নিজেকে কি আইসিসি'র থেকেও বড় ভাবছে বাংলাদেশ? বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করছে আইসিসি। অথচ তারপরও নিজেদের 'গোয়ার্তুমি' থেকে সরেনি বিসিবি। আইসিসি'র বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে তারা সাংবাদিক সম্মেলন করেছে, কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার চিঠির উত্তর দেয়নি। তাতে বেজায় চটেছে আইসিসি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে জয় শাহ পরিচালিত সংস্থা।
নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসতে চায়নি বাংলাদেশ। তারপর মিটিংয়ের পর মিটিং হয়েছে। আবেদনে সাড়া দেয়নি আইসিসি। উলটে বৃহস্পতিবারের ডেডলাইন দেওয়া হয় বিসিবিকে, বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলও জানিয়ে দেন, তাঁরা তাঁদের অবস্থান থেকে নড়ছেন না। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরোলেও বাংলাদেশ আইসিসিকে কোনও জবাবই দিতে পারেনি। সূত্রের দাবি, ঢাকা থেকে দুবাইয়ে আইসিসির সদর দপ্তরে কোনও চিঠি বা ইমেল পৌঁছায়নি।
যার ফলে আইসিসি ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী নয়। তাই দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপের পথে তাঁরা। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য নামিবিয়ায় ছিলেন। বাংলাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি দুবাইয়ে মিটিংয়ে বসতে চলেছেন। জানা গিয়েছে শনিবারই চূড়ান্ত নেবে আইসিসি। বিশ্ব নিয়ামক সংস্থার এক কর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, "আইসিসি বোর্ড সদস্যরা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের উপর প্রচণ্ড রেগে আছেন। গ্লোবাল বডিকে জানানোর আগেই কেন সাংবাদিক সম্মেলন করলেন তাঁরা? আসিফ নজরুলের সঙ্গে আইসিসি'র কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু বুলবুলের উচিত ছিল আইসিসি'কে জানানোর আগে সাংবাদিক সম্মেলন না করা।"
আইসিসির বৈঠকে আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনও জবাব না দিলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিচ্ছে আইসিসি। জানা গিয়েছে, খুব দ্রুত সরকারিভাবে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে সরকারিভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এমনকী তাদের ভিসা পেতে যাতে সমস্যা না হয়, সেটাও দেখবে আইসিসি। অন্যদিকে গ্লোবাল বডির বৈঠকে ১-১৪ ভোটের ব্যবধানে বাংলাদেশের আবেদন নাকচ হয়ে যায়। এবার শাস্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে বিসিবি। সেক্ষেত্রে 'ডিসপুট রিসলিউশন কমিটি' বা ডিআরসি'তে গিয়েও লাভ হবে না বাংলাদেশের।
