গডস প্ল্যান! রিঙ্কু সিংয়ের হাতে লেখা। কিন্তু ৫ ছক্কার দিন নাকি শেষ! রিঙ্কু আজ আর ম্যাচউইনার নন! অভিযোগের অন্ত নেই। রাজস্থান রয়্যালসকে উড়িয়ে সেগুলোকে ইডেন থেকে সোজা গঙ্গায় পাঠালেন। তারপর নাইট রাইডার্সের 'ফিনিশারে'র মুখে ফের 'ঈশ্বরের' কথা। রিঙ্কুর প্রশংসা করেন অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। কিন্তু তাঁর প্রশংসা করার লোক পাওয়া দুষ্কর। ব্যাটিংয়ে তো বটেই, নেতৃত্বেও 'আজব' সিদ্ধান্তের ছাপ রাখলেন। শূন্য রানে আউট হয়ে লজ্জার নজিরও জুড়ল তাঁর নামের পাশে।
মাত্র ১৫৬ রান। সেটা তুলতেও ধুঁকতে হল নাইট রাইডার্সকে। শেষমেশ রিঙ্কুর হাফসেঞ্চুরিতে এবারের আইপিএলের প্রথম জয় ছিনিয়ে নেয় কেকেআর। জীবনদান পেয়ে ইডেনে ফিরলেন ‘ভিন্টেজ’ রিঙ্কু। প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচকে নিজের প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিলেন। ছক্কা মেরে শুধু হাফসেঞ্চুরি করলেন না, নাইটদের ম্যাচও জেতালেন। রিঙ্কু বলে গেলেন, "রান না এলে চিন্তা হয়ই। মন ঠিক না থাকলে ব্যাট থেকে ভুল শট বেরোয়। এমনিতে আমি শট মারতে ভয় পাই না। আমার লক্ষ্য ছিল ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। ঈশ্বর আমার সঙ্গে ছিল। এই ইনিংসটা আমার ও দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।"
কীভাবে এগোবেন? ওপেনিং জুটিতে উঠল একটা বিরাট শূন্য। টিম সেইফার্টের পর রানের খাতা না খুলে অজিঙ্ক রাহানেও সেই পথ ধরলেন। পরপর দুই ম্যাচে 'ডাক'। এই ইনিংসের পর আইপিএলে ওপেনার হিসেবে সবচেয়ে বেশি শূন্য রানের রেকর্ড এখন রাহানের। সংখ্যাটা হল ১২। সেই সঙ্গে চিন্তা বাড়াবে রাহানের নেতৃত্ব। দলে অনুকূল রয়ের মতো স্পিনার আছেন। কিন্তু রাহানে বল তুলে দিলেন মিডিয়াম পেসার রমনদীপ সিংয়ের হাতে। তিনি ২ ওভারে দিলেন ২৬ রান। যেখানে নাইটদের বাকি দুই স্পিনার সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তী মিলে ৮ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৫ উইকেট তোলেন। এমনকী ইডেনের স্পিনসহায়ক পিচে রাজস্থান তরুণ স্পিনার যশরাজ পুঞ্জাকে দিয়ে ৪ ওভার করিয়ে নিল।
এখানেই শেষ নয়। কেন রাচীন রবীন্দ্রকে বসিয়ে রাখা হবে? টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন দু'জনেই ব্যর্থ। রাচীনকে খেলালে অলরাউন্ডার বাড়বে। নারিনকে ওপেনে আনা যাবে। এছাড়া এই ম্যাচে রভম্যান পাওয়েলকে কেন আগে পাঠিয়ে দেওয়া হল? স্পিনের বিরুদ্ধে একেবারেই তিনি স্বচ্ছন্দ নন। তাঁকে 'ফিনিশারে'র দায়িত্ব দিয়ে অনুকূলকে আগে পাঠানো যেত। 'ভুল'গুলো শুধরে না নিলে ফের বিপাকে পড়বে কেকেআর।
