টুর্নামেন্ট হারার ‘শাস্তি’ হিসেবে প্রথমে বাংলার জুনিয়র ক্রিকেটারদের ফ্লাইটের বদলে বাসে করে শহরে ফেরানো। খরচ বাঁচাতে প্রথম ডিভিশনের ক্রিকেট থেকে আকস্মিক তৃতীয় আম্পায়ার তুলে দেওয়া। নানাবিধ বিতর্কে সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষের নাম পূর্বে জড়িয়েছিল। এবার পুনরায় তিনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন সিএবি-র আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘বচসা’ বাঁধিয়ে। তাঁকে ‘হুমকি’ দিয়ে!
ঘটনাটা কী? সূত্রের খবর, দিন দশেক আগে অনূর্ধ্ব আঠারোর ম্যাচে আম্পায়ার্স পোস্টিং নিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় সিএবিতে। প্রথা অনুযায়ী, খেলার আগের দিন আম্পায়ার্স পোস্টিং হয়ে যায় সিএবিতে। সেই মতো নাকি প্রসেনজিৎ আম্পায়ার পোস্টিং করেও দেন। শোনা গেল, তার পর নাকি সিএবি যুগ্ম সচিব নির্দিষ্ট দুই আম্পায়ারের পোস্টিং দিতে বলেন ম্যাচে। অভিযোগ, পোস্টিং হয়ে গিয়েছে শুনে রীতিমতো ‘ক্রুদ্ধ’ হয়ে পড়েন যুগ্ম সচিব। মদন নাকি বলতে থাকেন, তাঁকে না জিজ্ঞাসা করে কোন যুক্তিতে আম্পায়ার্স পোস্টিং হয়ে গিয়েছে? আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান পালটা বলেন, সিএবি সংবিধানে কোথাও লেখা নেই, যুগ্ম সচিবকে জিজ্ঞাসা করে আম্পায়ার্স পোস্টিং করতে হবে। পরিস্থিতি প্রবল উত্তপ্ত হয়ে উঠতে সময় লাগেনি এরপর। ওয়াকিবহাল মহলের অভিযোগ, সিএবি যুগ্ম সচিব নাকি এর পর সরাসরি ‘হুমকি’ দেন। বলতে থাকেন, প্রসেনজিতের তিনি ‘বস’! আগামী বছর কী করে প্রসেনজিৎ পদে থাকেন তিনি দেখে নেবেন!
অভিযোগ, পোস্টিং হয়ে গিয়েছে শুনে রীতিমতো ‘ক্রুদ্ধ’ হয়ে পড়েন যুগ্ম সচিব। মদন নাকি বলতে থাকেন, তাঁকে না জিজ্ঞাসা করে কোন যুক্তিতে আম্পায়ার্স পোস্টিং হয়ে গিয়েছে? আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান পালটা বলেন, সিএবি সংবিধানে কোথাও লেখা নেই, যুগ্ম সচিবকে জিজ্ঞাসা করে আম্পায়ার্স পোস্টিং করতে হবে।
স্থানীয় ক্রিকেটে খোঁজ খবর করে জানা গেল, সিএবি যুগ্ম সচিবের ‘আচরণ’ নিয়ে ভালো রকম ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়ে রয়েছে। আম্পায়ার মহলেরও অভিযোগ, মদন নিজের ইচ্ছেমতো আম্পায়ার্স পোস্টিং দিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করেন। যার পুনরাবৃত্তি হয়েছে অনূর্ধ্ব ১৮-র ম্যাচে। মনে করার কোনও কারণ নেই যে, বিবাদের সেখানেই শেষ হয়েছে। গন্ডগোলের পরের পর্ব সিএবি যুগ্ম সচিবের ঘরে ‘অনুষ্ঠিত’ হয়। সিএবি যুগ্ম সচিবকে নাকি প্রসেনজিৎ বলে দেন, তিনি তিনজন সিএবি প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করেছেন আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান হিসাবে। কোথাও তাঁকে এ জিনিসের সম্মুখীন হতে হয়নি। তাছাড়া সিএবিতে কোনও পদাধিকারী বেতনভুক নন। সবাই সাম্মানিক পদে রয়েছেন। তাই এক্ষেত্রে কেউ ঊর্ধ্বতন, কেউ অধস্তন নন। পরের অভিযোগ আরও গুরুতর। উত্তেজিত সিএবি যুগ্ম সচিব নাকি তখন আম্পায়ার্স কমিটির প্রধানকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন!
পুরো ঘটনা নিয়ে সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষ মঙ্গলবার সন্ধেয় ফোনে বললেন, “বাদানুবাদ কিছু হয়নি। আমি শুধু নির্দিষ্ট একজন আম্পায়ারকে নিয়ে বলেছিলাম যে তাকে পোস্টিং দেওয়া যাবে না। কারণ, সেই আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই আম্পায়ার প্রসেনজিতের ঘনিষ্ঠ। তবে গন্ডগোল বা ঝামেলা পুরো বাজে কথা।” মদনকে ফের জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি আদৌ আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানকে ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দিয়েছেন কি না? এবার তাঁর প্রতিক্রিয়া, “এ সব কিছুই হয়নি। আমি এই সব ব্যাপারে কোনও কথা বলতে পারব না। এ নিয়ে কথা বলতে হলে, প্রসেনজিতের সঙ্গেই কথা বলে নিন।” আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান প্রসেনজিৎকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, “এটা সিএবি-র অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এ নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।”
পুরো ঘটনা নিয়ে সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষ মঙ্গলবার সন্ধেয় ফোনে বললেন, “বাদানুবাদ কিছু হয়নি। আমি শুধু নির্দিষ্ট একজন আম্পায়ারকে নিয়ে বলেছিলাম যে তাকে পোস্টিং দেওয়া যাবে না। কারণ, সেই আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই আম্পায়ার প্রসেনজিতের ঘনিষ্ঠ। তবে গন্ডগোল বা ঝামেলা পুরো বাজে কথা।”
আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান কিছু না বললেও সিএবি-র অন্দরে রুষ্ট বলাবলি চলছে, প্রশাসনিক পদে যাঁর মেয়াদ আগামী ২১ মে শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেই যুগ্ম সচিব এত ‘ঔদ্ধত্য’ দেখাতে পারেন কী করে? বাস্তবিকই আগামী ২১ মে সত্তর বছরে পা দিচ্ছেন মদন ঘোষ। লোধা আইন অনুযায়ী, সত্তর হলে গেলে প্রশাসনিক পদে কেউ থাকতে পারেন না। বলাবলি চলছে, মেয়াদ শেষের পরেও মদন যাতে পদে থেকে যেতে না পারেন, সেই নিয়ে আগেভাগে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে দরখাস্ত করা হবে। তার পরেও থেকে গেলে মদনের বিরুদ্ধে আইনি পথেও হাঁটা হতে পারে।
