গত কয়েক বছরে যে ভারতীয় ক্রিকেটারের আমূল পরিবর্তন হয়েছে, প্রশ্নাতীতভাবে তাঁর নাম অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। বরাবরই ভালো ক্রিকেটার ছিলেন পাঞ্জাবপুত্তর। যথেষ্ট সম্ভাবনার বিচ্ছুরণের প্রকাশও ঘটত। কিন্তু সে তো কত প্লেয়ারের ক্ষেত্রেই হয়। সবার পক্ষে তো আর সম্ভাবনার বীজকে প্রতিষ্ঠার বটবৃক্ষে রূপান্তর করা সম্ভব হয় না।
অভিষেকের মনে হয়, তাঁর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরাট বড় অবদান রয়েছে। এ মুহূর্তে বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার অভিষেক। কেন তিনি সবার উপরে, তার প্রমাণও দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। মাঝে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা সেভাবে ভালো যায়নি। একমাত্র ফাইনালে তাঁর পরিচিত রুদ্রমূর্তি চাক্ষুষ করেছিল ক্রিকেটবিশ্ব। আইপিএল উনিশে যদিও তাঁকে স্বমহিমাতেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। যার সর্বশেষ উদাহরণ, মঙ্গলবার রাতে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে অভিষেকের ৬৮ বলে অপরাজিত ১৩৫ রান। যার পর চেতেশ্বর পূজারার মতো বিদগ্ধ টেস্ট ক্রিকেটার পর্যন্ত বলে দিয়েছেন, ‘‘অভিষেককে দেখলে মনে হয়, সেঞ্চুরি করা অত্যন্ত সহজ।’’
খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এসে অভিষেক বলে যান, ‘‘আসলে আমাদের টিমের কোচ ড্যানিয়েল ভেত্তোরি আর অধিনায়ক প্যাট কামিন্স মিলে এমন একটা ড্রেসিংরুম পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে যে, খোলা মনে আমরা ক্রিকেটটা খেলতে পারি। একজন ক্রিকেটার তার প্রতিভা সব সময় দেখাতে চায়। কিন্তু তাকে সেটা দেখাতে হলে, প্রকাশ্য করতে হলে, দলের অধিনায়কের সাহায্যও দরকার। সমর্থন দরকার। আমি তো বলব, ২০২৪ সালটা আমার জন্য গেমচেঞ্জার হয়ে গিয়েছিল। কারণ, সানরাইজার্স ম্যানেজমেন্ট চাইছিল, টিমের তরুণ প্লেয়াররা নিজেদের মেলে ধরুক। খোলা মনে নিজেদের খেলাটা খেলুক। পাঞ্জাবি ক্রিকেটারদের স্বাধীনতা অত্যন্ত পছন্দের। আর সেটা আমাকে হায়দরাবাদ দিয়েছে।’’
মঙ্গলবার রাতে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে অভিষেকের ৬৮ বলে অপরাজিত ১৩৫ রান। যার পর চেতেশ্বর পূজারার মতো বিদগ্ধ টেস্ট ক্রিকেটার পর্যন্ত বলে দিয়েছেন, ‘‘অভিষেককে দেখলে মনে হয়, সেঞ্চুরি করা অত্যন্ত সহজ।’’
দিল্লির বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করার পর ‘অরেঞ্জ আর্মি’-কে আলাদা করে সাধুবাদ জানান অভিষেক। পিতা রাজকুমার শর্মাকেও ধন্যবাদ জানান মাঠে উপস্থিত থাকার জন্য। বলছিলেন, ‘‘আমি তো বলব, ক্যামেরার উচিত আমার বাবার মুখে ক্যামেরা প্যান করা। সব সময় উনি সাইটস্ক্রিনের কাছাকাছি বসার চেষ্টা করেন। আর আমি তাকালেই, কোনও না কোনও পরামর্শ দেওয়ার জন্য উনি তৈরি থাকেন।’’ সানরাইজার্স ওপেনার জানিয়ে দিয়েছেন, যে হায়দরাবাদ পিচে দিল্লির বিরুদ্ধে খেলা হয়েছে, তা মোটেও ব্যাটিং-ভূস্বর্গ ছিল না। ‘‘আমরা ঠিক করেছিলাম, পাওয়ার প্লে-কে ব্যবহার করব যতটা সম্ভব। কিন্তু দেখলাম, পিচ বেশ মন্থর। তাই আমাদের নতুন করে প্ল্যান করতে হল। হায়দরাবাদের মাঠ আমার কাছে বরাবরই স্পেশাল। সেখানে রান করতে পেরে, দারুণ লাগছে।’’
পূজারার সার্টিফিকেট একই রকম ভাবে অভিষেককে তৃপ্তি দেবে নিশ্চিত। দেশের টেস্ট ক্রিকেটের অবিস্মরণীয় যোদ্ধা সম্প্রচারকারী সংস্থায় বলে দিয়েছেন, ‘‘ব্রিলিয়ান্ট খেলেছে অভিষেক। ওর খেলা দেখলে মনে হয়, সেঞ্চুরি করা কী সহজ। অভিষেকের রান করা সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অনেক সময়ই তা সানরাইজার্সকে জিতিয়ে দেয়। প্রতিভা হিসেবে সব সময়ই স্পেশাল অভিষেক। নিজের খেলাটা খেললে, ওর ক্লাসটা বোঝা যায়। আমি তো বলব, খুব কম ব্যাটারের অভিষেক শর্মার মতো প্রতিভা আর জাত রয়েছে।’’
অভিষেকের মতো ব্যাটার সংহারমূর্তি ধারণ করলে বোলারদের কী করা উচিত? ভারতের প্রাক্তন স্পিনার হরভজন সিংয়ের মতে, একমাত্র উপায় লাইন-লেংথকে আঁটোসাঁটো করা।
কিন্তু অভিষেকের মতো ব্যাটার সংহারমূর্তি ধারণ করলে বোলারদের কী করা উচিত? ভারতের প্রাক্তন স্পিনার হরভজন সিংয়ের মতে, একমাত্র উপায় লাইন-লেংথকে আঁটোসাঁটো করা। তিনি বলেছেন, ‘‘ভারতীয় বোলারদের নিজেদের উন্নত করা ছাড়া কোনও রাস্তা নেই। নিজেদের মান যদি না ওরা বাড়ায়, শাস্তি পেতেই হবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট কাউকে ছাড়ে না। ব্যাটাররা সব সময় নতুন নতুন শট অস্ত্রাগারে তুলে রাখার চেষ্টা করে। বোলারদেরও তাই নতুন কিছু ভাবতে হবে। নতুন কিছু করতে হবে।’’
