ইঁদুর দৌড়ের পৃথিবীতে সহমর্মিতা, সংবেদনশীলতার মতো বিষয়গুলি ক্রমশ ফিকে হয়ে উঠছে। সে অবশ্য মানব সভ্যতার জন্য, বেড়াল-কুকুরের মতো প্রাণীদের সেই ঝকমারি নেই। ফলে সম্ভাজীনগরের খাবদা পাহাড় থেকে পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মীয়দের শোক ছাপিয়ে গিয়েছে বাড়ির পোষ্য কুকুরটি। স্থানীয়দের দাবি, মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই কুকুরটির আচরণ বদলে গিয়েছে। ঠিক মতো খাচ্ছে না, এমনকী জলও পান করছে না। প্রতিবেশীরা তাকে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করলেও সে খাবারে মুখ দিচ্ছে না। কখনও একটানা ডাকছে, কখনও বা বাড়ির গেটের কাছে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকছে প্রভুর অপেক্ষায়!
জানা গিয়েছে, দামি ফোনের বায়নার জেরে নিমেষে শেষ হয়ে গিয়েছে আস্ত পরিবার। আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পাহাড়ের দিকে গিয়েছিলেন ১৮ বছরের কুণাল চন্দ্রগুড়ে। তাঁকে পাহাড় থেকে নিচে নামতে দেখে বাবা মুরলীধর ছেলেকে বাঁচাতে যান। কুণালের হাত ধরার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু দু’জনেই ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে পড়ে যান। চোখের সামনে পাহাড় থেকে পড়ে স্বামী ও ছেলের মৃত্যু দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মা সঙ্গীতা চন্দ্রগুড়েও। দিশেহারা তিনিও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন। এই ঘটনায় তিন জনেরই মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক সেই মৃত্যুদৃশ্য ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়।
এসবের কিছুই জানে না চন্দ্রগুড় পরিবারের পোষা কুকুরটি। শূন্য বাড়িতে একা অপেক্ষা করে চলেছে সে। এই কালো-সাদা কুকুরটির সঙ্গে গতকালও সকালেও হাঁটতে বেরিয়েছিল কুণাল। তার ভারী নেওটা ছিল কুকুরটি। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কার্যত পরিবারের চতুর্থ সদস্যই ছিল পোষ্যটি। কয়েক দিন আগেও যে বাড়িতে বাবা-মা, ছেলে এবং পোষ্যকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবন ছিল, এখন সেখানে শুধুই নিস্তব্ধতা। সেই নীরবতার মধ্যে মাঝেমধ্যে শোনা যাচ্ছে কুকুরটির ডাক। প্রতিবেশীরা চিন্তিত, এবার অভিভাবকহীন অবলা প্রাণীটির কী গতি হবে! এই বিষয়ে পুলিশের সাহায্য চাইছেন তাঁরা।
