সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ১৯৪/৯ (অভিষেক ৫৯, অংশুল ২২/৩)
চেন্নাই সুপার কিংস: ১৮৪/৮ (শর্ট ৩৪, মালিঙ্গা ২৯/৩)
১০ রানে জয়ী সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
টানা দুই জয়ে আশা জেগেছিল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে হেরে তা ফের নিভে গেল চেন্নাই সুপার কিংসের। বরং ঘরের মাঠে জিতে প্লেঅফের দৌড়ে বেশ ভালোমতোই ঢুকে পড়লেন ঈশান কিষানরা। অভিষেক শর্মা-হেনরিক ক্লাসেনরা ঝড়ের পর চাপের মুখে ভালো বল করলেন প্রফুল্ল হিঙ্গে, সাকিব হুসেনরা। শেষমেশ হায়দরাবাদের ১৯৫ রানের জবাবে ১৮৪ রানেই আটকে গেল চেন্নাই। ১০ রানে জিতে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এল সানরাইজার্স।
হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে সানরাইজার্সকে ব্যাট করতে পাঠান চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়ার। বহু প্রতীক্ষা সত্ত্বেও এই ম্যাচে মহেন্দ্র সিং ধোনির কামব্যাক হল না। তবে নিয়মমত অভিষেক শর্মার তাণ্ডব দর্শন থেকে কেউ বঞ্চিত হলেন না। বিশ্বকাপের অফ ফর্ম ঝেড়ে আইপিএলে রানের মধ্যেই আছেন শর্মাজি। এদিন ফের নজির গড়লেন। ১৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করে নিজেরই কৃতিত্ব স্পর্শ করলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬টি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে করেন ৫৯ রান। একবার জীবনদান পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। জেমি ওভারটনের শরীর ঘেঁসে আসা বলটিতে সঞ্জুর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ট্র্যাভিস হেড (২৩) শুরুটা ভালো করেও বড় রান পেলেন না। খলিল আহমেদের বদলে সুযোগ পাওয়া মুকেশ চৌধুরী হেডের পর ঈশান কিষানকেও আউট করেন। যদিও হ্যাটট্রিক করা হল না।
সানরাইজার্সের ইনিংস এরপর এগিয়ে নিয়ে গেলেন হেনরিক ক্লাসেন। ধারবাহিকভাবে রান করে যাচ্ছেন প্রোটিয়া তারকা। এদিনও ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন। মারেন ৬টা চার, দুটো ছক্কা। তাঁর মাথায় কমলা টুপি উঠলেও কিছুটা ধীরগতির ছিল ইনিংস। কারণ, বিপরীতে সেভাবে কারও সঙ্গ পেলেন না। অনিকেত বর্মা (২), নীতীশ কুমার রেড্ডি (১২), সলিল অরোরা (১৩) বা লিয়াম লিভিংস্টোন (১) কেউ রান পাননি। যেখানে ১৪ ওভারে প্রায় ১৫০ উঠে গিয়েছিল, সেখানে সানরাইজার্সের ইনিংস থামল ১৯৪ রানে। মুকেশের জোড়া উইকেট ছাড়াও অংশুল কাম্বোজ ও জেমি ওভারটন ৩টি করে উইকেট পান।
শেষের দিকে সানরাইজার্স যে সমস্যায় ভুগেছে, সেই ফিনিশিংয়ের অভাবে ভুগল চেন্নাই সুপার কিংসও। শুরুটা ভালো হয়নি, শেষটাও নয়। সঞ্জু স্যামসন (৭) এদিন রান পাননি। রুতুরাজ গায়কোয়ারও (১৯) পথ দেখাতে পারলেন না। অধিনায়কের অফ অর্ম অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে সেই একজনই ভরসা- আয়ুষ মাত্রে। ভঙ্গুর চেন্নাই ব্যাটিংয়ের একমাত্র আশা। এদিন যতক্ষণ ব্যাট করেছেন, ততক্ষণ প্রয়োজনীয় রান রেট নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল। ১৩ বলে ৩০ রান করে যান অনূর্ধ্ব-১৯ দলে বৈভব সূর্যবংশীর অধিনায়ক। চোটে কাবু হয়েছিলেন। তারপর দুরন্ত ক্যাচে তাঁকে ফেরান হেনরিক ক্লাসেন। কিন্তু একজন ১৯ বছর বয়সির উপর ভরসা করে নিশ্চয়ই সব ম্যাচ জেতা যায় না। বাকিদের পারফরম্যান্স ফের প্রশ্নের মুখে। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস রান পেলেন না। সরফরাজ খান (২৫) এদিনও ঝড় তুললেন। কিন্তু ফের বড় রান করতে ব্যর্থ। ম্যাট শর্ট ৩৪ রান করলেন ঠিকই, নিলেন ৩০ বল। ফলে রানের পাহাড় ঘাড়ে চেপে বসল। শিবম দুবের (২১) উইকেট একেবারে ছিটকে দিলেন সাকিব হুসেন। এবারের আইপিএলের অন্যতম আবিষ্কার একটাই সাফল্য পেলেন। সেখানে প্রফুল্ল হিঙ্গে দেদার রান বিলোলেন। কিন্তু শেষ ওভারে মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। মাঝের ওভারে এশান মালিঙ্গা, নীতীশ কুমার রেড্ডিরা যেভাবে ফাঁস আটকালেন, তার থেকে আর মুক্তি পায়নি চেন্নাই। ১০ রানে হারের ম্যাচে মহেন্দ্র সিং ধোনি নামের ৪৪ বছর বয়সি ফিনিশারকে কি মিস করছে সিএসকে? প্রশ্নটা থেকেই গেল।
