টিম ইন্ডিয়ার কোচ হিসাবে বিতর্কিত এক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছিলেন চ্যাপেল। গ্রেগের জন্যই দল থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। সৌরভ ও অজি কিংবদন্তির সম্পর্ক নিয়ে সেই সময়ে কম চর্চা হয়নি। আইপিএলেও তাঁদের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়। সৌরভ-চ্যাপেল কিসসার সেই অজানা গল্প এবার চর্চায়।
সৌরভ জানিয়েছেন, ২০১১ সালে গ্রেগ চ্যাপেল তাঁকে ইমেল করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ হওয়ার কথা বলেছেন। তবে সেই প্রস্তাবের সঙ্গে শর্তও ছিল। সৌরভ অধিনায়ক থাকলে তবেই তিনি দলের কোচ হতে চান। একটি পডকাস্টে মহারাজ বলেন, "২০১১ সাল। আমি তখন কেকেআরে। সেই সময় একদিন সকালে ইংল্যান্ডে আমার বাড়িতে বসে ইমেল চেক করছিলাম। হঠাৎই গ্রেগ চ্যাপেলের একটি মেল চোখে পড়ে। প্রথমে মনে হয়েছিল, আমি কি এখনও ঘুমিয়ে আছি! পরে নাম আর ইমেল অ্যাডড্রেস বারবার মিলিয়ে দেখি। কারণ এখন অনেক সময় ভুয়ো ইমেলও আসে।"
ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় চ্যাপেল ও সৌরভের সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত হয়ে উঠেছিল। ২০০৫ সালে চ্যাপেল কোচ হওয়ার পর থেকেই তাঁদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। পরে সৌরভ অধিনায়কের পদ হারান। রাহুল দ্রাবিড় ভারতের নতুন অধিনায়ক হন। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের ভরাডুবির পর চ্যাপেলের কোচিং অধ্যায়ও শেষ হয়ে যায়। তাই বহু বছর পরে চ্যাপেলের এমন ইমেল পেয়ে সৌরভ নিজেও বিস্মিত হন। তিনি বলেন, "ও কেকেআরের কোচ হতে চেয়েছিল। আর আমি তখন দলের অধিনায়ক ছিলাম!" সৌরভের সংযোজন, "অনেকেই হয়তো ভাববেন, দাদা এতটাও বোকা হতে পারে না। একবার হয়তো ভুল করা যায়। কিন্তু একই ভুল দ্বিতীয় বার করা কঠিন।"
সৌরভ আরও জানান, বর্তমানে তিনি গ্রেগ চ্যাপেলের কোনও মেসেজের উত্তর দেন না। তাঁর মন্তব্য, "আমি ওর কোনও মেসেজের জবাব দিই না। যারা সৎ নয়, তাদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখতে পছন্দ করি না।" উল্লেখ্য, সৌরভের কেকেআর অধ্যায়ও সুখকর হয়নি। ২০০৯ সালে দলের কোচ জন বুকানন তাঁকে অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেন। পরে ২০১১ সালের আইপিএল নিলামের আগে কেকেআর তাঁকে ছেড়ে দেয়। গৌতম গম্ভীরকে নতুন অধিনায়ক করা হয়। ওই নিলামে প্রথমে কোনও দলই সৌরভকে নেয়নি। পরে তিনি বদলি ক্রিকেটার হিসাবে পুণে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়ায় যোগ দেন। ২০১১ ও ২০১২ মরশুমে তিনি সেখানেই খেলেন।
