চেন্নাই সুপার কিংস: ১৮৭/৫ (কার্তিক ৭১*, দুবে ৩২*, আকাশ ২৬/৩)
লখনউ সুপার জায়ান্টস: ১৮৮/৩ (মার্শ ৯০, ইংলিশ ৩৬)
৭ উইকেটে জয়ী লখনউ।
প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে যেমন একবার দপ করে জ্বলে ওঠে, লখনউ সুপার জায়ান্টসের পারফরম্যান্সও যেন ঠিক তেমনই। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দলটি এদিন দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দিয়ে অনায়াসে হারিয়ে দিল অনেকটাই উপরে থাকা চেন্নাই সুপার কিংসকে। মিচেল মার্শের বিধ্বংসী ইনিংসের সৌজন্যে ৭ উইকেটে জয় তুলে নিল এলএসজি।
চেন্নাই সুপার কিংসের সামনে সমীকরণটা ছিল খুবই সহজ, লখনউকে হারালেই প্রথম চারে ঢুকে পড়বে। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই সমস্ত হিসাবই ওলটপালট করে দিল এলএসজি। ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার তারকা মিচেল মার্শ যেভাবে ব্যাট চালালেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। একদিকে মার্শ ছিলেন মারমুখী মেজাজে, অন্যদিকে তাঁর সঙ্গী জস ইংলিশ খেললেন দায়িত্বশীল ইনিংস। স্পেনসার জনসন, অংশুল কম্বোজদের মতো বোলাররা মার্শের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন। আর ইংলিশ শান্ত মাথায় ইনিংস গড়ে মার্শকে সঙ্গ দেন। সুযোগ পেলেই স্ট্রাইক ঘুরিয়ে সতীর্থকে বড় শট খেলার সুযোগ করে দিচ্ছিলেন তিনি।
চেন্নাই সুপার কিংসের সামনে সমীকরণটা ছিল খুবই সহজ, লখনউকে হারালেই প্রথম চারে ঢুকে পড়বে। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই সমস্ত হিসাবই ওলটপালট করে দিল এলএসজি।
মার্শ-ইংলিশের জুটিতে ভর করেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেয় লখনউ। দু’জনে মিলে মাত্র ৭০ বলে যোগ করেন ১৩৫ রান। চেন্নাইয়ের হয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন মুকেশ চৌধুরী। ৩২ বলে ৩৬ রানে ফেরেন ইংলিশ। তবে এরপরই আসে ম্যাচের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক মুহূর্ত। শতরানের একেবারে কাছে পৌঁছে গিয়েও রান আউট হয়ে ফিরতে হল মার্শকে। নন-স্ট্রাইকার এন্ডে দাঁড়িয়ে থাকা অজি তারকা তখন অনেকটাই ক্রিজের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় নিকোলাস পুরানের সোজা ব্যাটে শট বোলার মুকেশ চৌধুরীর আঙুলের ডগায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। সামান্য ডিফ্লেকশন হলেও সেটাই যথেষ্ট ছিল মার্শকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৯০ রান করে থামতে হয় তাঁকে। দুর্ভাগ্যের কারণে অধরাই থেকে গেল দুরন্ত এক শতরান। তাতে অবশ্য জয় আটকায়নি লখনউয়ের। এই হারের পর প্লেঅফ অঙ্ক অনেকটাই জটিল হল চেন্নাইয়ের। ছয়ে নেমে গেল তারা।
একটা সময় ২৪ বলে লখনউয়ের দরকার ছিল ২৪ রান। সেই পরিস্থিতিতে অংশুল কম্বোজের এক ওভারে চার বলে টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ কার্যত একাই শেষ করে দেন পুরান।
শুক্রবার বিপক্ষের ঘরের মাঠে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি সিএসকে'র। মন্থর পিচে রান তুলতে রীতিমতো লড়াই করতে দেখা যায় টপ অর্ডারের ব্যাটারদের। বড় শট খেলতে সমস্যায় পড়েন সঞ্জু স্যামসন ও রুতুরাজ গায়কোয়াড়। সঞ্জু ২০ বলে ২০ রান করে ফিরলেও রুতুরাজের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৩ রান। আগের ম্যাচে আইপিএলে নজির গড়া উর্বিল পটেলও এদিন ব্যর্থ। ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ৫২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় চেন্নাই। কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলেন কার্তিক। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৭০ রানের জুটি গড়েন তিনি। নিজে করেন ৪২ বলে ৭১ রান।
শর্ট বলের বিরুদ্ধে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও এ দিন ধৈর্য ধরে ইনিংস সাজান কার্তিক। বিশেষ করে স্পিনারদের বিরুদ্ধে ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। শাহবাজ আহমেদকে এক ওভারেই দু’টি চার ও দু’টি ছক্কাও হাঁকান। পরে পেসারদের বিরুদ্ধেও হাত খুলে খেলেন। প্রিন্স যাদবকে পরপর দু’টি ছয় মারেন। অন্যদিকে, ব্রেভিসও ২৫ রান করে ভালো সঙ্গ দেন। ৩৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন কার্তিক। যদিও এরপর কয়েক বলের ব্যবধানে দু’জনকেই হারায় চেন্নাই। শেষ দিকে শিবম দুবের অপরাজিত ৩২ রান এবং প্রশান্ত বীরের ছোট্ট ইনিংসে (১৩) ভর করে লড়াই করার মতো রান করে সিএসকে।
জবাবে একেবারেই অসুবিধায় পড়েনি লখনউ। পঞ্চম ওভারে অংশুল ২৮ রান হজম করে। পাওয়ার প্লে-তেই ওঠে ৮৬ রান তুলে ফেলে লখনউ। সৌজন্যে মার্শ। দুরন্ত শুরু করার পর পরপর দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে আচমকাই চাপে পড়ে যায় তারা। আবদুল সামাদও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। মাত্র ৭ রান করেই ফিরতে হয় তাঁকে। শুরুতে নিকোলাস পুরান কিছুটা ধীরেসুস্থে খেলছিলেন। বেশ কয়েকটি বল খেলেও রান তোলার গতি বাড়াতে পারছিলেন না তিনি। তবে ঋষভ পন্থকে সঙ্গে পেয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। দু’জনে মিলে ইনিংস সামলে নেওয়ার পাশাপাশি রান তোলার গতিও বাড়াতে থাকেন। একটা সময় ২৪ বলে লখনউয়ের দরকার ছিল ২৪ রান। সেই পরিস্থিতিতে অংশুল কম্বোজের এক ওভারে চার বলে টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ কার্যত একাই শেষ করে দেন পুরান।
