‘রক্ষাকর্তা’ সুদীপ কুমার ঘরামির সৌজন্যে প্রথম দিন লড়াইয়ে ফিরেছিল বাংলা। সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, অনুষ্টুপ মজুমদারদের ব্যর্থতার দিনে উজ্জ্বল ছিল তাঁর ব্যাট। সুদীপের ঝাঁ-চকচকে সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথম ইনিংসে বড় রানের স্বপ্ন দেখছিল বঙ্গ ব্রিগেড। যদিও অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বাংলার স্কোর বোর্ডে ৩২৮ রানের বেশি রান উঠল না। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে জম্মু-কাশ্মীরের রান ৫ উইকেটে ১৯৮। তবে রনজি সেমিতে বাংলাকে ভোগাল ক্যাচ মিস। নাহলে আরও ভালো জায়গায় থাকত বাংলা।
৫ উইকেটে ২৪৯ রানে খুইয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল। তবে শুরুটা ভালো হল না। গত কালের স্কোরের সঙ্গে মাত্র ১০ রান যোগ করে আকিব নবির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন সুদীপ। এরপর বাংলার ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার পালা। একে একে ব্যর্থ হলেন শাকির হাবিব গান্ধী (৫), আকাশ দীপ (৭), মহম্মদ শামিরা (১)। ‘কাশ্মীর এক্সপ্রেস’ আকিব নবির বলে তখন থরহরিকম্প অবস্থা বাংলার ব্যাটারদের।
শেষের দিকে চালিয়ে খেলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন সুমন্ত গুপ্ত। তিনি করেন ৩৬ বলে ৩৯ রান। যদিও যুধবীর সিংয়ের বলে আউট তিনি আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার ইনিংস গুটিয়ে যায় ৩২৮ রানে। ৮৭ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। গত মরশুমে রনজি ট্রফিতে আকিব পেয়েছিলেন ৪৪ উইকেট। তিনিই ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটপ্রাপক। চলতি মরশুমেও জম্মু-কাশ্মীরের পেস বোলিং ইউনিটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ৫১ উইকেটে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। ৫২ উইকেট নিয়ে তাঁর ঠিক আগে উত্তরাখণ্ডের ময়াঙ্ক মিশ্র। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি গ্রাউন্ডেও ফর্মে অবিচল থাকলেন তিনি।
জুটি ভাঙার চেষ্টায় শাহবাজ আহমেদ। ছবি অমিত মৌলিক।
জম্মু-কাশ্মীর যদি নবিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে, তাহলে বাংলার পেস অ্যাটাকেও শামি-আকাশ-মুকেশরা রয়েছেন। যে বোলিং অ্যাটাক এই মুহূর্তের ভারতের সেরা। তাঁদের সামনে প্রথম ইনিংসের শুরুতে বেশ বেকায়দায় পড়েন জম্মু-কাশ্মীরের ব্যাটাররা। মহম্মদ শামির ইনকাটারে ঠকে সাত-তাড়াতাড়ি ফেরেন শুভম খাজুরিয়া (৩) এবং ইয়াওয়ের হাসান খান (২)। মুকেশ কুমারের বলে শুভম পুন্দিরও (৮) ব্যর্থ হন। ১৩ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে সেই সময় প্রবল চাপে জম্মু-কাশ্মীর।
যখন মনে হচ্ছিল, বড় রানের লিড পেতে চলেছে বাংলা সেই সময় রুখে দাঁড়ান অধিনায়ক পরশ ডোগরা এবং আবদুল সামাদ। তবে মুকেশ কুমারের বলে পরশের ক্যাচ ফেললেন বাংলার উইকেটকিপার হাবিব গান্ধী। তখন মাত্র ৯ রানে ব্যাট করছিলেন। প্রাণ ফিরে পেয়ে রনজি ট্রফির ইতিহাসে ওয়াসিম জাফরের পর দ্বিতীয় ব্যাটার হিসাবে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। অবশেষে সেই মুকেশের বলেই ৫৮ রানে সাজঘরে ফিরলেন। তার আগে আবদুল সামাদের সঙ্গে জুটিতে উঠেছে ১৪৩ রান। এর ঠিক আগের ওভারেই শামির বলে ফিরেছিলেন আবদুল সামাদ (৮২)। দিনের শেষে জম্মু-কাশ্মীরের রান ৫ উইকেটে ১৯৮। এখনও ১৩০ রানে পিছিয়ে তারা। বাংলার হয়ে শামি ও মুকেশ কুমার নিয়েছেন ৩ ও ২টি উইকেট। এখন বঙ্গ ব্রিগেডের সামনে একটাই লক্ষ্য, তৃতীয় দিনে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া।
অন্য সেমিতে কেএল রাহুল এবং দেবদত্ত পাড়িক্কলের সৌজন্যে উত্তরাখণ্ডের বিপক্ষে চালকের আসনে কর্নাটক। দ্বিতীয় দিনের শেষে তাদের রান ৬ উইকেটে ৬৮৯। রাহুলের নামের পাশে ১৪১ রান। অন্যদিকে, ২৯ চার ও তিন ছক্কায় সাজানো পাড়িক্কলের ২৪২ রানের দুরন্ত ইনিংস। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন স্মরণ রবিচন্দ্রনও (১২১*)। করুণ নায়ারের সংগ্রহ ৬০ রান।
