মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ১৪৭/৮ (বশ ৩২* গ্রিন ২/২৩, সৌরভ ২/৩৪)
কেকেআর ১৪৮/৬ (মণীশ ৪৫, রভম্যান ৪০, বশ ৩/৩০)
৪ উইকেটে জয়ী কেকেআর
টানা ৬ ম্যাচ জয়ের মুখ দেখেনি দলটা। কেকেআর ভক্তদের অনেকে আশাও করতে পারেননি যে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত প্লে অফের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখবে তাঁদের প্রিয় দল। কিন্তু অজিঙ্ক রাহানেরা বোধহয় ভরসা রেখেছিলেন মালিক শাহরুখ খানের এক বিখ্যাত সংলাপে। ওম শান্তি ওম ছবিতে কিং খান বলেছিলেন, 'অগর ঠিক না হো, তো উও এন্ড নেহি হ্যায়, পিকচার আভি বাকি হ্যায়।' অর্থাৎ শেষটা যদি ভালো না হয়, তাহলে সেটা মোটেই ইতি নয়। বরং আরও কিছু ঘটা বাকি আছে। সেকথাই যেন প্রমাণ করছে কেকেআর। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত দাঁতে দাঁত চেপে লড়ছে প্লেঅফের জায়গাটা পাকা করার জন্য।
কেকেআরের সামনে প্লেঅফের অঙ্কটা খুবই সাফ। বাকি থাকা দু'টো ম্যাচ বড় ব্যবধানে জেতো। সেই কাজের অর্ধেকটা বুধবারের ইডেনে সেরে ফেললেন ক্যামেরন গ্রিনরা। খোঁড়াতে থাকা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারাল নাইটরা। প্লেঅফের দৌড় থেকে অনেক আগেই ছিটকে গিয়েছে মুম্বই। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এখন খেলছে স্রেফ মর্যাদা রক্ষার জন্য। যদিও ইডেনে এদিন নাইট বোলিংয়ের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল হার্দিক পাণ্ডিয়াদের ব্যাটিং। পেস হোক বা স্পিন-কারোর মোকাবিলাই করতে পারল না মুম্বই।
টসে জিতে এদিন প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন নাইট অধিনায়ক। বৃষ্টিভেজা ইডেনে অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে একেবারে অক্ষরে অক্ষরে সঠিক প্রমাণ করতে কার্যত উঠেপড়ে লাগেন কেকেআর বোলাররা। মূলত পেসাররা এদিন ছিলেন আগুনে ফর্মে। পাওয়ারপ্লেতে ক্যামেরন গ্রিন-সৌরভ দুবের জুটিতে মুম্বইয়ের ব্যাটিং লাইন আপ একেবারে নাকানিচোবানি খেয়েছে। প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ৪৬ রান তুলতে পেরেছিল মুম্বই। কিন্তু তার মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছেন রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদব-সহ ৪ ব্যাটার। শেষলগ্নে মুম্বইয়ের উদ্ধারকর্তা হয়ে ওঠেন করবিন বশ। ১৮ বলে ৩২ রানের ক্যামিও আসে তাঁর ব্যাট থেকে। ওই ছোট্ট ইনিংসে ভর করেই দেড়শোর কাছে পৌঁছয় মুম্বই। শেষ পর্যন্ত আট উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রানে থামে তাদের ইনিংস।
মাত্র ১৪৮ রানের টার্গেট দ্রুত তুলে ফেলে নেট রানরেট বাড়িয়ে নেওয়ার হাতছানি ছিল কেকেআরের সামনে। সেই লক্ষ্যে আগের দিনের মতোই ঝোড়ো মেজাজে ইনিংস শুরু করেছিলেন ফিন অ্যালেন। কিন্তু দিনটা তাঁর ছিল না। অধিনায়ক রাহানেও দ্রুত রান করতে ব্যর্থ। হতাশ করলেন গ্রিনও। তবে বুড়ো হাড়ে ভেলকি দেখালেন মণীশ পাণ্ডে। হাতে চোট পেয়ে এদিন আর ব্যাট করতে পারেননি অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। তাঁর পরিবর্ত হিসাবে নেমে ৪৫ রান করে গেলেন ৪১ বছর বয়সি 'তরুণ' মণীশ। সঙ্গী রভম্যান পাওয়েলের সঙ্গে জুটিতে তুললেন ৬৪ রান। শেষ পর্যন্ত খানিকটা সময় নিয়ে রান তাড়া করল কেকেআর। মুম্বইকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠস্থানে উঠে এল সোনালি-বেগুনি ব্রিগেড। আগামী রবিবার মরণবাঁচন ম্যাচ। ইডেনে দিল্লির বিরুদ্ধে নামার আগে যাবতীয় পরিসংখ্যান জেনে নিতে পারবে নাইটরা। প্লে অফের দরজা কি খুলবে? শাহরুখের সংলাপের মতো 'হ্যাপি এন্ডিং' হবে?
