আইপিএল ফাইনাল কি একতরফা হতে চলেছে? আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে আরসিবি'র সামনে অল্প রানেই থেমে গেল গুজরাট টাইটান্সের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫৫ রানে থেমে যায় ২০২২-র আইপিএল জয়ীরা। বিরাট কোহলিদের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জন্য রানটা একেবারেই কঠিন নয়। কিন্তু গুজরাটের হঠাৎ এই অবস্থা কেন? কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকরের যুক্তিতে বিশ্বাস করছেন অনেকেই।
আহমেদাবাদে টসে জিতে প্রথম বল করার সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার। বেঙ্গালুরুর পেস বোলিংয়ে ভুবনেশ্বর কুমার, জস হ্যাজেলউডরা আছেন। অন্যদিকে টপঅর্ডারে শুভমান গিল ও সাই সুদর্শনের উপরই বেশি নির্ভরশীল গুজরাট। দু'জন ব্যর্থ হতেই গুজরাটের রানের গতি থেমে যায়। প্রায়ই একই রকম ভাবে আউট হলেন দু'জন। সুদর্শনকে (১২) ফেরালেন ভুবি। আর গিল (১০) আউট হলেন হ্যাজেলউডের বলে। সেই যে রানের গতি পড়ল, আর ওঠেনি। একটা সময় টানা ৪০ বলে কোনও বাউন্ডারি আসেনি। অনভিজ্ঞ নিশান্ত সাঁধু (২০) বড় রান পাননি। অভিজ্ঞ জস বাটলার (১৯) ভালো সময় অনেকদিন আগেই পেরিয়ে এসেছেন। ক্রুণাল পাণ্ডিয়া যেভাবে তাঁকে স্টাম্পের বাইরে নিয়ে এসে আউট করলেন, সেটারও প্রশংসা করতে হয়। একমাত্র লড়াই করেন ওয়াশিংটন সুন্দর (৫০)। দু'টি করে উইকেট হ্যাজেলউড ও ভুবির। পার্পল ক্যাপের দৌড়ে শীর্ষে ভুবনেশ্বর। ৩টি উইকেট রশিখ সালামের। গতির হেরফের করে দারুণ সাফল্য পান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে গুজরাট তোলে ১৫৫ রান।
প্রশ্ন উঠতে পারে গুজরাট কোচ আশিস নেহরার রক্ষণাত্মক নীতি নিয়ে। তবে ম্যাচের আগেই সুনীল গাভাসকর আরেকটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সেটা হল ক্লান্তি। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে গুজরাট টাইটান্স। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকার কারণে দলের যাত্রা ব্যাহত হয়। শেষ পর্যন্ত শনিবার রাত ১০.৩০ মিনিট নাগাদ শুভমান গিলরা আহমেদাবাদে পৌঁছন। সেখান থেকে আবার প্রায় আধঘণ্টার সড়কপথ অতিক্রম করে তাঁরা যান গান্ধীনগরের এক হোটেলে। সেটাকে মাথায় রেখেই গাভাসকর পরামর্শ দেন, ম্যাচ একদিন পিছিয়ে দেওয়া উচিত। কারণ প্লেয়াররা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। গুজরাটের ব্যাটিংয়ের এই অবস্থার নেপথ্যে কি সেটাই কারণ?
