shono
Advertisement
IPL 2026

ইডেনে আজ কেকেআরের সামনে গুজরাট, ফর্মে থাকা গিলদের বিরুদ্ধে বরুণ নিয়ে উদ্বেগ কেকেআরের

প্লেঅফের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য শেষ তিনটে ম্যাচ জিততেই হবে কেকেআরকে। অন্যদিকে, গুজরাট টাইটান্সে ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে কার্যত প্লেঅফে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 01:55 PM May 16, 2026Updated: 01:55 PM May 16, 2026

চারদিকে সবুজের সমাহার। তার মাঝে এক টুকরো ভূখণ্ড। শ্বেতশুভ্র। আশপাশে সবুজের ছোঁয়া আছে। তবে মাঝের দিকে অন্য কোনও রং যেন ভুল করেও লাগেনি সেই জমিতে। শুক্র-সন্ধ্যায় ঈষৎ ঝুঁকে সেই ভূখণ্ডই পরীক্ষা করছিলেন শুভমান গিল। বিভিন্ন দিক থেকে ভালো করে দেখলেন। তারপর কিছুক্ষণ শট খেলার শ্যাডো করলেন তার এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে।

Advertisement

উপরে উল্লেখিত ভূখণ্ড আদতে ইডেনের বাইশ গজ। ছ’নম্বর পিচ। শনিবাসরীয় কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং গুজরাট টাইটান্স ম্যাচ হবে যে উইকেটে। লড়াইয়ে নামার আগে সেই ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিলেন গুজরাট সেনাপতি। আসলে পয়েন্ট টেবিলে দু’দলের ব্যবধানটা বেশ বড়। গুজরাট ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে কার্যত প্লেঅফে। সেখানে ১১ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পাওয়া নাইটদের ভাগ্য নিজেদের পাশাপাশি নির্ভর করছে অন্যদের হাতেও। তা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষকে কখনও হালকাভাবে না নেওয়ার চেনা প্রবাদ শোনাচ্ছে গুজরাট। দলের ক্রিকেট ডিরেক্টর বিক্রম সোলাঙ্কি যেমন বলছিলেন, “সবাই বলছে যে আমরা টানা পাঁচটা ম্যাচ জিতেছি, দুরন্ত ফর্মে আছি। কেকেআরও কিন্তু শেষ পাঁচটা ম্যাচে চারটে জিতেছে। চোট সমস্যা সামলে নিয়েছে ওরা। শেষ ম্যাচ হারলেও কিন্তু বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। ফলে আত্মতুষ্টির কিছু নেই।”

গুজরাট ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে কার্যত প্লেঅফে। সেখানে ১১ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পাওয়া নাইটদের ভাগ্য নিজেদের পাশাপাশি নির্ভর করছে অন্যদের হাতেও। তা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষকে কখনও হালকাভাবে না নেওয়ার চেনা প্রবাদ শোনাচ্ছে গুজরাট।

আত্মতুষ্ট না হোক, গুজরাটের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার বহু কারণ রয়েছে। কাগিসো রাবাদা, মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের পেস অ্যাটাক শুরু থেকেই স্বপ্নের ছন্দে। এখন তাতে যোগ হয়েছে জেসন হোল্ডারের নাম। দীর্ঘদিন আইপিএল খেললেও এতদিন সেভাবে সুযোগ পাননি ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। তিনি যেন সেই উপেক্ষার জবাব দিচ্ছেন। শেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইন আপকে মাত্র ৮৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। রশিদ খান নতুন করে জাত চেনাচ্ছেন। দুই ওপেনার সাই সুদর্শন এবং শুভমান রয়েছেন কমলা টুপির দৌড়ে। সাই তো আবার শেষ ছ’ইনিংসে করেছেন একটা সেঞ্চুরি এবং চারটে হাফ সেঞ্চুরি। জস বাটলারও রয়েছেন ভালো ফর্মে। কিঞ্চিত ভাবনা বরং রয়েছে মিডল অর্ডার নিয়ে। যা শুনে বিক্রম পালটা শোনালেন, “ওয়াশিংটন মাঝের দিকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করছে। শেষ ম্যাচেও চাপের মুখে একটা ভালো ইনিংস খেলেছে।”

শেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইন আপকে মাত্র ৮৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। রশিদ খান নতুন করে জাত চেনাচ্ছেন। দুই ওপেনার সাই সুদর্শন এবং শুভমান রয়েছেন কমলা টুপির দৌড়ে।

প্লেঅফের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য শেষ তিনটে ম্যাচ জিততেই হবে কেকেআরকে। আর শনিবার বাঁচামরার প্রথম ‘যুদ্ধে’ প্রাক্তনীরাই কাঁটা নাইটদের। ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম থেকে হালফিলের ফিল সল্ট - আইপিএলে বহুবার ছেড়ে যাওয়া প্লেয়ারদের প্রহার সহ্য করেছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। এমনকী শুভমান স্বয়ং। এবারও আমেদাবাদে পুরনো দলের বিরুদ্ধে তিনি খেলেছেন ৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস। ফের কেকেআর-কে ভোগাতে তৈরি তিনি। সঙ্গে ফর্মে থাকা দুই পুরনো নাইট হোল্ডার এবং কৃষ্ণ। সবমিলিয়ে ঘরের মাঠে বেশ কঠিন হতে চলেছে কেকেআরের কাজটা। সাংবাদিক সম্মেলনে এসে কার্তিক ত্যাগী আশাবাদী হওয়ার কথা শুনিয়ে গেলেন। “জানি এবার পাওয়ার প্লে-তে আমরা বিশেষ ভালো করতে পারছি না। তবে কাল দ্রুত কয়েকটা উইকেট তুলে নিতে চাই। যাতে পরে স্পিনারদের সুবিধা হয়”, বলছিলেন তিনি।

প্লেঅফের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য শেষ তিনটে ম্যাচ জিততেই হবে কেকেআরকে। আর শনিবার বাঁচামরার প্রথম ‘যুদ্ধে’ প্রাক্তনীরাই কাঁটা নাইটদের। ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম থেকে হালফিলের ফিল সল্ট - আইপিএলে বহুবার ছেড়ে যাওয়া প্লেয়ারদের প্রহার সহ্য করেছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। এমনকী শুভমান স্বয়ং।

সেই স্পিন বিভাগ নিয়েই মাথাব্যথা বাড়ছে কেকেআরের। আরও স্পষ্ট করে বললে, চিন্তার কেন্দ্রে বরুণ চক্রবর্তী। চোটের জন্য রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি। শনিবার তিনি ফিরবেন কি না, প্রশ্ন সেটাই। এদিন মাঠে ঢোকার সময় দেখা গেল, পা টেনে টেনে হাঁটছেন বরুণ। তারপর সাইড নেটে গিয়ে পা মেপে দাঁড়ালে বোলিং করার জন্য। প্রথম রান আপে বল করতে পারলেন না। বোলিং মার্কে ফিরে পরবর্তী চেষ্টার সাফল্য পেলেন। তারপর আরও কিছুক্ষণ বোলিং করলেন। সাইড নেটে এবং সেন্টার নেটে। কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় ফের একই ছবি। কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন বরুণ। পরে বাসে উঠলেন সতীর্থ অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর সাহায্য নিয়ে। ফলে কেকেআর শিবির থেকে বোলিংয়ের ভিডিও দিয়ে তাঁর সুস্থতার একটা প্রচ্ছন্ন দাবি করা হলেও, গুজরাটের বিরুদ্ধে বরুণ প্রবলভাবে অনিশ্চিত। ঠিক যেমন অনিশ্চিত কেকেআরের প্লে-অফে যাওয়া।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement