একজন দেশান্তরি। আরেক জন অন্তরালে। একজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা। আরেকজনের বিরুদ্ধে খুন ও দুর্নীতির মামলা। একজনের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেকজন দেশে ফিরলেই খুনের হুমকি পেয়েছেন। বস্তুত গত ১৭ মাসের অরাজকতার বাংলাদেশে ক্রীড়াজগতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দুজনের নাম শাকিব আল হাসান এবং মাশরাফি মোর্তাজা (Shakib Al Hasan-Mashrafe Mortaza)। সরকার বদলাতেই সম্ভবত এঁদের দুজনের ভাগ্যোদয় হতে চলেছে। বিএনপি সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকার তাঁদের মামলাগুলি তোলার ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা করছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি আওয়ামি লিগের তৎকালীন সাংসদ শাকিব। এর মধ্যে একপ্রকার জাতীয় দল থেকেই বিতড়িত হন তিনি। বাধ্য হয়ে অবসর ঘোষণা করলেও একাধিকবার জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শাকিবের পাশে দাঁড়ায়নি। মাশরাফি বিন মোর্তাজাকেও গত দেড় বছর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তিনিও রয়েছেন অন্তরালে। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই দু'জনের অবদান অপরিসীম।
বাংলাদেশের নতুন বিএনপি সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তথা সে দেশের ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক আমিনুল হক বরাবরই শাকিব-মাশরাফির পাশে। আগেও তিনি ইউনুস সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, "শাকিব বা মাশরাফিরা বন্দুক নিয়ে গণহত্যা করেছে এটা বিশ্বাস করি না।" ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েই তিনি ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন, এবার সত্যি সত্যিই আওয়ামি জমানার দুই সাংসদকে দেশে ফেরাতে উদ্যোগী বাংলাদেশ সরকার।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থে দুই কিংবদন্তিকে কাজে লাগাতে চান আমিনুল। কিন্তু কীভাবে? দু'জনের বিরুদ্ধেই খুনের মামলা। আমিনুল সাফ বলছেন, "আমরা চাই, যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা যেন দ্রুত ফিরে আসতে পারে।" আমিনুলের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই দু'জনকে ক্রিকেটের মূলস্রোতে ফেরাতে তাঁদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলি হয়েছে সেগুলি প্রত্যাহার করতে চায় বিএনপির সরকার।
