'হাল ছেড়ো না বন্ধু...।' পূর্ব বর্ধমানের রায়নার দরিদ্র পরিবারের ছেলে সৌমেন চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের মূলমন্ত্র যেন এটাই। সকলের অগোচরে নিজের লড়াই লড়ে গিয়েছেন। অভাব সামলে ক্রিকেটের সাধনা চালিয়ে গিয়েছেন। এবার তাঁর উপর হাজার ওয়াটের আলো পড়ার অপেক্ষা। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসে সুযোগ নেট বোলার পেলেন ২০ বছরের বাঙালি পেসার। মূল দলে জায়গা পেতে আরও কঠিন লড়াই চালিয়ে যেতে চান সৌমেন।
রায়নার রামবাটির বাসা গ্রামের এক অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া সৌমেনের। বাবা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় দিনমজুর। ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটই ভালোবাসা সৌমেনের। শাকনারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর খেলাধূলার প্রতি ঝোঁক আরও বাড়ে। এদিকে বাড়িতে অভাব। তাহলে কি ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে? না। অভাব সত্ত্বেও পরিবার ছিল তাঁর পাশে। মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায় বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে ছেলের স্বপ্নপূরণের রাস্তা খোলা রাখেন।
ছবিটি পরিবারের থেকে পাওয়া গিয়েছে। এর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল
জামালপুরের নেতাজি ক্লাবে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান সৌমেন। কিন্তু স্বপ্ন যে আরও বড়। তাই একটা সময় পর পাড়ি দেন কলকাতায়। বিভিন্ন ক্লাবে অনুশীলনের পাশাপাশি কালীঘাটের একটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন। নিজের খরচ চালাতে নিয়মিত পরিশ্রম করে যেতে হয়েছে। কষ্ট কখনও পিছু ছাড়েনি। এরপর সুযোগের খোঁজে মুম্বই পাড়ি দেন। সেখান থেকে দিল্লি হয়ে আবার কলকাতায় ফিরে আসেন।
ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে পরিশ্রমের ফল পেলেন সৌমেন। এবার রাজস্থান রয়্যালস দলের নেট বোলার হিসেবে তাঁকে ডাকা হয়েছে। ডানহাতি পেসার সৌমেন নেটে বৈভব সূর্যবংশী, রবীন্দ্র জাদেজা, যশস্বী জয়সওয়ালদের বল করার সুযোগ পাবেন। তাঁর হাতে দেওয়া হয়েছে দলের অফিসিয়াল আই-কার্ডও। গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে এত বড় মঞ্চে সুযোগ পাওয়ায় খুশি পরিবার ও এলাকার মানুষ। বাবা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, "সংসারে এতো অভাবের মধ্যেও ছেলে কখনও ক্রিকেট ছাড়েনি। সৌমেনের সাফল্যে আনন্দ বাঁধ মানছে না।" এর আগে নেট বোলার হিসেবে খেলেও অনেকে মূল দলে সুযোগ পেয়েছেন। সেটাকেই পাখির চোখ করছেন সৌমেন।
ছবিটি পরিবারের থেকে পাওয়া গিয়েছে। এর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল
