বাংলাদেশ ক্রিকেটে অশান্তি তো কমছেই না। বরং ডামাডোল উত্তরোত্তর বাড়ছে। আগামী মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ভারতে আসবে কি না, এখনও নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশ বোর্ড আইসিসিকে জানিয়েছে, তারা কোনও অবস্থাতেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। তারই মধ্যে নতুন নাটক বেঁধে গেল পদ্মাপারের ক্রিকেটে। তামিম ইকবালকে 'ভারতের দালাল' বলা বাংলাদেশ বোর্ড ডিরেক্টর নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ চাইলেন সে দেশের ক্রিকেটাররা! পরিষ্কার বলে দেওয়া হল, নাজমুল ইস্তফা না দিলে কোনও ফরম্যাটেই আর খেলবেন না ক্রিকেটাররা!
ঠিক কী ঘটেছে?
বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক তামিমকে নিয়ে মহাবিতর্কিত মন্তব্য করে সে দেশের ক্রিকেট সমাজের চক্ষুশূল হয়েছিলেন নাজমুল। যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন বর্তমান টিমের ক্রিকেটাররাও। এবং সেখানেই ক্ষান্ত দেননি বাংলাদেশ বোর্ড ডিরেক্টর। বুধবার তিনি ফের বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন। বলে দেন, একবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেললে আহামরি কোনও ক্ষতি হবে না। আর কোটি-কোটি টাকা খরচ করে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ খেলতে পাঠানোর পরেও যদি তাঁরা কিছু না করতে পারেন, তখন কী হবে? ক্রিকেটারদের থেকে কি টাকা ফেরত চাওয়া হবে?
ব্যস, এরপরই ধৈর্যের সব বাঁধ ভেঙে যায় ক্রিকেটারদের। বাংলাদেশের ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার সংস্থার প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মিঠুন স্পষ্ট বলে দেন, নাজমুল ইসলাম যদি পদত্যাগ না করেন, তা হলে ক্রিকেটাররা কোনও ধরনের ক্রিকেটই খেলতে নামবেন না! না টেস্ট, না ওয়ানডে, না টি-টোয়েন্টি, না বিপিএল-কিছুই না। প্রসঙ্গত, আজ বৃহস্পতিবার দু'টো বিপিএলের ম্যাচ রয়েছে। যা ক্রিকেটারদের ঘোষণার পর ঘোর সংকটে।
আর শুধু ক্রিকেটাররা নন। নাজমুলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ বোর্ডও। এ দিন নাজমুলের বিতর্কিত মন্তব্যের পর দ্রুত একটা বিবৃতি জারি করে বাংলাদেশ বোর্ড। সেখানে বলা হয়, 'উনি যা বলেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখনজক, অসম্মানজনক। বাংলাদেশ বোর্ড যে মনোভাব নিয়ে চলে, তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যদি সংস্থার কোনও ডিরেক্টর বিতর্কিত কোনও মন্তব্য করে থাকেন, তার দায় বোর্ড নেবে না। বোর্ডের মুখপত্র যতক্ষণ না কোনও বিবৃতি দিচ্ছেন, ততক্ষণ সেটা আমাদের সরকারি বয়ান নয়।'
