প্লে অফের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কিন্তু বৃহস্পতিবার পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে জিতেছেন জশপ্রীত বুমরাহরা। সেই জয়ের মূল কারিগর তিলক বর্মা। তাঁর ৭৫ নট আউটের ইনিংসেই জয় নিশ্চিত করে মুম্বই। কিন্তু ম্যাচের পর তরুণ তুর্কির এক মন্তব্য ঘিরে চলছে তুমুল জল্পনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মুম্বই শিবিরের ভাঙন কি এবার প্রকাশ্যে চলে গেল? দলে অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা কি ফাঁস করে দিলেন তিলক?
২০২৪ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসাবে ‘ঘরে ফেরেন’ হার্দিক পাণ্ডিয়া। তারপর থেকেই গুঞ্জন ছড়ায়, মুম্বই শিবির কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। মূলত ভারতীয় ক্রিকেটাররা চলে গিয়েছেন রোহিত শর্মা শিবিরে। অনেকে এমনটাও দাবি করেন, হার্দিকের নেতৃত্বে মুম্বইয়ের ক্রিকেটাররা অখুশি। দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়েছে দলের মধ্যে। হার্দিককে ছাড়া খেলতে নেমে মুম্বই অনেক খোলামেলাভাবে পারফর্ম করছে, দাবি করেছেন কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। বৃহস্পতিবার ম্যাচের পর তিলক যে মন্তব্য করেছেন, তাতে এই ধারণাগুলিতে সিলমোহর পড়ল বলেই মনে করছে ক্রিকেটমহল।
বৃহস্পতিবার উইনিং শট মারার পর দেখা যায়, নিজের হাতে ৪৫ নম্বর দেখাচ্ছেন তিলক। ৪৫ নম্বর জার্সিটা প্রাক্তন মুম্বই অধিনায়ক রোহিতের। ম্যাচের পর একটি সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, রোহিতের সঙ্গে কথা বলছেন তিলক। সেখানে হিটম্যানের প্রতি ভালোবাসার চিহ্ন দেখান ম্যাচ জেতানো নায়ক। তারপর বলেন, "আমার সবসময়ের প্রিয় রোহিত শর্মা। আমি শুধু ওঁর কথাই শুনি।" তারপর থেকেই নেটদুনিয়ায় জল্পনা, তাহলে কি মুম্বই শিবিরে ভাঙনের জল্পনাই সত্যি? হার্দিকের পরিবর্তে রোহিতের কথা শোনেন ক্রিকেটাররা?
উল্লেখ্য, প্রাক্তন ভারতীয় তারকা বীরেন্দ্র শেহওয়াগ মনে করছেন, হার্দিককে ছেড়ে দেওয়া উচিত মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। তাঁর মতে, “হার্দিককে নিয়ে যেসব গুঞ্জন শুনছি, আশা করি সেসব সত্যি নয়। কিন্তু যদি সেগুলো সত্যি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই মুম্বইয়ের উচিত হার্দিককে ছেড়ে দেওয়া।” তিলকের মন্তব্যের পরে প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি মুম্বই শিবিরে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন হার্দিক? নেতা হলেও আসলে তিনি অসহায়?
