জাসসি জ্যায়সা কোয়ি নেহি। 'জাসসি' অর্থাৎ জশপ্রীত বুমরাহ। প্রায় পাঁচশো রানের একটা টি-টোয়েন্টি যুদ্ধে ডেথ ওভারে এসে স্রেফ ১৪ রান দিয়ে গেলেন যিনি। সঞ্জু স্যামসনের ৪২ বলে ৮৯ রান কিংবা অক্ষর প্যাটেলের দুর্ধর্ষ দুই ক্যাচের সঙ্গে সমানভাবে বন্দিত বুমরাহর স্পেল। সঞ্জু স্যামসন যেমন সিরিজ সেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে সটান বলে দেন, "বুমরাহর মতো বোলার লাখে একটা হয়"। তেমনই বুমরাহকে (Jasprit Bumrah) 'কোহিনুরের থাকে দামি' বললেন যুজবেন্দ্র চাহাল।
সেমিফাইনালে চার ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। একটা সময় ভয় ধরানো ব্যাটিং করছিলেন জ্যাকব বেথেল। কঠিন সময়ে মাথা ঠান্ডা রেখে স্মরণীয় সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। একশো চল্লিশ কোটি ভারতবাসী তখন যেন সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। কিন্তু কবির কথায় ‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে’। সূর্যের ঔজ্জ্বল্য আনলেন স্বয়ং বুমরাহ। নিজের তৃতীয় ওভারে দিলেন মাত্র ৮ রান। এরপর ১৮তম ওভারে যখন বল করতে এলেন, ইংল্যান্ডের দরকার ১৮ বলে ৪৫। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটুকু রান হয়েই যায়। কিন্তু কেন তিনি বিশ্বের সেরা পেসার, প্রমাণ করে দিলেন। দিলেন মাত্র ৬ রান। ওই ওভারটাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল।
ম্যাচের পর সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে চাহাল বলেন, "এমনি এমনি তো বুমরাহকে জাতীয় সম্পদ বলা হয় না। ওর পা ধুয়ে জল খাওয়া উচিত।" চাপের মুখে যেভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে বল করেছেন ভারতীয় পেসার, তার প্রশংসা করেন এই লেগস্পিনার। "ও না থাকলে ফাইনালে উঠত না ভারত।" বলে দিলেন চাহাল।
তিনি আরও বলেন, "অমন একটা রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে ও কিন্তু এতটুকু নার্ভাস ছিল না। তাই দলের সবাই তার উপর ভরসা করে। আমাদের একটা বুমরাহ আছে, কোহিনুর চাই না।" উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বুমরাহ। অষ্টম ভারতীয় বোলার হিসাবে এই কীর্তি স্থাপন করেন তিনি।
