২০০২ সালের ১৩ জুলাই। ২৪ বছর আগে ইতিহাস গড়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের টিম ইন্ডিয়া। লর্ডসের মাঠে ব্রিটিশদের দর্পচূর্ণ করে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ট্রফি ছিনিয়ে এনেছিল ভারত। দুই যুগ পর সৌরভের ন্যাটওয়েস্ট জয়ের স্মৃতি ফেরালেন ভারতের বিশেষ ভাবে সক্ষম দলের ক্রিকেটারেরা। ইংল্যান্ডকে ১১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি খুলে উল্লাসে মাতলেন তাঁরা। ফিরে এল ২০০২ সালের সেই ঐতিহাসিক দৃশ্য।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান করে ভারত। সাত ম্যাচের সিরিজে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় রান। অর্জুন গাওরে ৪৪ বলে ৬৮ রান করেন। শেষ দিকে ঝড় তোলেন অধিনায়ক মাদিজ মাগরে। মাত্র ১৯ বলে অপরাজিত ৬৩ রান করেন তিনি। সাই আকাশও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। জবাবে ভারতের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ইংল্যান্ড। ১৩.৪ ওভারে মাত্র ৮৮ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। হিলাল আহমেদ ওয়ানি ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। জয়েশ পারমার ১৪ রান দিয়ে পান ৩ উইকেট। ফলে ১১৮ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত।
এর পরেই লর্ডসের ব্যালকনিতে শুরু হয় উৎসব। কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটার জার্সি খুলে উল্লাসে মাতেন। এক কর্তাকেও দেখা যায়, নিজের কোট খুলে ঘোরাতে। লর্ডসের ঐতিহাসিক ব্যালকনিতে সেই দৃশ্য যেন ফিরিয়ে আনল দুই দশক আগের স্মৃতি। ভারতের এই সেলিব্রেশন নিয়ে ডিফারেন্টলি অ্যাবল ক্রিকেট কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিসিআই) সোশাল মিডিয়ায় লেখে, 'লর্ডসে ভারত জিতলে সেলিব্রেশনের আমেজটাই যেন অন্যরকম হয়ে ওঠে। লর্ডসের ব্যালকনিতে খাঁটি ক্রিকেটীয় আনন্দের ছবি। কোট খুলে উচ্ছ্বাসে মাতলেন ক্রিকেটাররা। গর্বের সঙ্গে উড়ল তেরঙ্গা। ১১৮ রানে জয়। এক অবিস্মরণীয় সেলিব্রেশন।'
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কালাম ফ্লিনও ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, "শেষ পর্যন্ত আজ ভারত আমাদের চেয়ে অনেক ভালো খেলেছে। তবে আমরা সিরিজ জিতেছি। এতে আমরা খুশি হতে পারি।" তাঁর মতে, ভারত-ইংল্যান্ডের প্রতিটি সিরিজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানও বেড়েছে। তবে ভারতের দিব্যাঙ্গ ক্রিকেটারদের এহেন সেলিব্রেশন দেখে অনেকেই নস্ট্যালজিক হয়ে পড়ছেন। ৩২৬ রান তাড়া করে জয়ের স্মৃতিচারণে ডুব দিয়েছেন নেটিজেনরা।
২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছিল ভারত। ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে পিছনে ফেলে গ্রুপের শীর্ষে ছিল মেন ইন ব্লু। তবে ফাইনাল ম্যাচে দুরন্ত ব্যাটিং করে ইংল্যান্ড। অধিনায়ক নাসের হুসেনের সেঞ্চুরিতে ৩২৫ রানের পাহাড় গড়ে তারা। সমানে সমানে লড়াই করতে ছাড়েনি ভারতও। বীরেন্দ্র শেহওয়াগ ও সৌরভের যুগলবন্দিতে মাত্র ১৫ ওভারেই ১০৬ রান উঠে যায়। কিন্তু মাঝের ওভারগুলিতে চাপে পড়ে ভারত। শেষ পর্যন্ত ১২১ রানের দুরন্ত পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন যুবরাজ-কাইফের জুটি। তিন বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় ভারত। তারপরেই বাঙালির গর্বের সেই মুহূর্ত-লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি ওড়াচ্ছেন প্রিন্স অফ ক্যালকাটা। ২৪ বছর পর লর্ডসের ব্যালকনিতে ফিরল সৌরভের ন্যাটওয়েস্ট জয়ের স্মৃতি।
