বাংলাদেশের ক্রিকেটার নইম হাসান সে দেশেরই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য পদ্মাপারের দেশে। ক্রিকেটারের দাবি, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ খেলে চট্টগ্রামে নিজের বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের হাতে হেনস্তা ও মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় অবিলম্বে তদন্তের দাবি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর থেকে সিএনজি অটোয় বাড়ি ফিরছিলেন নইম। অভিযোগ, পথে কয়েকজন পুলিশকর্মী অটো থামিয়ে তাঁকে জোর করে অন্য একটি অটোতে তুলে নিয়ে যান। সেই সময় তিনি বারবার নিজের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ তা শুনতে চায়নি। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নইম বলেন, “আমি বারবার নিজের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। তাতে ওরা বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি। আমাকে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারা হয়। পরে পুলিশ স্টেশনেও গিয়ে নিজের পরিচয় দিই। তখন অফিসার ইন-চার্জ আমাকে চোখ নামিয়ে কথা বলতে বলেন।”
শনিবার তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পুলিশের মারধরে আহত হওয়ায় হাসপাতালে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসাও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের হয়ে ১৪টি টেস্ট খেলা এই স্পিনার। তাঁর বক্তব্য, “ওরা পুলিশকর্মী হলে আমাকে পুলিশের গাড়িতে তুলতেন। অটোতে কেন তুললেন? আমি এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত চাই। ন্যায়বিচার চাই।” এদিকে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, পুলিশকর্মীরা সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করেননি। আমরা আশ্বস্ত করছি, নইম ন্যায়বিচার পাবেন। কেউ অন্যায় করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, আপাতত ওই তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এক বিবৃতিতে বোর্ড জানিয়েছে, “জাতীয় দলের ক্রিকেটার নইম হাসানের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।” বাংলাদেশ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমও নইমের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “নইমের সঙ্গে যা হয়েছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। একজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমি এই ঘটনা নিন্দা করছি। নইম, আমরা তোমার পাশে আছি।” এখন বিসিবির হস্তক্ষেপে প্রকৃত সত্য সামনে আসে কি না, সেটাই দেখার।
