একটা সময় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল বাংলার। একটা সময় মনে হচ্ছিল, বড় লিড না পেয়ে যায় অন্ধ্র! তবে সেসব আশঙ্কা দূর করে সুদীপ ঘরামির লড়াকু ডবল সেঞ্চুরিতে ভর করে সেমির স্বপ্নে বিভোর বঙ্গ ব্রিগেড। তৃতীয় দিনের শেষে ইতিমধ্যেই ১২৩ রানে লিড নিয়েছে অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল।
২৬ বছরের এই ক্রিকেটার দ্বিতীয় দিন নট আউট ছিলেন ১১২ রানে। ২২ রানে তাঁর সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন সুমন্ত গুপ্ত। তখনও ৯৬ রানে পিছিয়ে বাংলা। সুদীপ-সুমন্তর জুটির দিকে তাকিয়ে গোটা দল। তাঁরা মর্যাদা রাখলেন। প্রথম ইনিংসে অন্ধ্রপ্রদেশের ২৯৫ রানের জবাবে একটা সময় ১৫৩ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছিল বাংলা। সেখান থেকে তাঁদের জুটিতে উঠল ১৬৫ রান। তাঁদের সৌজন্যেই অন্ধ্রের রান পিছনে ফেলে বাংলা।
৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে যখন সাজঘরে ফিরছেন সুমন্ত, বাংলার স্কোর বোর্ডে তখন ৩১৮। কিন্তু কে জানত, পিকচার আভি বাকি হ্যায়! আটে নেমে জমে গেলেন উইকেটরক্ষক শাকির গান্ধী (৪৫*)। টলানো গেল না সুদীপের মজবুত ডিফেন্সকেও। দিনের শেষে ডবল সেঞ্চুরি করলেন সুদীপ কুমার ঘরামি। তিনি অপরাজিত ৪৫১ বলে ২১৬ রানে। যতবার দল বিপাকে পড়েছে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন সুদীপ। চলতি মরশুমের রনজিতেও কথা বলেছে তাঁর ব্যাট। কোয়ার্টার ফাইনালেও এর ব্যতিক্রম হল না।
যদিও সমর্থকদের মনে বাংলা দলকে নিয়ে একটা আশঙ্কা আছেই। নকআউটে গিয়ে প্রত্যাশার কাছে বারবার পর্যুদস্ত হয় তারা। দু'টো মরশুম আগেও আশা জাগিয়ে সৌরাষ্ট্রর কাছে হেরে গিয়েছিল বাংলা। সেই স্মৃতি এখনও দগদগে। কিন্তু ন্যাড়া বারবার যে বেলতলা যেতে পারে না, সে কথাই ছেলেদের ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। রনজিতে এখনও পর্যন্ত বাংলার যা পারফরম্যান্স, তাতে এই দলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখাই যায়। তৃতীয় দিনের শেষে ১২৩ রানে এগিয়ে বঙ্গ ব্রিগেড। বড় কোনও অঘটন না হলে ম্যাচ প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছানো এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তবে এখান থেকে জিততেও পারে বাংলা। কারণ দলে রয়েছে মহম্মদ শামি, আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার, শাহবাজ আহমেদের মতো আন্তর্জাতিক মানের বোলাররা।
