সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ২২৬/৮ (ক্লাসেন ৫২, অভিষেক ৪৮, মুজারাবানি ৪১/৪, বৈভব ৪৭/২)
কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১৬১/১০ (অঙ্গকৃষ ৫২, রিঙ্কু ৩৫, উনাদকাট ২১/৩, মালিঙ্গা ১৪/২)
৬৫ রানে জয়ী হায়দরাবাদ।
ইডেনেও হাসি ফিরল না অজিঙ্ক রাহানেদের। বলা ভালো, ঘরের মাঠে মুখ ব্যাজার করে থাকতে হল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। প্রথম ম্যাচে ২২০ তুলেও হারের পর চেহারাটা বিশেষ বদলায়নি নাইটদের। বৃহস্পতিবাসরীয় ম্যাচেও হোম অ্যাডভান্টেজ নিতে ব্যর্থ বলিউড বাদশার দল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দেওয়া ২২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কেকেআর গুটিয়ে গেল মাত্র ১৬১ রানে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারতে হল কেকেআর-কে।
শুরুটা অবশ্য খারাপ করেননি ফিন অ্যালেন। প্রথম ওভারে ২৪ রান করলেন কিউয়ি তারকা। যদিও ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেন না তিনি। ৮ বলে ২৭ রান সাজঘরে ফিরলেন হর্ষ দুবের অসাধারণ ক্যাচে। চার ওভারে ৫০ পার হলেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ নাইট অধিনায়ক রাহানে। তাঁর সংগ্রহ ১০ বলে মাত্র ৮ রান। এরপর হাস্যকর রান আউটের শিকার ২৫ কোটির অজি তারকা ক্যামেরন গ্রিন। এই ম্যাচেও বল তো করলেনই না, ব্যাট হাতেও 'দায়িত্ব নিয়ে' ডোবালেন। ঈশান মালিঙ্গার বলে সোজা মারেন অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। পা দিয়ে আটকান মালিঙ্গা। কিন্তু ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন দুই ব্যাটার। রান আউট করেন বোলার। প্রথমে রঘুবংশী সাজঘরের দিকে পা বাড়ালেও দেখা যায় ব্যাটাররা ক্রস করেননি। ফলে আউট হন গ্রিন।
৩ উইকেট পড়লেও লড়াই থেকে সরে আসেনি কেকেআর। নবম ওভারে ১০০ পার করে তারা। গত ম্যাচের ফর্ম এ ম্যাচেও বজায় রাখেন নাইট উইকেটকিপার অঙ্গকৃষ। তবে ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করলেও তাঁর ইনিংস বেশি দূর নিয়ে যেতে পারেননি। রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট তিনিও। বলা চলে দু'টি রান আউটই কেকেআরের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিল। ব্যর্থ হলেন অনুকূল রায়ও। নীতীশ কুমার রেড্ডির বলে শূন্য রানে আউট হলেন তিনি।
নাইট অধিনায়ককে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতেই হবে। এদিন তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৮০। যেখানে পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করতে হবে, সেখানে এমন 'শান্ত' ব্যাটিং সত্যিই বেমানান। তাছাড়া রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর হলটা কী, সেটাও একটা রহস্য।
এরপর কিছুটা লড়লেন রিঙ্কু সিং। কিন্তু যে ফিনিশারের ভূমিকায় এত দিন তাঁকে দেখে অভ্যস্ত ক্রিকেট মহল, সেই রিঙ্কু কোথাও যেন উধাও। ম্যাচ শেষ করে হিরো হয়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ হারালেন এই বাঁহাতি তারকা। করলেন ২৫ বলে ৩৫। অর্থাৎ স্ট্রাইক রেটও আহামরি হয়। মাত্র ১৪০। নীতীশই ফেরালেন নাইটদের সহ-অধিনায়ককে। এরপর তেড়েফুঁড়ে উঠে জোড়া ছক্কা হাঁকালেন সুনীল নারিন। ব্যস, ওইটুকুই। মালিঙ্গার বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। আর বাকি ব্যাটাররা? আয়ারাম গয়ারাম। শেষ পর্যন্ত ১৬১ রানে অলআউট কেকেআর। ঘরের মাঠে ৬৫ রানে বড় হার কেকেআরের।
প্রথমত, নাইট অধিনায়ককে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতেই হবে। এদিন তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৮০। যেখানে পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করতে হবে, সেখানে এমন 'শান্ত' ব্যাটিং সত্যিই বেমানান। দ্বিতীয়ত, রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর হলটা কী, সেটাও একটা রহস্য। শনির দশা সেই বিশ্বকাপের দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ থেকে চলছে। যা কবে কাটবে, কেউ জানে না। তাছাড়াও ক্যামেরন গ্রিনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে কেকেআর ম্যানেজমেন্টকে। সব মিলিয়ে নাইটদের প্রথম জয়ের অপেক্ষা বাড়ল। ১২০/৩ থেকে যেভাবে ধসে গেল কেকেআর ইনিংস, তাতে রীতিমতো আত্মসমীক্ষা প্রয়োজন। নাহলে সমূহ বিপদ।
উল্লেখ্য, প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ‘রণংদেহি’ মেজাজে শুরু করেছিলেন সানরাইজার্স ওপেনার ট্যাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মা। ২১ বলে ৪৬ করেন হেড। ২১ বলে ৪৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন অভিষেক। হাইনরিখ ক্লাসেন ও নীতীশ রেড্ডির জুটিতে ওঠে ৮২ রান। ২৪ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন নীতীশ। ৩৪ বলে হাফসেঞ্চুরি করে হায়দরাবাদকে বড় রানে নিয়ে গেলেন ক্লাসেন। ৮ উইকেটে ২২৬ রানে থামল সানরাইজার্স ইনিংস। জবাবে ১৬১ রানের বেশি এগোয়নি নাইটদের ইনিংস।
