ভারতীয় ক্রিকেটে হচ্ছে টা কী! কোচ গৌতম গম্ভীর, অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়াররা কি দিশা হারিয়েছেন? ক্রিকেটের ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞানও কি হারিয়েছেন অভিষেক শর্মারা? নাহলে পর পর দুই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হোয়াইটওয়াশ, শেষ ৭ ম্যাচের ৬টিতেই ম্যাচে হার! বরুণ দেবতা সহায় না থাকলে যেটা কিনা সাতে সাত হতে পারত!
শনিবার রাতে ভারতীয় দল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নেমেছিল যেটুকু সম্মান অবশিষ্ট আছে, সেটা বাঁচানোর উদ্দেশে। কিন্তু সেটা তো ঈশান কিষানরা করতে পারলেনই না, উলটে আরও একরাশ লজ্জা যেন বাড়তি জুটল টিম ইন্ডিয়ার ভাগ্যে। প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড তুলে দিল ২৫৭ রান। জস বাটলার একাই করে দিলেন ১৩১। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক করলেন ৯৫। এই ২৫৭ ভারতের বিরুদ্ধে এ যাবৎকাল ইংল্যান্ডের করা সর্বোচ্চ রান। মোট ১৭টি ছক্কা হজম করেছে টিম ইন্ডিয়া। যা টি-২০ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জস বাটলারের ১৩১ ভারতের বিরুদ্ধে কোনও ব্যাটারের করা সর্বোচ্চ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে কোনও সময় মনে হয়নি যে টিম ইন্ডিয়া ম্যাচটা জেতার জন্য খেলছে, বা ইংল্যান্ডের রানের ধারেকাছে পৌঁছতে পারে। ব্যাটাররা যেন নিজেদের জায়গা বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন শুধু। অবধারিত ফল ভারতীয় ইনিংস শেষ ২০১ রানে। ঈশান কিষানের ৫৬ আর তিলক বর্মার ৫৩ ছাড়া আর কারও ইনিংস ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। ৫৬ রানে হার। পাঁচ ম্যাচের সিরিজের একটি বাতিল বাকি চারটিই হার। পরপর দুটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হোয়াইটওয়াশ।
ইতিহাস বলছে ২০০৯ বিশ্বকাপ, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ছাড়া ভারত কখনও এক টুর্নামেন্ট বা এক সিরিজে চারটি টি-২০ হারেনি। সাদা বলের ক্রিকেটে ২০১৩-১৪ সালের পর কোনও ভারতীয় দল পাঁচ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইট ওয়াশহয়নি। ইতিহাস এও বলছে অধিনায়ক হওয়ার পর সাত ম্যাচে শ্রেয়স আইয়ার এখনও জয়হীন। প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক হিসাবে তিনি এই জঘন্য রেকর্ড গড়লেন। গোটা বিশ্বের নিরিখে চতুর্থ অধিনায়ক হিসাবে এই লজ্জার মালিক টিম ইন্ডিয়া। এ হেন ব্যর্থতার পর অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার বলছেন, "আমরা শিক্ষা নিচ্ছি। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে খেলতে হয়। কী ভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানাতে হয় তা শিখলাম। পেশাদার ক্রিকেটার হিসাবে আরও দ্রুত শিক্ষা নিতে হবে।"
