চোট-আঘাত খেলার অঙ্গ। কিন্তু সেটা তো অজুহাত হতে পারে না। অনেক সময় চোট সত্ত্বেও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েন না খেলোয়াড়রা। আবার অনেকে মুখ লুকিয়ে থাকেন। যেমন পাকিস্তানের ইমাম-উল-হক। মিথ্যা চোটের নাটক করে মাঠেই নামতে রাজি হননি পাক ব্যাটার। আর সেখানে ঠিক অন্য গল্প লিখলেন কেরলের একে অর্জুন। এক পায়ে মাঠে নামলেন। আর শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতালেন ভারতীয় ব্যাটার। দুই দেশের দুই ক্রিকেটারের মানসিকতার তফাত দেখে নেটদুনিয়া বলছে, 'পার্থক্য ছিল, থাকবে।'
আসলে ইমামের ঘটনা তো নতুন নয়। বিপদ দেখলেই পাক ব্যাটার 'পালিয়েছেন।' এবার সেটা ঘটল লর্ডসে। পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে ইংল্যান্ড। লর্ডসে পাক ব্যাটিংকে ধরাশায়ী হতে দেখেও নামেননি ওপেনার ইমাম-উল-হক। তাঁর নাকি পায়ে চোট। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, এটা আসলে নাটক। 'ভয়ে' ব্যাট করতেই নামেননি।
সেখানে ক্রিকেটের লড়াকু স্পিরিটের অনন্য উদাহরণ রাখলেন একে অর্জুন। কেরলের লিগে ত্রিশূর টাইটান্সকে জিততে শেষ বলে ৪ রান দরকার ছিল। এর আগে ফিল্ডিংয়ের সময় মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন অর্জুন। কিন্তু দলকে জেতাতে তিনি নামলেন। হাঁটতে পারছিলেন না। ব্যাটটাকেই ক্রাচের মতো ব্যবহার করে মাঠে নামেন। শেষ বলের মুখোমুখি হন। চার নয়, ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন। এক পায়ে দলকে জেতান। কোনও নাটক নয়। জেতালেন ক্রিকেটকে। যা দেখে নেটিজেনরা ইমামের উদাহরণ টেনে বলছেন, 'এটাই আসলে ভারত ও পাকিস্তানের তফাত। ভারতীয়রা কখনও পালায় না।'
কেন ইমামকে নিয়ে এত চর্চা? চোট বলা সত্ত্বেও লর্ডসে চতুর্থ দিন পায়ে স্ট্র্যাপ বেঁধে শর্টস পরে মাঠে নেমে অনুশীলন করছিলেন। যা দেখে প্রাক্তন ইংরেজ ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট ব্রড বলেন ইমাম চোটের নাটক করছেন। নাহলে তো ইমাম নেটেও অনুশীলন করতে পারতেন। আসলে তিনি দেখাতে চাইছেন, পায়ে চোট আছে। এবার জানা গেল, এর আগে ২০২৫-এ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামতে চাননি। বলেছিলেন, পায়ে চোট আছে। অথচ স্ক্যানে কিছু ধরা পড়েনি। পরে ফিজিও দেখেন, পায়ে কালি লাগিয়ে কালশিটে দাগ বানিয়ে চোটের নাটক করেছিলেন। তারও আগে ২০২২-এও একবার একই কাণ্ড করতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন।
