ওয়াংখেড়েতে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে রেকর্ড যদি কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের চিন্তার কারণ হয়, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সও খুব একটা স্বস্তি থাকতে পারছে কোথায়! আইপিএলে মুম্বই বরাবরই ‘স্লো স্টার্টার’। পরিসংখ্যান বলছে, আইপিএলে শুরুটা কখনও ভালো করতে পারেনি মুম্বই। হার্দিক পাণ্ডিয়ারা এবার পরিসংখ্যানটা একটু ভালো করতে।
কেকেআরের কাছে মুম্বই ম্যাচটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যা আর পাঁচটা ম্যাচের থেকে অনেকটা আলাদা। আসলে এটা নিছক একটা ম্যাচ নয়, শাহরুখ খানের টিমের কাছে এটা সম্মানের যুদ্ধও। এরকম একটা হাইভোল্টেজ যুদ্ধের আগে রাহানের সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথার নাম পেস বোলিং। চোট-আঘাত সমস্যায় পুরো পরিকল্পনা বদলাতে হচ্ছে নাইট ম্যানেজমেন্টকে। বৈভব অরোরা খেলছেন সেটা নিশ্চিত। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কে খেলবেন, ঠিক করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কেকেআরকে। জিম্বাবোয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানিকে খেলাতে হলে, একজন পেসার-অলরাউন্ডার কমাতে হবে। যার অর্থ রভম্যান পাওয়েলকে ডাগআউটে বসতে হবে। এখনও পর্যন্ত অবশ্য ওই একটা জায়গা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে।
রণকৌশল তৈরিতে ব্যস্ত নাইট থিংট্যাংক। ফাইল ছবি।
বাকি টিম মোটামুটি ঠিক করে গিয়েছে। রাহানের সঙ্গে ওপেন করবেন ফিন অ্যালেন। তিন নম্বরে অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। চারে ক্যামেরন গ্রিন। যাঁকে এবার বিশাল অর্থ দিয়ে কিনেছে কেকেআর। অনেকেই মনে করছেন, প্রাইজ ট্যাগের চাপ পুরো আইপিএল জুড়ে বইতে হবে গ্রিনকে। তবে কেকেআরের কোচ শেন ওয়াটসন অবশ্য তেমনটা মনে করেন না। ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বলছিলেন, “এর আগে আমি বেশ কিছু ক্রিকেটারকে দেখেছি, যাঁদের এই চাপ নিয়ে খেলতে হয়েছে। কিন্তু তাঁরা চাপটা নিতে পারেননি। প্রাইজ ট্যাগের চাপ পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে। তবে গ্রিনের ক্ষেত্রে এরকম কিছু বলে আমার মনে হয় না। ওকে অনেক বছর ধরে দেখছি। এর আগে মুম্বইও যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে গ্রিনকে নিয়েছিল। কিন্তু তখনও চাপে পড়েনি। বরং দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিল।”
ওয়াটসন আরও একটা জিনিস পরিষ্কার করে দিয়েছেন। কম্বিনেশনের জন্য রঘুবংশী উইকেটকিপিং করবেন। সেটা অবশ্য আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল কেকেআর। তাই প্র্যাকটিসে উইকেটকিপিং নিয়ে আরও বেশি জোর দিতে বলা হয়েছিল মুম্বইকরকে। শোনা গেল, মুম্বই ব্যাটিং-পাওয়ার হাউসকে কীভাবে আটকানো হবে, তার জন্য বোলারদের নিয়ে আলাদা করে বৈঠক হয়েছে। প্রথম ম্যাচে নামার আগে মুম্বই শিবির স্বস্তি হল জসপ্রীত বুমরার ফিরে আসা। টুর্নামেন্টের কিছু দিন আগে হঠাৎ করে চোট-সমস্যার জন্য বেঙ্গালুরুতে সেন্টার অব এক্সলেন্সে গিয়েছিলেন বুমরা। শুরু থেকে তিনি খেলতে পারবেন কি না, সেটা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। শনিবার মুম্বইয়ে টিমের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বুমরা। তারকা পেসারের চলে আসা মুম্বইয়ের বোলিং শক্তি যে আরও অনেকটা বেড়ে গেল, সেটা বলে দেওয়াই যায়।
