পরপর হারলে এমনিতেই যে কোনও টিমের আত্মবিশ্বাস মাইনাসে চলে যায়। তার উপর বৃহস্পতিবার ইডেনে কেকেআর যেভাবে হারল, তার হ্যাংওভার কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েকটা ম্যাচ না লেগে যায়! একটা সময় মনে হচ্ছিল অনায়াসে জিতবে কেকেআর। কিন্তু সেখান থেকে মুকুল চৌধুরি একা হারিয়ে দিয়ে গেলেন নাইটদের।
ম্যাচের পর আন্দ্রে রাসেল, অজিঙ্ক রাহানেদের দেখেই বোঝা যাচ্ছিল এই হার টিমকে কতটা বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। আসলে এবার শুরু থেকেই নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে টিমকে। চোট-আঘাত সমস্যার ফলে প্রায় দ্বিতীয় সারির পেস অ্যাটাক নিয়ে নামতে হচ্ছে। তার মধ্যে ২৫.৬০ কোটি দিয়ে কেনা ক্যামেরন গ্রিন এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত ব্যর্থ। প্রথম তিনটে ম্যাচে বোলিং করেননি। ব্যাটিংয়ে রান নেই। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে বোলিং করলেন ঠিকই। কিন্তু দু'ওভারে ২৬ রান দিলেন। চারটে ম্যাচ হয়ে গেলেও কম্বিনেশন নিয়ে একইরকম ধাঁধায় রয়ে গিয়েছে কেকেআর।
তার মধ্যে আবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে অধিনায়ক রাহানেকে নিয়ে। তাঁর বেশ কয়েকটা সিদ্ধান্ত বেশ অদ্ভুতুড়ে লেগেছে। যেমন পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকার পরও টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া। লখনউয়ের বিরুদ্ধে ডেথ ওভারের অনেক আগেই সুনীল নারিনের ওভার শেষ করে দেওয়া। গ্রিনকে দিয়ে এক ওভার করানোর পর আর বল করতে না দেওয়া। এরকম হাজারো একটা প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে রাহানে। তিনি বলেও দিয়েছেন, এরকম হার মেনে নেওয়া খুব কঠিন।
কেকেআরের পরের ম্যাচ চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে। যাদের অবস্থা এই মুহূর্তে একইরকম। টানা হারছেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়রা। চিপকে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন রাহানেরা। এদিন বিকেল চাটার্ড ফ্লাইটে কলকাতা ছাড়ল টিম। সন্ধেয় চেন্নাই পৌঁছে গিয়েছেন রাহানেরা। শোনা যাচ্ছিল, মাথিশা পাথিরানা চেন্নাইয়ে হয়তো টিমের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু এখনও সেই ব্যাপারে কোনও নিশ্চয়তা নেই। কেকেআর শিবির থেকে বলা হল, পাথিরানা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও আপডেট আসেনি। ফলে ধরেই নেওয়া হচ্ছে, চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার পেসারকে পাচ্ছে না কেকেআর। আসলে প্রথম চারটে ম্যাচে বোলারদের যা পারফরম্যান্স, সেটা আরও বেশি চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে কেকেআর সমর্থকদের।
