সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন লখনউ সুপারজায়ান্টসের পেসার আকাশ সিং। এবার ১১ ম্যাচ হয়ে গেলেও সুযোগ মিলছিল না। তবে ঘরের মাঠ একানায় এলএসজি'র প্রথম একাদশে দেখা গেল তাঁকে। আর সুযোগ পেয়েই একেবারে 'রকস্টারে'র ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে রবি শাস্ত্রীকে ভুল প্রমাণ করে দিলেন ভরতপুরের পেসার।
নিজের দ্বিতীয় ওভারেই তিনি সাজঘরের পথ দেখালেন অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে। সেই শুরু। এরপর একে একে আউট করলেন সঞ্জু স্যামসন, উর্বিল প্যাটেলকেও। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে তুলে নিলেন চার-চারটি উইকেট। ইকোনমি রেট ৬.৫। তবে এত সবের পরেও নজর কেড়েছে আকাশের চিরকুট দেখিয়ে সেলিব্রেশন। আইপিএলে এমন সেলিব্রেশন নতুন কিছু নয়। অভিষেক শর্মা, উর্বিল প্যাটেলের মতো ব্যাটাররাও এমন সেলিব্রেশন আগে করেছেন। এবার সেই তালিকায় আকাশের নাম।
সুযোগ পেয়েই নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন আকাশ। নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ৭ রান দেন। এরপর, দ্বিতীয় ওভারে চেন্নাই অধিনায়ককে আউট করে চলতি মরশুমে নিজের প্রথম উইকেটটি নেন। এরপর চিরকুট সেলিব্রেশন করেন। পকেট থেকে একটি কাগজের টুকরো বের করেন, যেখানে লেখা ছিল, 'আক্কি অন ফায়ার। আকাশ নোজ হাও টু টেক উইকেট ইন টি-টোয়েন্টি গেম।' অর্থাৎ, আগুনে ফর্মে থাকলে টি-টোয়েন্টিতে কীভাবে উইকেট নিতে হয়, তা আকাশ জানে। এরপর, তৃতীয় ওভারে তিনি সঞ্জু স্যামসনকে আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেটটি নেন। এই সময়েও তিনি একটি কাগজের টুকরো বের করে সেলিব্রেট করেন।
দুরন্ত বোলিংয়ে রবি শাস্ত্রীর ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ করেন ২৪ বছরের পেসার। ম্যাচের শুরুতে ধারাভাষ্যকার শাস্ত্রী একটি স্লিপে লিখেছিলেন, চেন্নাই সুপার কিংস পাওয়ার প্লে-তে মাত্র একটি উইকেট হারাবে। কিন্তু আকাশ সিং দু'টি উইকেট নিয়ে তাক লাগিয়ে দেন। সেই সময় শাস্ত্রী বলেন, "আকাশ সিং এসে সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে।" উল্লেখ্য, গত মরশুমে ৩০ লক্ষ টাকায় আকাশকে দলে নিয়েছিল এলএসজি। যদিও মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেখানেও তিনি চারটি উইকেট নিয়েছিলেন। এখন এমন একটা সময় সুযোগ পেলেন, যখন লখনউ প্লেঅফের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে। উল্লেখ্য, লখনউয়ের সামনে ১৮৮ রানের লক্ষ্য রেখেছে চেন্নাই সুপার কিংস।
