বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের ভেন্যু বদলে দিয়েছে আইসিসি। গতবার লর্ডসে দর্শকভর্তি স্টেডিয়ামে ফাইনাল সফল হওয়ার পর আগামী তিন বছর ইংল্যান্ডেই ফাইনাল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৭ সালের ফাইনাল আর লর্ডসে নয়, হবে ওভালে।
আগামী বছর ৯ থেকে ১৩ জুন লন্ডনের ঐতিহাসিক দ্য ওভালে হবে শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ। এর আগে ২০২৩ সালের ডব্লিউটিসি ফাইনালও ওভালেই হয়েছিল। সেই ম্যাচে ভারতকে ২০৯ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রশ্ন হল, লর্ডসে কেন হবে না টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল? লর্ডস ক্রিকেট মাঠের দেখভাল করে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। তারা জানিয়েছে, মাঠের পিচের মান উন্নত করার কাজ শুরু হবে। তাই আগামী বছরের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল লর্ডসে আয়োজন করা সম্ভব হবে না।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড আইসিসিকে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে লর্ডসের পিচের অবস্থা ভালো নয়। তাই ফাইনালের ভেন্যু বদলানোর অনুরোধ করা হয়। গত মাসে প্রথমবারের মতো লর্ডসের পিচ আইসিসির কাছে ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছে। ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড টেস্টের পিচকে আইসিসি 'অসন্তোষজনক' আখ্যা দিয়েছে। এরপরই এমসিসি পিচ সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এমসিসির আশা, ভবিষ্যতে আবার লর্ডসেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল হবে। সূত্রের খবর, ২০২৯ সালের ফাইনাল আবার লর্ডসে আয়োজন করা হতে পারে। তবে তার আগে পিচের মান উন্নত হয়েছে কি না, তা দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইসিসি আগেই জানিয়েছিল, ২০২৭, ২০২৯ এবং ২০৩১– পরপর তিনটি ডব্লিউটিসি ফাইনালই ইংল্যান্ডে আয়োজিত হবে। ফলে টানা চারটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের আয়োজক দেশ হচ্ছে ইংল্যান্ড। এর আগে ২০২১ সালের ফাইনাল সাউদাম্পটনে এবং ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ফাইনাল যথাক্রমে দ্য ওভাল ও লর্ডসে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে কোন দুই দল মুখোমুখি হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বর্তমান পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে রয়েছে। তাদের টানা দ্বিতীয় ডব্লিউটিসি ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা জোরাল।
গত বারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। নিউজিল্যান্ড তৃতীয় স্থানে থেকেও ফাইনালের দৌড়ে ভালোভাবেই রয়েছে। অন্যদিকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সামনে কঠিন লড়াই। ২০২১ ও ২০২৩ সালের ফাইনালিস্ট ভারত বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে। ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে আগামী টেস্ট সিরিজগুলোতে ধারাবাহিক ভালো ফল করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই টিম ইন্ডিয়ার সামনে।
