কথায় বলে ইটস নেভার টু লেট। কথাটা বোধহয় পুরোপুরি খেটে যায় সারাংশ জৈনের (Saransh Jain) ক্ষেত্রে। ভারতীয় ক্রিকেটে তারুণ্যের ছটার মধ্যেও ৩৩ বছরে দলে জায়গা করে নিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের স্পিনার-অলরাউন্ডার। ক্যানসারাক্রান্ত বাবার স্বপ্নপূরণ করে জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন সারাংশ। তারপর তাঁর বাবা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেই ফেললেন, "এই দিনটা দেখার জন্যই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়েছিলাম।"
বাবা সুবোধ জৈন নিজেও একসময় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতেন। মধ্যপ্রদেশের হয়ে রনজি খেলেছেন। তবে জাতীয় দলে খেলা হয়নি। সেই স্বপ্নপূরণ করেছেন ছেলে সারাংশ। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সুবোধ বলছেন, "আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না। যেন নিজের মধ্যে কোনও সাড়া পাচ্ছি না। যেন এই দিনটার জন্যই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়েছি। ওর জন্য জীবনে বাঁচার অর্থ খুঁজে পেয়েছি। ওকে আরও উন্নতি করার জন্য আমি লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।"
তবে সুবোধ কখনই বাড়িতে সারাংশের সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলেন না। তাঁর বক্তব্য, "জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পরই বোধহয় ওর সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কথা বললাম। শ্রীলঙ্কার খাবার, পরিবেশ, সৌন্দর্য নিয়ে কথা বলি। আমি ওর বাবা, আবার ওর কোচও। সারাংশ ভারতীয় দলে খেলবে ভেবেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।"
ঘটনাচক্রে বাবা যে মুখের ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন, তা জানতেনই না মধ্যপ্রদেশের ক্রিকেটার। ২০১৩-১৪ থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলছেন। সেই সময় মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়ায় একটি বিশেষ ট্যুরে গিয়েছিল। এই সময়ে তাঁর বাবার অস্ত্রোপচার হয়। বাবার অসুস্থতার খবর সারাংশকে জানানো হয়নি। যাতে তিনি ক্রিকেটেই মনোযোগ করতে পারেন। ফিরে আসার পর সব জানতে পারেন। সেই সময় বাবা সুবোধ জৈন বলেন, “আমি এখন ঠিক আছি। যদি তুমি ভালো খেলো, তাহলে আমি আরও ভালো হয়ে উঠব।”
বাবা সুবোধ জৈনের সঙ্গে সারাংশ।
সারাংশ। ঘরোয়া ক্রিকেটে ২২২৩ রান করেছেন, গড় ৩১.৭৫। ৫৪টি ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ১৮৮টি। ২০২৫-২৬ রনজি মরশুমে ৭ ম্যাচে ৫১৮ রান করেছেন। তিনটি হাফসেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরি আছে। আইপিএলের দুনিয়াতেও লাল বলের ক্রিকেটে মাটি কামড়ে পড়ে আছেন। জুন-জুলাই মাসে শ্রীলঙ্কায় ভারত এ দলের হয়ে দু’টি টেস্ট খেলেছিলেন। সেখানে ৬ উইকেট ও ৭০ রানের একটি ইনিংস খেলেন।
