আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের কাছে দুরমুশ হয়েছে পাকিস্তান। গত বছর এশিয়া কাপে পাকিস্তানে ৩ ম্যাচে হারানোর পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব রাখঢাক না করেই বলে দিয়েছিলেন, ইদানীং আর ভারত-পাকিস্তান (India Vs Pakistan) ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। তাঁর কথাটা যে কতটা সঠিক, সেটা আবারও প্রমাণ হয়েছে রবিবারের ম্যাচে। ভারতীয় দলের কাছে পাকিস্তান কেবল সাধারণ একটা প্রতিপক্ষ। শত্রুতার কথা মাথাতেই রাখে না টিম ইন্ডিয়া। ম্যাচের পর এমনই বললেন ভারতীয় স্পিনার অক্ষর প্যাটেল (Axar patel)।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২ উইকেট তুলে ভারতের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন অক্ষর। তিনি সাজঘরের রাস্তা দেখান বাবর আজম এবং উসমান খানকে। সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ভারতীয় অলরাউন্ডার বলেন, "নিজেদের শক্তির উপর সব সময় ভরসা রাখি আমরা। শত্রুতা বা অন্য কিছু নিয়ে ভাবি না। লড়াইটা ভারতের ব্যাটিং বনাম পাকিস্তানের বোলিং, এমন কিন্তু নয়। পাকিস্তান আমাদের কাছে স্রেফ একটা প্রতিপক্ষ। আমাদের নির্দিষ্ট একটা পরিকল্পনা থাকে। সেটাই প্রয়োগ করি। নিজেদের শক্তি কাজে লাগিয়ে জেতার চেষ্টা করি। সেটাই করেছি।"
ভারতীয় অলরাউন্ডারের কথায়, "সবার আগে অলরাউন্ডারকে টিমম্যান হতে হবে। দলের চাহিদা অনুযায়ী আপনাকে বোলিং কিংবা ব্যাটিং করতে হবে। আমাকে যখন উপরের দিকে ব্যাট করতে বলা হয় বা আমার হাতে বল তুলে দেওয়া হয়, তখন আমি মনে করি দল আমার প্রতি বিশ্বাস রেখেছে।"
ভারতীয় অলরাউন্ডার আরও বলেন, "অলরাউন্ডার হিসাবে কী করতে হবে, সে ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। যারা সাত বা আট নম্বরে ব্যাট করতে নামে, তাদের কী ভূমিকা নিতে হবে, সব কিছু বলা থাকে। সবার আগে অলরাউন্ডারকে টিমম্যান হতে হবে। দলের চাহিদা অনুযায়ী আপনাকে বোলিং কিংবা ব্যাটিং করতে হবে। আমাকে যখন উপরের দিকে ব্যাট করতে বলা হয় বা আমার হাতে বল তুলে দেওয়া হয়, তখন আমি মনে করি দল আমার প্রতি বিশ্বাস রেখেছে। সেই আস্থার মর্যাদা দিতে চেষ্টা করি। আমাকে হয়তো পরের ম্যাচে উপরের সারিতে ব্যাট করতেও দেখতে পারেন।" ঈশান কিষানের ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস যে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে, সে কথাও তিনি বলেছেন।
ইতিহাস বলছে, টি-২০ বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচের মধ্যে একমাত্র ২০২১ সাল বাদে প্রতিবার হেরেছে পাকিস্তান। ২০২১ সালের সেই হারের পর ভারতীয় ক্রিকেটে আমূল বদল আসে। অধিনায়কত্বের ব্যাটন বিরাটের হাত থেকে যায় রোহিতের হাতে। তারপর দু’টো আইসিসি ট্রফি এসেছে টিম ইন্ডিয়ার ঝুলিতে। অথচ বছরের পর বছর ধরে বদলাচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেট। দিন দিন যেন দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছেন সলমন আলি আঘারা। ভারত-পাকিস্তানের যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটা সময় ক্রীড়াজগতে সুবিদিত ছিল। যে ম্যাচের আগে তো বটেই ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা থাকত, সেসব যেন কোথায় হারিয়ে গিয়েছে পাক দলের অপদর্থতায়! টানটান মহারণের বদলে একপেশে এই ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচ দুই চিরশত্রুর চিরন্তন লড়াইকে কলুষিত করে তুলছে। হয়তো সেকথারই অনুরণন শোনা গেল অক্ষর প্যাটেলের কথায়।
