রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়: গিরগিটির মতো মিনিটে মিনিটে রং বদলাচ্ছে বিসিবি! অনিচ্ছা সত্ত্বেও এবার ভারতে খেলতে আসার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আইসিসিতে চিঠি দিতে চলেছে বাংলাদেশ বোর্ড। নেপথ্যে ইউনুস প্রশাসনের চাপ। যা খবর তাতে, শুরুতে ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর দাবি জানাতে রাজি ছিলেন না বিসিবি কর্তারা। কিন্তু এরই মধ্যে আসরে নেমে পড়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বোর্ড কর্তাদের রীতিমতো চাপ দেওয়া হয় ভেন্যুবদলের দাবি জানাতে। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে না দেওয়ায় অপমানিত, ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু বিসিসিআইয়ের মতো শক্তিশালী সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করার ক্ষমতা তাদের নেই। সেটা মেনে নিয়েছেন সেদেশের বোর্ড প্রেসিডেন্ট আমিনুল হক বুলবুল। শনিবার রাতে অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অনেকটাই বাস্তবপন্থী অবস্থান নেয় বিসিবি। তাঁরা অনুভব করে, মাত্র একমাসের মধ্যে ভেন্যুবদলের ভাবনা অবাস্তব। তাছাড়া, এখন আইসিসির চেয়ারম্যান ভারতের জয় শাহ। তিনি একই সঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্রও। ফলে বাংলাদেশ যদি আইসিসি-র দ্বারস্থ হয়, তাতেও কতটা লাভ হবে সংশয় ছিল। সব ভেবে বিসিবি ঠিক করে, আইসিসিকে একটি চিঠি দেওয়া হবে। তাতে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত নিয়ে জানতে চাইবে তারা। ভেন্যুবদলের দাবি থাকবে না।
কিন্তু রবিবার সকালে পরিস্থিতি বদলে যায়। বিসিবি যে ভেন্যুবদলের দাবি জানাচ্ছে না, সেটা জানামাত্রই আসরে নামে ইউনুস প্রশাসন। সরকারের শীর্ষস্তর থেকে বোর্ডকর্তাদের সাফ বলে দেওয়া হয়, শুধু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। ভারত থেকে ম্যাচ সরানোরই দাবি জানাতে হবে বিসিবিকে। আর কোনও বিকল্প নেই। সরাসরি সরকারের শীর্ষস্তর থেকে চাপ আসায় খানিকটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও আইসিসিকে ভেন্যুবদলের দাবি জানিয়ে ই মেইল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। যদিও বোর্ড কর্তারা নিজেরাও জানেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। সরকারের আধিকারিকদের সেটা বোঝানোর চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু মৌলবাদী ইউনুস প্রশাসন নিজেদের অবস্থানে অনড়। কোনওভাবেই ভারতে দল পাঠানো হবে না।
আজ ফের বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, " বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতির প্রেক্ষিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।" নজরুলের পোস্টে আরও স্পষ্ট যে, সরকারের চাপেই অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছে বিসিবি। অর্থাৎ বোর্ড এবং সরকারের সংঘাত স্পষ্ট।
