ক্যাচ দিয়ে শাদমান ইসলাম ফিরতেই সেই নজির পেরিয়ে গেলেন স্টার্ক। বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় এখন একেবারে শীর্ষে স্টার্ক। দ্বিতীয় হেরাথ (৪৩৩), তৃতীয় পাকিস্তানের ওয়াসিম আক্রম (৪১৪)। এর পর রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (৩৬২), শ্রীলঙ্কার চামিন্ডা ভাস (৩৫৫) এবং ভারতের রবীন্দ্র জাডেজা (৩৪৮)।
কেবল হেরাথকে টপকানোই নয়, একই দিনে আরও একটি বড় নজির ছুঁলেন স্টার্ক। টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় তিনি স্পর্শ করলেন ভারতের কিংবদন্তি কপিল দেবকে। ১৩১টি টেস্টে ৪৩৪ উইকেট নিয়েছিলেন কপিল। স্টার্ক সেই সংখ্যায় পৌঁছলেন মাত্র ১০৬টি টেস্টেই। ফলে কপিলের সঙ্গে যুগ্ম ভাবে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় ১১ নম্বরে উঠে এলেন তিনি। চলতি টেস্টেই প্রথম দশে ঢোকার হাতছানি তাঁর সামনে। স্টার্কের ব্যক্তিগত মাইলস্টোনের দিনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশও। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথমবার আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। কিন্তু নতুন মাঠের পিচের চরিত্র বুঝতে কি ভুল হয়েছিল? মাত্র ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অল আউট হয়ে গেল অজি বাহিনী।
ছ'উইকেট পেয়ে মাঠ ছাড়ছেন হাসান মাহমুদ। ছবি সংগৃহীত।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ঝড় তুলেছেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তাসকিন আহমেদ এবং এবাদত হোসেন পেয়েছেন দু'টি করে উইকেট। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটই গিয়েছে বাংলাদেশের পেসারদের দখলে। স্পিনারদের খুব বেশি বল করার প্রয়োজনই পড়েনি। জবাবে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটাও দারুণ করেছে। প্রথম দিনের শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান নাজমুল হোসেন শান্তদের। অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এই লড়াই যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে। তেমনই আন্তর্জাতিক বাঁহাতি দিবসকে স্মরণীয় করে রেখেছেন স্টার্ক।
