শচীন রমেশ তেণ্ডুলকর। বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার। ভক্তরা যাঁকে বলেন ক্রিকেট ঈশ্বর। একটা সময় গোটা দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটভক্তের আশা-ভরসা-ভালোবাসার বোঝা যিনি বয়েছেন একার কাঁধে। সেই শচীন তেণ্ডুলকরকেও নাকি কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসে বাদ পড়ার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করলেন তৎকালীন নির্বাচকপ্রধান সন্দীপ পাতিল।
সালটা ২০১২। শচীনের কেরিয়ার তখন পড়তির মুখে। একবছর আগে বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। তারপর আর সেভাবে রান পাননি শচীন। ২০১২ সালে টেস্টে তাঁর গড় ছিল মোটে ২৩.৮০। ৯ টেস্টে একটিও সেঞ্চুরি পাননি। ১০টি ওয়ানডে-তে তাঁর গড় ছিল ৩১.৫০। সেই পড়তি ফর্ম দেখে নির্বাচকরা সিদ্ধান্ত নেন, এবার শচীনের বদলির প্রয়োজন। এবং সেটা সরাসরি শচীনকে বলেও দেওয়া হয়।
নির্বাচক প্রধান সন্দীপ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শচীনের কাছে গিয়ে তিনি সরাসরি বলে দেন, "তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?" শচীন পালটা জিজ্ঞেস করেন, কেন? তারপরই সন্দীপ বলে দেন, "আমরা তোমার পরিবর্ত খুঁজছি।" মাস্টার ব্লাস্টার নাকি চমকে যান। পালটা প্রশ্ন করেন, "আপনি কি সত্যি সত্যিই এমনটা ভাবছেন।" তাতে সন্দীপ দৃঢ় ভাষায় বলে দেন, "হ্যাঁ আমরা সত্যিই তোমার বদলি খুঁজছি।"
ঘটনাচক্রে পরের বছরই ক্রিকেটকে বিদায় জানান মাস্টার ব্লাস্টার। দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা ছিল, শচীনের অবসরের নেপথ্যে নাকি বিসিসিআইয়ের চাপ ছিল। সেই জল্পনাই এবার একপ্রকার সিলমোহর দিয়ে দিলেন সন্দীপ। যদিও তাঁর দাবি, শচীনকে বাদ দেওয়ার জন্য তাঁকে মনে রাখা হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। তাঁর আমলে আরও অনেক ভালো ক্রিকেটার দলে এসেছেন। সে কথা কেউ মনে রাখা না। মনে রাখবেনই বা কেন? যারা এসেছেন তাঁরা হয়তো ভারতীয় ক্রিকেটের নক্ষত্র। কিন্তু কেউই তো আর শচীন তেণ্ডুলকর নন।
