shono
Advertisement

Breaking News

Ashok Dinda

'বাংলার খেলা থেকে স্বজনপোষণ তুলে দেব', মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে প্রতিজ্ঞা দিন্দার

'খেলাধূলার উন্নতির জন‌্য কিছু করতে গেলে মন্ত্রী হতে হয় না', বলছেন দিন্দা।
Published By: Arpan DasPosted: 12:28 PM Jun 02, 2026Updated: 02:36 PM Jun 02, 2026

প্রথমে ভেবেছিলেন শার্ট-প‌্যান্ট পরেই মন্ত্রিত্বের শপথ নিতে যাবেন। কিন্তু স্ত্রী-র জোরাজুরিতে শেষমেশ পাঞ্জাবি-পাজামাতেই এলেন। সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে এমএলএ হস্টেল। তার পর সেখান থেকে লোকভবনে গিয়ে মন্ত্রিত্বের শপথ নেওয়া। সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়িতে যখন ফিরলেন, তখন প্রায় দুপুর দুটো। সেখানেই দাঁড়িয়ে সংবাদ প্রতিদিন-কে সাক্ষাৎকার দিলেন মন্ত্রী অশোক দিন্দা (Ashok Dinda)।

Advertisement

প্রশ্ন : আজকে আপনার জীবনের একটা বিশেষ দিন। অনুভূতি কেমন হচ্ছে?

দিন্দা : খুব স্পেশাল। বলতে পারেন ভেরি ভেরি স্পেশাল। আজ অনেক কিছু মনে পড়ে যাচ্ছে। প্রথম বাংলার হয়ে খেলা। প্রথম ভারতীয় দলের হয়ে খেলা। মেয়ে হওয়ার দিনটা। প্রথম চাকরির দিন। প্রথমবারের জন‌্য বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া। দ্বিতীয়বার আবার জিতলাম। সরকারে আসার দিনটা। বলতে পারেন ওই দিনটাও ভীষণ ইমোশনাল আমার কাছে।

প্রশ্ন : আপনাকে এখনও বেশ ইমোশনাল লাগছে। মন্ত্রী হিসাবে যখন শপথ নিচ্ছিলেন, বিশেষ কোনও মুহূর্তের কথা মনে পড়ছিল?

দিন্দা : না, সেরকম কিছু নয়। শুধু একটাই প্রার্থনা করছিলাম, যা-ই দায়িত্ব পাই না কেন, যেন মানুষের জন‌্য কাজ করতে পারি। মানুষের সেবা করতে পারি। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি। বাংলাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

প্রশ্ন : স্ত্রী-মেয়ে, পরিবার নিয়ে শপথ নিতে এসেছিলেন?

দিন্দা : হ‌্যাঁ। আমার জীবনে পরিবারের অবদান অনেক। বারবার মায়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। মা-বাবাকে প্রণাম করেই গিয়েছিলাম। মা সব সময় কাছেই ছিল আমার। আর স্ত্রী-র কথাও বলব।  সব সময় আমাকে সাপোর্ট করে। ও জানে আমি যেটাই করি না, সেটা মন দিয়ে করি। আমার জন‌্য প্রচুর ত‌্যাগ করেছে। যখন খেলতাম, তখন অর্ধেক সময় বাইরেই থাকতে হত। মেয়ে যখন জন্মায়, তখনও আমি বাড়িতে ছিলাম না। আজকে ও আমার সঙ্গে গিয়েছিল। ওর কাছেও স্পেশাল একটা দিন।

লড়াইটা কঠিন ছিল। বিরোধী থেকে লড়াই করা সব সময় কঠিন ব‌্যাপার। তার মধ্যে আবার তৃণমূলের মতো শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করা। যারা প্রতি মুহূর্তে বিরোধীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আর্মস অ‌্যাক্টে কেস দিয়েছিল!

প্রশ্ন : আজ বিশেষ কিছু পরিকল্পনা?

দিন্দা : না, সেরকম কিছু নেই। বাড়িতেই থাকব। রাতে পরিবার নিয়ে বাইরে কোথাও খেতে যেতে পারি।

প্রশ্ন : আজ কি সেই সব দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে? পাঁচ বছর আগের সেই লড়াই। আপনার বিরুদ্ধে ছয়-সাতটা কেস দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কী মনে হচ্ছে, আজ সব লড়াই সার্থক?

দিন্দা : নিঃসন্দেহে লড়াইটা কঠিন ছিল। বিরোধী থেকে লড়াই করা সব সময় কঠিন ব‌্যাপার। তার মধ্যে আবার তৃণমূলের মতো শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করা। যারা প্রতি মুহূর্তে বিরোধীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছে। আমার বিরুদ্ধে কী সব কেস দিয়েছে জানেন? ভাবতে পারেন আর্মস অ‌্যাক্টে কেস দিয়েছিল!

প্রশ্ন : কী বলছেন! আপনি একজন প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এরকম?

