ফাইনাল হয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম গুজরাট টাইটান্সের। কিন্তু ম্যাচ শেষে সমস্ত আলো নিজের দিকে টেনে নিল রাজস্থান রয়্যালসের ‘বিস্ময়’ বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে পাঁচ-পাঁচটা পুরস্কার জিতে নিয়েছে সে। বিস্ময় প্রতিভার এহেন কাণ্ডে বিস্মিত খাস রবি শাস্ত্রীও। প্রাক্তন ক্রিকেটারের এক চুটকি প্রশ্নে যেন হেসে গড়াল গোটা স্টেডিয়াম। জবাবে কী বলল কিশোর তুর্কি?
এবারের আইপিএলে বৈভবের ব্যাট যেন আলাদা ভাষায় কথা বলেছে। ১৬ ইনিংসে ৭৭৬ রান! সংখ্যাটা নিছক বড় নয়, প্রায় অবিশ্বাস্য। পাশাপাশি একসঙ্গে পাঁচটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’, ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’, ‘সুপার স্ট্রাইকার অফ দ্য সিজন’, ‘ইমার্জিং প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’ এবং ‘মোস্ট সিক্সেস’। সব মিলিয়ে সে একাই যেন হয়ে উঠেছে এবারের আইপিএলের মুখ। তার এই নজিরবিহীন সাফল্যে ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মঞ্চে বৈভবের দিকে তাকিয়ে মজা করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন সঞ্চালক রবি শাস্ত্রী, “এভাবে বোলারদের পেটাচ্ছ! বলো তো, রোজ কত গ্লাস দুধ খাও?” হাসতে হাসতেই তরুণ ক্রিকেটারের জবাব, “আমি এখন আর দুধ খাই না স্যর। চাপ তো মাঝেমধ্যে থাকেই। আমি শুধু নিজের খেলাতেই মন দিই। প্রথম বলটা মন দিয়ে দেখি। তারপর মনে জোর পাই যে, আমি পারব। সুযোগ পেলেই আক্রমণে যাই। এই মরশুমে অনেক কিছু শিখেছি। চাপের সময় মাথা ঠান্ডা রাখা, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা বদলানো, আর একই পরিকল্পনা নিয়ে পুরো ম্যাচ না খেলে সময় অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই আসল।”
বৈভবের সংযোজন, “সিজনটা অনেক লম্বা। অনেক ম্যাচ খেলতে হয়। তাই ফিট থাকতে গেলে ফিটনেসের দিকে বাড়তি নজর দিতেই হয়। আমাদের দলে সবাই ভীষণ সপোর্টিভ। সিনিয়র ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সাপোর্ট স্টাফ, প্রত্যেকেই পাশে থাকে। তাদের কাছ থেকে প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখছি।” এবার কী কী পুরস্কার পেল বৈভব? ৭৭৬ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ পেল। যার জন্য পাচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দামি প্লেয়ার হিসেবে হল এমভিপি। তার জন্য পাবে ১৫ লক্ষ টাকা। সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট ২৩৭। তার জন্য ১০ লক্ষ টাকা। সবচেয়ে বেশি ছয়ও হাঁকিয়েছে সে। ৭২টি ছক্কা মেরে ১০ লক্ষ টাকা পাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। টুর্নামেন্টের সেরা উঠতি প্রতিভা, অর্থাৎ ইমার্জিং প্লেয়ারও হয়েছে সে। যার জন্য পাচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে পেল ৪৫ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে একটা গাড়ি। চারটে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
পাঁচ-পাঁচটা পুরস্কার জিতে নিয়েছে বৈভব। ছবি আইপিএল।
মাত্র ১৫ বছর ৬৫ দিন বয়সে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতে নতুন ইতিহাস লিখেছে বৈভব। এর আগে সর্বকনিষ্ঠ হিসাবে এই কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন গুজরাট টাইটান্সের সাই সুদর্শন। গত মরশুমে ২৩ বছর ২৩১ দিন বয়সে এই সম্মান পেয়েছিলেন তিনি। ফাইনালে শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন বড় রান করতে ব্যর্থ হন। ফলে বৈভব যে কমলা টুপি পাচ্ছে, তা নিশ্চিত হয়ে যায়। শুধু রান নয়, ছক্কার ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক গড়েছে এই কিশোর। গোটা মরশুমে ৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে পিছনে ফেলেছে ক্রিস গেইলের ৫৯ ছক্কার পুরনো রেকর্ড। কিশোর এই তুর্কির দুরন্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ দেশের আপামর ক্রিকেটপ্রেমীরা যেন বলে উঠছেন, “নজর না লাগে!”
