সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ২১৯/৬ (অভিষেক ৭৪, ক্লাসেন ৩৯, শশাঙ্ক ২০/২)
পাঞ্জাব কিংস: ২২৩/৪ (শ্রেয়স ৬৯, প্রিয়াংশ ৫৭, শিবাঙ্গ কুমার ৩৩/৩)
পাঞ্জাব কিংস ৬ উইকেটে জয়ী
আইপিএলে (IPL 2026) কবে তিনশো উঠবে? উত্তরটা সম্ভবত আজই পাওয়া যেত। অভিষেক শর্মার তাণ্ডবে একটা সময় মনে হচ্ছিল, পাঞ্জাবের (PBKS) মুল্লানপুরে ৩০০ রান করে ফেলতেই পারে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। সেটা হল না নিজেদের জন্যই। অভিষেক শর্মা আউট হওয়ার পর সানরাইজার্স (SRH) সেই যে খেই হারাল, তার জেরে রান থামল ২১৯ রানে। যা কার্যত হেসেখেলে তুলে ফেলল পাঞ্জাব কিংস। দুই ওপেনার হাফসেঞ্চুরি করলেন। আর শেষবেলায় অধিনায়কসুলভ ইনিংসে পাঞ্জাবের জয় নিশ্চিত করলেন। ৬ উইকেটে জিতে প্রীতি জিন্টার দল আপাতত দ্বিতীয় স্থানে। ৪ ম্যাচে পয়েন্ট ৭। লিগে এখনও অপরাজিত তারা।
বিশ্বকাপে অভিষেক শর্মার ইনিংস নিয়ে বহু চর্চা হয়েছে। ফাইনালে ভালো খেলেন। কিন্তু আইপিএলে ফর্মের উত্থানপতন লেগে ছিল। এদিন পাঞ্জাব দেখল তার 'উত্থান'। পাওয়ারপ্লেতে দলের রান ১০৫। যা এবারের আইপিএলে পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ রান। ফের একগুচ্ছ ওয়াইড বল করলেন অর্শদীপ সিং। আর বল নাগালের মধ্যে এলে তা মাঠের বাইরে ফেলছিলেন অভিষেক। বিজয় কুমার বৈশকের এক ওভারে নিলেন ২৪ রান। পরের ওভারে জাভিয়ের বার্টলেটকে পিটিয়ে অভিষেক ও ট্র্যাভিস হেড তুললেন ২১ রান। ৮ ওভারে রান সংখ্যা ১২০। অর্থাৎ ওভার পিছু ১৫ রান। ৩০০ না উঠুক, অন্তত ২৫০-র বেশি ওঠা উচিত ছিল। কিন্তু শশাঙ্ক সিংকে হঠাৎ বোলিংয়ে এনে চমক দিলেন শ্রেয়স। তার ফলও পেলেন। এক ওভারে হেড ও অভিষেককে হারিয়ে যে ধাক্কা দিলেন, সেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারেনি সানরাইজার্স। অভিষেক ২৮ বলে ৭৪ রান করেন। ৫টি চার ও ৮টি ছক্কা ছিল তাঁর ইনিংসে। পরের ১২ ওভারে উঠল মাত্র ৯৯ রান। অনিকেত বর্মা (১৮) ঝোড়ো শুরু করেছিলেন, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হলেন। ঈশান কিষানের (২৭) ক্যাচ বাউন্ডারিতে এক হাতে পাকড়াও করলেন মার্কো জানসেন। হেনরিখ ক্লাসেন ৩৯ করলেন ঠিকই, কিন্তু নিলেন ৩৩টি বল। এই পরিস্থিতিতে যা হওয়ার, তাই হল। মাত্র ২১৯ রানে আটকে গেল সানরাইজার্সের ইনিংস।
এই রানটা আজকের দিনে কোনও ব্যাপারই না। মুল্লানপুর এমনিতেও রানের স্বর্গ। সবচেয়ে বড় কথা, সানরাইজার্সের বোলিং বিভাগের দুর্বলতা সব দলই খুব ভালো মতো জানে। নাইট রাইডার্স কাজে লাগাতে পারে না। পাঞ্জাব পারে। দলে প্রিয়াংশ আর্য ও প্রভসিমরন সিংয়ের মতো দু'জন ওপেনার থাকলে অনেক কাজই সহজ হয়ে যায়। পাওয়ারপ্লেতে দু'জনেই সমানে লড়ে যান। কেউ তাড়াহুড়ো করেননি। আবার সময়মতো বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠিয়েছেন। দু'জনেই হাফসেঞ্চুরি করলেন। প্রিয়াংশ-প্রভসিমরন জুটি নিয়ে খুব বেশি কথা হয় না। তবে মাথা ঠান্ডা দু'জনেই নিজেদের কাজটা করে যান। মাথা ঠান্ডা রাখার সম্ভবত আরেকটা কারণ, পিছনে শ্রেয়স আইয়ার বলে একজন আছেন। যিনি দায়িত্ব নিতে জানেন। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে রানের গতি বাড়ান। বোলার বুঝে আক্রমণ করেন। সবচেয়ে বড় কথা ম্যাচ ফিনিশ করে আসতে জানেন। এদিন যেমন করলেন।
কুপার কনোলি রান পাননি। শ্রেয়স যখন নামলেন ৬৬ বলে ১০২ রান বাকি। শ্রেয়স কিন্তু সেটা বুঝতে দেননি। থিতু হতে একটু সময় নিলেন। তারপর আর ধরাছোঁয়া যায়নি। ৩৩ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। তার ব্যাট থেকে আসে ৫টা চার, ৫টা ছয়। ৭ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে জয়ের হ্যাটট্রিক করেও পাঞ্জাব লিগ শীর্ষে উঠতে পারল না। নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচটি বৃষ্টির জন্য পরিত্যক্ত হয়। আর শ্রেয়সের এরকম ইনিংস দেখে নাইট-ভক্তরা যে আফসোস করবেন, সে কথা বলাই বাহুল্য।
