সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কখনও কখনও বিদায় বলা ভালো। বিশেষ করে বিদায়ের কাছাকাছি যে মানুষ থাকেন, তাঁর। ২০২৩ সালের জুন মাস। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল চলছে। প্যাট কামিন্সের বলে মাত্র ২৭ রানে আউট চেতেশ্বর পূজারা। সাজঘরে যখন ফিরছেন, বোঝা গিয়েছিল হয়তো বিদায়কালীন ইনিংস খেলে ফেলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটের সা-রে-গা-মা পেরিয়ে ওভালের সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে তিনিও হয়তো 'তৃতীয় চোখ' দিয়ে দেখতে পাচ্ছিলেন আগামীর পরিণতি।
তবুও ক্রিকেটারের মন... যা হয়তো সাত-জলদি বিদায় চায়নি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পর বাদ পড়েছিলেন। তারপরেও হাল ছাড়েননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার মরিয়া একটা চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু ততদিনে ভারতীয় দল পরিবর্তিত অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। লাল বলের ক্রিকেট অবসর নিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির মতো মহাতারকারা। শুরু হয়েছে 'গম্ভীর যুগ'। ইংল্যান্ডে গিয়ে নতুন ভারত সিরিজ ড্র করে ফিরেছে। আর এসবের মধ্যে পূজারা নামক 'বটগাছ'টিকে ভুলে গিয়েছেন অনেকেই। এমনকী সদ্য বাদ পড়েছিলেন দলীপ ট্রফির দল থেকেও।
সেই হতাশাতেই কি ক্রিকেটকে বিদায় বললেন পূজারা? 'বেদনাবিশ্বাসী' হয়েই কি এই অভিমান? যে মানুষটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রিজে দাঁড়িয়ে বোলারদের ক্লান্ত করে দিতে পারতেন, সেই মানুষটাকে হয়তো শ্রান্তি গ্রাস করে ফেলেছিল। ভুলে যাবেন না, টেস্ট অভিষেকের মাত্র বছরদুয়েকের মধ্যেই জীবনে প্রথমবার দ্বিশতরান হাঁকান পূজারা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের প্রথম টেস্টে ২০৬ রানে অপরাজিত থাকেন পূজারা। সেই শুরু। দেশের হয়ে ১০৩ টেস্ট খেললেও কখনও সেই অর্থে 'তারকা'র মর্যাদা পাননি।
ভুলে গেলে চলবে না, ২০১৮ সালে পূজারার করা শতরানের কথা। অ্যাডিলেডে একটা সময় মাত্র ৮৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ভারত। সেখান থেকে ভারতকে সঞ্জীবনী শক্তি দেয় পূজারার অবিস্মরণীয় ইনিংস। সেই টেস্টে ভারত জেতে তো বটেই, দুর্জয় অজিভূম থেকে সিরিজ জিতে ফেরে ভারত। পেসারদের বিষাক্ত ডেলিভারি শরীরে আঘাতের 'আলপনা' আঁকলেও তাঁকে দমানো যেত না সহজে। এভাবে কত যে ম্যাচ বাঁচিয়েছেন, তার হিসাব করতে বসলে মস্ত বড় উপন্যাস লেখা হয়ে যেতে পারে। পূজারা আসলে সেই নীরব যোদ্ধা, যিনি রাজাকে আগলে রেখে জীবন বাজি ধরতেও প্রস্তুত।
