গত বছর, অর্থাৎ আরসিববির প্রথম আইপিএল জয়ের বিজয়োৎসবে যোগ দিতে গিয়ে, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে পদপিষ্ট হয়ে প্রয়াত হয়েছিলেন এগারো জন সমর্থক। যে ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটের এক মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। যা দেশ ভোলেনি। দেশের ক্রিকেট সমর্থকরা ভোলেননি। আরসিবিও ভোলেনি। উপূর্যপরি দ্বিতীয় বার আইপিএল জিতে আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার তো সরাসরি ট্রফি জয় উৎসর্গ করে গেলেন প্রয়াত সমর্থকদের। রবিবার গভীর রাতে। ট্রফি জয়ের সাংবাদিক সম্মেলনে।
"ভাবলে আজও খুব খারাপ লাগে। সমর্থকরা আমাদের কাছে নিছক সমর্থক নন। ওঁরা আমাদের পরিবার। আমি তাই গত বছর আমাদের বিজয়োৎসবে যোগ দিতে এসে প্রয়াত সমর্থকদের এই ট্রফি উৎসর্গ করতে চাই। আমার আর কিছু বলার ভাষা নেই," রবিবার রাতে আবেগঘন ভাবে বলতে থাকেন আরসিবি অধিনায়ক পাতিদার।
আর প্রথম আইপিএল ট্রফি জয়ের বিজয়োৎসব-বিপর্যয়কে স্মরণে রেখে এবার কিছুই করা হচ্ছে না আলাদা করে। ঠিক হয়েছে, বিরাট কোহলিদের দ্বিতীয় আইপিএল ট্রফি জয়কে ঘিরে কোনও রকম বিজয় মিছিল হবে না। বাতিল ভিক্টট্রি প্যারেড। যাতে সমর্থক জমায়েতের কোনও রকম সম্ভাবনা না থাকে। আরসিবি-র কোনও কোনও কর্তা মোটামুটি জানিয়েই দিয়েছেন যে, এবার কিছু করা হবে না আলাদা করে। কর্নাটক পুলিশ থেকেও সেই নির্দেশিকা দেওয়া হয়। এমনকী সমর্থকদের রাস্তাঘাটে বাজি পোড়ানো থেকে শুরু করে উৎসব পালন করতে নিষেধ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার আইপিএল ট্রফি জেতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।এর পরদিনই বেঙ্গালুরু ফেরে কোহলি অ্যান্ড কোং। পুলিশের অনুমতি না মেলায় সেদিন হুড খোলা বাসে সেলিব্রেশনের আয়োজন বাতিল হলেও সেদিনই চিন্নাস্বামীতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্টেডিয়ামে শুরু হয় বিজয়োৎসব। তাতেই ১১ জন প্রাণ হারান। আহত হন ৬৭-রও বেশি। প্রায় পাঁচ হাজার নিরাপত্তারক্ষীর উপস্থিত থাকলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি।