দিন্দা : তা হলেই বুঝুন, আমাদের লড়াই কতটা কঠিন ছিল। মিথ্যে সব কেস দেওয়া হত। যাতে বিরোধীদের কেউ কোনও প্রতিবাদ না করতে পারে। যাতে কেউ কোনও কাজ করতে না পারে। এক-একসময় নিজেই ভাবতাম আমি বাংলার হয়ে সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। দেশের হয়ে খেলেছি। তার পরও এরকম কুৎসা রটানো হচ্ছে। তবে লড়াই ছাড়িনি। এক ইঞ্চি জমি ওদের ছাড়িনি। গত পাঁচ বছর লড়াইয়ের পুরস্কার পেলাম। যখন রাজনীতিতে এসেছিলাম, তখন মন্ত্রিত্ব পাব কি না, এসব ভাবনা নিয়ে আসিনি। আমাকে মন্ত্রী করা হবে, সেরকম কথাও কেউ দেয়নি। পার্টিতে এসেছিলাম তার একটাই লক্ষ‌্য নিয়ে, বাংলার পরিবর্তন হবে। বাংলার উন্নয়ন হবে। বেকাররা চাকরি পাবে। আজকে দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। বাংলা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, সেখান থেকে অনেক ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে হবে আমাদের রাজ‌্যকে। আমাদের মুখ‌্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবার সাহায্য নিয়ে বাংলাকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। মুখ‌্যমন্ত্রী যেভাবে সর্বক্ষণ দৌড়চ্ছেন, সেভাবে যেন আমরাও দৌড়তে পারি। সবাই মিলে যদি এভাবে কাজ করি, তা হলে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে খুব বেশি দিন লাগবে না।

শপথ বাক্য পাঠ করছেন অশোক দিন্দা। সোমবার।

প্রশ্ন : কোন দপ্তরের মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন, সেটা নিয়ে কোনও কথা হয়েছে?

দিন্দা : না, এখনও কিছু হয়নি।

প্রশ্ন : আপনি জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার। অনেকেই মনে করছেন রাজ্যের ক্রীড়ার দায়িত্ব পেতে চলেছেন। কীভাবে বাংলার ক্রীড়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সেটা নিয়ে কিছু ভেবেছেন?

দিন্দা : এটা নিয়ে কোনও মন্তব‌্য করতে পারব না এখন। আগে দেখি কী দায়িত্ব পাই, তারপর বলব। তাছাড়া খেলাধূলার উন্নতির জন‌্য কিছু করতে গেলে মন্ত্রী হতে হবে, সেটা কোথায় লেখা আছে? স্পোর্টস আমার হৃদয়ের মধ্যে রয়েছে। আমি চোখ খুললেই স্পোর্টস দেখি। তাই স্পোর্টসের জন‌্য কিছু করা, কিংবা কোনও সাজেশন দেওয়ার জন‌্য মন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই।

প্রশ্ন : বাংলা ক্রীড়ায় এখন অনেক ক্ষেত্রেই স্বজনপোষণ দেখা যায়। অনেকে অভিযোগ করছেন, পরিবার সচ্ছল হলে সুযোগ আসছে। অনেক প্রতিভা রয়েছে, যারা দারিদ্র্যর জন‌্য হারিয়ে যাচ্ছে।

দিন্দা : আগামী দিনে সবাই সুযোগ পাবে। যাঁরা প্রতিভাবান তাঁরা সবাই সুযোগ পাবেন। গরিব-বড়লোক বলে কোনও ভেদাভেদ থাকবে না। আমি ব‌্যাপারটা ওই ভাবে দেখি না। অনেক বড়লোক বাড়িতেও প্রতিভাবান ছেলে রয়েছে। কোনও ভেদাভেদ হতে দেব না। যাঁরা যোগ‌্য, তাঁরা সুযোগ পাবেন। সহজ কথা, বাংলা ক্রীড়ায় কোনও স্বজনপোষণ এরপর থেকে আর চলবে না। প্রতিভাকে তুলে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমাদের। যে কোনও বিষয়েই হোক না কেন। কেউ পড়াশোনায় ভালো হতে পারে। কেউ খেলায় ভালো হতে পারে। কেউ হাতের কাজে ভালো হতে পারে। ট‌্যালেন্টকে সাপোর্ট করতে হবে। ট‌্যালেন্টকে ব‌্যাকআপ দিতে হবে। তবেই তো এগোবে বাংলা। আমি বিশ্বাস করি, সব জায়গায় যোগ‌্য লোক প্রয়োজন। আগের সরকারের সময় কী হত দেখতেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের ভাই বলে একজন সাত-আটটা ক্রীড়া সংস্থার সর্বেসর্বা হয়ে বসে থাকতেন। আদৌ তিনি কি কিছু বুঝতেন? এতে বাংলার খেলাধুলা শেষ হয়ে যাচ্ছিল।

স্পোর্টস আমার হৃদয়ের মধ্যে রয়েছে। আমি চোখ খুললেই স্পোর্টস দেখি। তাই স্পোর্টসের জন‌্য কিছু করা, কিংবা কোনও সাজেশন দেওয়ার জন‌্য মন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই।

প্রশ্ন : প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার হিসাবে এর আগে লক্ষ্মীরতন শুক্লা আর মনোজ তিওয়ারি প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন?

দিন্দা : হ‌্যাঁ। কিন্তু ওদের দু’জনের থেকে আমার লড়াইটা অনেক আলাদা ছিল। ওরা শাসক দলে থেকে মন্ত্রী হয়েছিল। আমি পাঁচ বছর বিরোধী থেকে লড়াই করার পর এই দায়িত্ব পেয়েছি। এর তৃপ্তি আলাদা। গত পাঁচ বছরে অনেক কিছু শিখেছি। দেশের হয়ে খেলার জন‌্য কিছু পরিচিতি আমার আছে। নিজেকে সেলিব্রিটি ভেবে এসি ঘরের মধ্যে আটকে রাখেনি। রাস্তায় নেমে কাজ করেছি। মানুষের পাশে থেকেছি। তৃণমূল সরকারের তথাকথিত সেলিব্রিটিরা কখনও রাস্তায় নেমে কাজ করেছিল? আমার লড়াইটা সম্পূর্ণ আলাদা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement